ট্যাব কেলেঙ্কারি: টাকা দিয়ে ভাড়া করা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, পুলিশের জালে অভিযুক্ত যুবক

ট্যাব কেলেঙ্কারি নদিয়ার কালীগঞ্জে ট্যাব কেলেঙ্কারির ঘটনায় নতুন মোড়। স্কুল পড়ুয়াদের জন্য বরাদ্দ ট্যাব কেনার টাকা গায়েব হওয়ার ঘটনায় উত্তর দিনাজপুরের এক যুবক পুলিশের জালে ধরা পড়েছে। ধৃতের নাম মোবারক…

December 21, 2024
0 min read

ট্যাব কেলেঙ্কারি

নদিয়ার কালীগঞ্জে ট্যাব কেলেঙ্কারির ঘটনায় নতুন মোড়। স্কুল পড়ুয়াদের জন্য বরাদ্দ ট্যাব কেনার টাকা গায়েব হওয়ার ঘটনায় উত্তর দিনাজপুরের এক যুবক পুলিশের জালে ধরা পড়েছে। ধৃতের নাম মোবারক হোসেন। বাড়ি উত্তর দিনাজপুর জেলার ইসলামপুরে।

ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ভাড়ার চক্র

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মোবারক অল্প টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ভাড়া নিত। এই অ্যাকাউন্টগুলিকে ব্যবহার করেই পড়ুয়াদের ট্যাবের জন্য বরাদ্দ অর্থ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, ট্যাব কেলেঙ্কারির মূল চক্রান্ত উত্তর দিনাজপুর থেকেই করা হয়েছিল।

মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ মোবারককে আগে গ্রেফতার করেছিল। এত দিন তিনি মালদহের জেলে ছিলেন। সম্প্রতি, কালীগঞ্জ থানার পুলিশ তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে এসে জেরা করছে।

ট্যাবের টাকা গায়েব: কীভাবে হল প্রতারণা?

নদিয়ার কালীগঞ্জ ব্লকের হাতগাছা পঞ্চায়েতের বসোরখোলা হাই স্কুলের ২০ জন পড়ুয়া ‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্পের অধীনে ট্যাব কেনার জন্য বরাদ্দ টাকা পাননি। তদন্তে জানা যায়, এই টাকার একটি বড় অংশ অন্য ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়েছে।

স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে কালীগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। এরপর তদন্তে উঠে আসে যে, এই টাকার বেশিরভাগই নদিয়া জেলার বাইরে থাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে গিয়েছে। সেসব অ্যাকাউন্টের মালিকদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর মোবারকের নাম সামনে আসে।

চক্রের পদ্ধতি

পুলিশের মতে, মোবারক খুব কম টাকার বিনিময়ে নিরীহ মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ভাড়া নিত। সেই অ্যাকাউন্টে পড়ুয়াদের ট্যাব কেনার টাকা স্থানান্তরিত করে পরে তা তুলে নেওয়া হত।

মোবারক কীভাবে এবং কার মাধ্যমে এই চক্র পরিচালনা করছিল, তা জানার জন্য পুলিশ এখন জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে। এছাড়া, তিনি মোট কত টাকা লাভ করেছেন এবং এই চক্রে আর কারা যুক্ত, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশের পদক্ষেপ

কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত সুপার উত্তম কুমার ঘোষ জানান, “মালদহ জেলার পুলিশ আগে এই যুবককে গ্রেফতার করেছিল। এখন কালীগঞ্জ থানার পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করছে। ট্যাব কেলেঙ্কারির পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

টাকা উদ্ধার এবং দায়ীদের চিহ্নিতকরণ

এই কেলেঙ্কারির তদন্তে এখন পর্যন্ত চারজন পড়ুয়া তাদের ট্যাবের টাকা ফিরে পেয়েছে। তবে বাকি ১৬ জনের টাকা এখনও উদ্ধার হয়নি। পুলিশ সেই অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের খুঁজে বের করতে তৎপর।

সাইবার অপরাধের বৃদ্ধি

এই ঘটনা নদিয়া এবং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে সাইবার অপরাধের ক্রমবর্ধমান সমস্যার দিকেও ইঙ্গিত দেয়। জেলার সাইবার সেল এই ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। তবে এমন প্রতারণার ঘটনাগুলি সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

শেষ কথা

ট্যাব কেলেঙ্কারির মতো ঘটনা শুধুমাত্র একটি আর্থিক প্রতারণা নয়, বরং এটি মানুষের বিশ্বাস এবং সরকারি প্রকল্পের প্রতি আস্থা ক্ষুণ্ণ করার দৃষ্টান্ত। পুলিশের এই উদ্যোগ এবং তদন্ত ভবিষ্যতে এমন অপরাধ রোধে বড় ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা যায়।

কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, সাধারণ মানুষ কিভাবে প্রতারণার শিকার হচ্ছে? সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক তৎপরতাই হতে পারে এর একমাত্র সমাধান।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *