স্ত্রীর পাশে দাঁড়ালেন রাঘব চড্ঢা!
সম্প্রতি রাজ্যসভায় দলের ডেপুটি নেতার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে রাঘব চড্ঢা-কে। এই সিদ্ধান্তে অনুরাগীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে এই টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি স্পষ্ট করেছেন—স্ত্রী পরিণীতি চোপড়া তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সমর্থন।
রাঘবের জীবন এই মুহূর্তে রাজনীতির চাপে ভর্তি হলেও, তিনি স্ত্রী পরিণীতির নতুন উদ্যোগকে খোলামেলা সমর্থন জানিয়েছেন। গত বছর মা হওয়ার পর পরিণীতি শুরু করেছেন ‘মম টক্স’ নামের একটি অনুষ্ঠান। সেখানে মাতৃত্ব, গর্ভাবস্থা, সন্তানপালন এবং মা হওয়ার সঙ্গে জড়িত সামাজিক ও মানসিক চাপ নিয়ে আলোচনা করা হয়। তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এই অনুষ্ঠানের ঝলক শেয়ার করেছেন, যা বেশ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
রাঘব নিজের ইনস্টাগ্রাম মন্তব্যে লিখেছেন, “খুব গর্বিত! অভিনন্দন। সব সময়ে তোমার পাশে আছি।” এই সমর্থন শুধু সামাজিক মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি বারবার বলেছেন, পরিণীতির নতুন উদ্যোগ এবং মাতৃত্বের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছে।
‘মম টক্স’-এ যোগ দেবেন নেহা ধুপিয়া, বিক্রান্ত ম্যাসে, শীতল ঠাকুর, ইমরান খান, গওহর খান, জ়ায়েদ দরবার, দিশা পরমার-সহ বহু তারকা। তারা মাতৃত্ব ও অভিভাবকত্ব নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করবেন। রাঘব এই প্রচেষ্টাকে প্রশংসা করেছেন এবং মনে করছেন, এটি সামাজিক সচেতনতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনৈতিক ফ্রন্টেও রাঘব এখন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। আম আদমি পার্টি (আপ) বৃহস্পতিবার হঠাৎ করে তাঁকে ডেপুটি নেতার পদ থেকে সরিয়ে, তাঁর স্থলাভিষিক্ত করেছেন অশোক মিত্তলকে। এই পরিবর্তনের পর রাঘব সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “চুপ করানো হয়েছে, কিন্তু আমি পরাজিত নই। আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত প্রচার চালানো হচ্ছে।”
সঙ্গে সঙ্গে পরিণীতি তাঁর স্বামীর সমর্থনে ভিডিওটি শেয়ার করেছেন। এটি স্পষ্ট করে যে, রাজনৈতিক টালমাটালেও পরিবারে রাঘব একা নয়। সংসদের শেষ অধিবেশনে তিনি পিতৃত্বকালীন ছুটি ও ভাল পরিচর্যা ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন। এই উদ্যোগের জন্যও পরিণীতি তাঁকে সমর্থন করেছেন।
রাঘব ও পরিণীতির গল্পটি দেখায়, রাজনৈতিক চাপে, পদ হারানো বা সমালোচনার মুখে, পারিবারিক সমর্থন কতটা শক্তি যোগায়। রাজনীতিতে হঠাৎ পদ পরিবর্তনের মতো পরিস্থিতি সাধারণ হলেও, পারিবারিক বন্ধন এবং স্বামীর পাশে দাঁড়ানোর মনোভাবই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
রাঘবের মন্তব্য এবং পরিণীতির উদ্যোগের মাধ্যমে স্পষ্ট—চ্যালেঞ্জ যত বড়ই হোক না কেন, পরিবারকে পাশে পেলে মানসিক শক্তি এবং সামাজিক প্রভাব বজায় রাখা সম্ভব। এই টানাপোড়েনের মধ্যেও রাঘব প্রমাণ করেছেন, রাজনীতি টালমাটাল হলেও ব্যক্তিগত জীবনে সমর্থন ও গর্ব বজায় রাখা যায়।
শেষ লড়াইয়ের গল্প: জল থেকে তোলার পরও বেঁচে ছিলেন রাহুল, তবু বাঁচানো গেল না