টানা বর্ষণে বিপর্যস্ত মুম্বই!
টানা ভারী বৃষ্টিতে আবারও বিপর্যস্ত মহারাষ্ট্রের রাজধানী মুম্বই। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকেই শহরের বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে অলিগলি— সর্বত্রই জল জমে যানবাহন চলাচল প্রায় অচল। বিপর্যস্ত রেল ও বিমান পরিষেবাও। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ঘটনা ঘটে মনোরেলে, যেখানে মাঝপথে দু’টি ট্রেন বিকল হয়ে আটকে পড়েন প্রায় ৮০০ যাত্রী। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর তাঁদের নিরাপদে উদ্ধার করে প্রশাসন।
বৃষ্টির ধাক্কায় ভেঙে পড়ল যোগাযোগ ব্যবস্থা
ভারী বর্ষণে মুম্বইয়ের লোকাল ট্রেন পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। কিছু ট্রেন বাতিল করতে বাধ্য হয় রেল কর্তৃপক্ষ, আবার অনেক ট্রেনের রুট ছোট করা হয়েছে। যেসব ট্রেন চলছে, তাদেরও সময়সূচি মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত। এক্সপ্রেস হোক বা লোকাল— বেশির ভাগই ঘণ্টার পর ঘণ্টা দেরিতে চলছে। বিমান পরিষেবাতেও বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে। ইন্ডিগো, স্পাইসজেট-সহ একাধিক সংস্থা যাত্রীদের সতর্কবার্তা দিয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও বিমান বাতিল হয়নি, তবে যাত্রীদের বিমানযাত্রার আগে নিয়মিত আপডেট নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মুম্বই নয়, গোটা মহারাষ্ট্রই বিপর্যস্ত
মুম্বইয়ের মতোই মহারাষ্ট্রের আরও কয়েকটি অঞ্চলে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কোঙ্কন, মরাঠাওয়াড়া ও পশ্চিম মহারাষ্ট্রের কিছু এলাকায় টানা বর্ষণে বন্যা দেখা দিয়েছে। বিগত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিজনিত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ছ’জন। রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত চার দিনে মহারাষ্ট্র জুড়ে বৃষ্টির কারণে মৃত্যু হয়েছে ২৪ জনের। নান্দেড় জেলায় পাঁচ জনের এখনও কোনও খোঁজ মেলেনি। পরিস্থিতি সামাল দিতে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) এবং রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ)-র মোট ২৪টি দল কাজ করছে। প্রয়োজনে আরও দল মোতায়েন করা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর সতর্কবার্তা
মঙ্গলবার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডেকে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীস। তিনি জানান, আগামী ৪৮ ঘণ্টা অত্যন্ত সংকটজনক হতে চলেছে। প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া বিপর্যস্ত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধারকাজের জন্য বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে নতুন আশঙ্কা
আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, বুধবারও মুম্বই ও আশপাশের এলাকায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই শহরে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে বলে আশা। বৃষ্টি থামলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে মহারাষ্ট্র সরকার।
মানুষের দুর্ভোগ চরমে
মুম্বইবাসীর কাছে এই টানা বর্ষণ যেন বারবার পুরনো দুঃসহ স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে। রাস্তায় ঘন্টার পর ঘন্টা আটকে থাকা যানবাহন, কর্মজীবীদের অফিস পৌঁছাতে হিমশিম, স্কুল-কলেজে ছুটি, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা বাতিল— সব মিলিয়ে জনজীবন কার্যত থমকে দাঁড়িয়েছে। মনোরেলে আটকে পড়া ৮০০ যাত্রীর অভিজ্ঞতা তো আরও ভয়াবহ। যাত্রীদের অনেকে জানিয়েছেন, কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ ও খাবার ছাড়াই তাঁরা চরম আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন। শেষমেশ উদ্ধারকাজ সম্পূর্ণ হলে স্বস্তি ফেরে।
টানা বৃষ্টির প্রকোপে মুম্বই তথা গোটা মহারাষ্ট্র আজ এক কঠিন পরীক্ষার মুখে। ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ জোরদার হলেও, প্রকৃতির এই তাণ্ডব কবে থামবে, সেটাই এখন কোটি মানুষের একমাত্র প্রশ্ন।
পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসতে রাজি জ়েলেনস্কি, তবে আগাম শর্তে নয়