‘ট্রাম্পকে হারাতে পারতাম আমি’: বিদায়ী ভাষণে আক্ষেপ জো বাইডেনের

ট্রাম্পকে হারাতে পারতাম আমি ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার জন্য নিজের দলের ভেতর থেকে সমালোচনার শিকার হতে হয়েছিল জো বাইডেনকে। গত বছরের অগস্টে শিকাগোয় ডেমোক্র্যাটদের জাতীয় কনভেনশনে…

January 11, 2025
1 min read

ট্রাম্পকে হারাতে পারতাম আমি

২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার জন্য নিজের দলের ভেতর থেকে সমালোচনার শিকার হতে হয়েছিল জো বাইডেনকে। গত বছরের অগস্টে শিকাগোয় ডেমোক্র্যাটদের জাতীয় কনভেনশনে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি নিজেই প্রার্থী হিসাবে কমলা হ্যারিসের নাম সুপারিশ করেছিলেন। এবার বিদায়ী ভাষণে নিজের সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করলেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট।

৮২ বছর বয়সী বাইডেন স্পষ্ট করেই বলেন, তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হারাতে পারতেন। তবে একই সঙ্গে তিনি এও জানান, কমলা হ্যারিসও সেই যোগ্যতা রাখতেন। বাইডেন বলেন, “আমি মনে করি, ট্রাম্পকে আমি হারাতে পারতাম। আর আমি এটা বিশ্বাস করি যে কমলাও ট্রাম্পকে হারানোর ক্ষমতা রাখেন।”

কমলার প্রার্থিতা এবং বাইডেনের সরে দাঁড়ানোর কারণ

ডেমোক্র্যাটদের ২০২৪ সালের জাতীয় কনভেনশনে বাইডেন স্পষ্টভাবেই জানিয়েছিলেন, তার বয়স এবং দলীয় ঐক্য বজায় রাখার স্বার্থে তিনি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। তিনি বলেন, “আমি এমন একজন হতে চাইনি যে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে ব্যর্থ হয়। দলের মধ্যে বিভাজন এড়াতে এবং শক্তিশালী নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।”

তবে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরে দাঁড়ানো যে তার জন্য সহজ ছিল না, তা তার ভাষণে স্পষ্ট। বাইডেন বলেন, “২০২০ সালে ট্রাম্পকে হারিয়ে প্রেসিডেন্ট হওয়া আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান। কিন্তু ২০২৪-এ দলকে আরও শক্তিশালী করার জন্য এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে জায়গা দেওয়ার জন্য আমি সরে দাঁড়িয়েছিলাম।”

নির্বাচন এবং ফলাফল

যদিও ২০২৪ সালের নির্বাচনের ফল কমলার পক্ষে যায়নি। ভারতীয় বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট নেত্রী কমলা হ্যারিস ইলেক্টোরাল কলেজে বিশাল ব্যবধানে (৩১২-২২৬) হেরে যান ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে। এটি রিপাবলিকান শিবিরে উচ্ছ্বাস এবং ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে হতাশার জন্ম দেয়।

বাইডেন যদিও এই হারকে তার সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের ভুল হিসেবে দেখেন না। তিনি বলেন, “কমলা একজন দক্ষ এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নেতা। তার হার দলের ঐক্য বা নেতৃত্বের অভাবের কারণে হয়নি। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জনগণের মনের পরিবর্তন এই ফলাফলে ভূমিকা রেখেছে।”

বিদায়ী প্রেসিডেন্টের আক্ষেপ

বাইডেনের কণ্ঠে আক্ষেপ এবং আত্মবিশ্বাসের মিশ্রণ ছিল স্পষ্ট। তিনি মনে করেন, নিজের অভিজ্ঞতা এবং ২০২০ সালের সাফল্য নিয়ে ২০২৪ সালের নির্বাচনে লড়াই করলে ট্রাম্পকে পরাস্ত করা সম্ভব হতো। তবে দলের ঐক্যকে গুরুত্ব দিয়ে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তকেও সঠিক বলে মনে করেন তিনি।

বাইডেন বলেন, “আমার লক্ষ্য ছিল দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি না করে সবাইকে এক ছাতার তলায় আনা। আমি চাইনি আমার ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার জন্য দল কোনও সমস্যায় পড়ুক। তাই কমলার মতো একজন প্রগতিশীল নেতাকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম। আমি নিশ্চিত, সময়ের সঙ্গে তার নেতৃত্ব আরও পরিণত হবে।”

ভবিষ্যতের ইঙ্গিত

বিদায়ী ভাষণে বাইডেন ডেমোক্র্যাটিক দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, “ডেমোক্র্যাটিক দল সব সময় মানুষের অধিকার, স্বাধীনতা এবং প্রগতির পথে কাজ করে যাবে। এই দলই আমেরিকাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।”

বাইডেনের এই ভাষণ তার দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়। যদিও তার সরে দাঁড়ানো নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, তবু দলের প্রতি তার ভালোবাসা এবং দায়িত্ববোধ বিদায়ী ভাষণের প্রতিটি শব্দে ধ্বনিত হয়েছে। তার নেতৃত্বের শূন্যস্থান পূরণ করা ডেমোক্র্যাটিক দলের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তবে কমলা হ্যারিস ও অন্য নেতারা মিলে সেই দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবেন বলে বাইডেন আশাবাদী।

২০২৪ সালের নির্বাচন হারলেও ডেমোক্র্যাটিক দল বাইডেনের ভাবনার পথ ধরে এগিয়ে যাবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।

বাড়ির লাগোয়া জমিতে সবজি বাগান করতে চান? বীজ পোঁতার আগে মনে রাখুন এই ৫টি বিষয়

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *