ট্রফি বিতর্কে নকভির চ্যালেঞ্জ!
\
এশিয়া কাপের ফাইনাল শেষ হয়ে গিয়েছে তিন দিন আগে, কিন্তু মাঠের লড়াইয়ের থেকেও বেশি উত্তাপ ছড়াচ্ছে ট্রফি বিতর্ক। ভারত ও পাকিস্তানের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ চলছে। এবার মুখ খুললেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভারতকে ট্রফি নিতে হলে দুবাইয়ে এশীয় ক্রিকেট কাউন্সিলের দফতরে এসে তাঁর হাত থেকেই নিতে হবে। ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
ফাইনালের পর থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত। ভারতের অভিযোগ, কাপ জেতার পর তাঁদের খেলোয়াড়রা নকভির হাত থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকার করায়, নকভি ট্রফি ও খেলোয়াড়দের মেডেল নিজের হোটেলে নিয়ে চলে যান। এরপর থেকেই ভারতীয় বোর্ড দাবি করে আসছে, নকভি যেন ট্রফি ভারতে পাঠিয়ে দেন বা কাউন্সিলের অফিসে রেখে দেন। কিন্তু নকভি নিজের অবস্থানে অনড়।
সম্প্রতি ভারতের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে, এশীয় ক্রিকেট কাউন্সিলের বৈঠকে নকভি নাকি ভারতীয় বোর্ডের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন, যদিও ট্রফি ফেরাননি। এই দাবি পুরোপুরি নস্যাৎ করেছেন নকভি। ফেসবুক ও এক্স-এ তিনি লেখেন, “ভারতীয় সংবাদমাধ্যম মিথ্যা কথা ছড়াচ্ছে। আমি কখনও কোনও ভুল করিনি, তাই ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। ভবিষ্যতেও আমি ক্ষমা চাইব না।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইচ্ছাকৃতভাবে জনগণকে ভুল বোঝাচ্ছে এবং ক্রিকেটে রাজনীতি ঢোকাচ্ছে। তাঁর কথায়, “এই সব বানানো গল্প আসলে অপপ্রচার ছাড়া কিছু নয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভারত বার বার ক্রিকেটকে রাজনৈতিক চেহারা দিচ্ছে, এতে খেলাটার সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে।”
নকভি দাবি করেছেন, তিনি সব সময়ই ট্রফি দিতে প্রস্তুত ছিলেন এবং এখনও আছেন। তাঁর বক্তব্য, “এশীয় ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রধান হিসাবে আমি সেদিনও ট্রফি তুলে দিতে চেয়েছিলাম, আজও চাই। কিন্তু যদি ভারত সত্যিই কাপ নিতে চায়, তবে ওদের দুবাইয়ে এসে আমার হাত থেকেই নিতে হবে।”
তবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড জানিয়ে দিয়েছে, তারা নকভির হাত থেকে ট্রফি নেবে না। বিষয়টি এখানেই থেমে নেই। বিসিসিআই এখন নকভির বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ জানাতে প্রস্তুত হচ্ছে। কারণ, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং এশীয় ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রধান হওয়ার পাশাপাশি নকভি পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও। এই রাজনৈতিক পরিচয়কে সামনে এনে ভারত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করতে চলেছে।
ভারতের অভিযোগ, নকভি কাউন্সিলের নিরপেক্ষ প্রধানের মতো নয়, বরং পাকিস্তানের মন্ত্রীর মতো আচরণ করেছেন। যে দল মাঠে পারফর্ম করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, তাদের কাছে ট্রফি পৌঁছে না দেওয়া ক্রিকেট বিশ্বের কাছে লজ্জার। ভারতীয় বোর্ড এখন চাইছে, নকভিকে তাঁর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হোক। এই বিষয়ে আরও কয়েকটি দেশ ভারতের পাশে দাঁড়াতে পারে বলেও জানা গিয়েছে।
সব মিলিয়ে, এশিয়া কাপের মাঠের লড়াই শেষ হলেও ‘ট্রফি যুদ্ধ’-এর সমাপ্তি এখনও অনেক দূরে। নকভির অনমনীয় অবস্থান এবং ভারতের কঠোর প্রতিক্রিয়া মিলিয়ে এশীয় ক্রিকেট রাজনীতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।