‘টাইম টু ডিস্কো’ থেকে নীরব জীবন!
এক সময় বলিউড মানেই ছিল তাঁর স্বতন্ত্র কণ্ঠ। সিনেমার পর্দায় অভিনয় হোক বা মাইক্রোফোনের সামনে গান—দু’ক্ষেত্রেই নিজের আলাদা ছাপ রেখেছিলেন বসুন্ধরা দাস। কিন্তু একের পর এক হিট গান উপহার দেওয়ার পর হঠাৎই যেন আড়ালে চলে যান তিনি। সাম্প্রতিক একটি ভিডিয়ো আবার নতুন করে আলোচনায় এনে দিয়েছে এই গায়িকা-অভিনেত্রীকে।
কেরিয়ারের শুরুটা বসুন্ধরার হয়েছিল অভিনেত্রী হিসেবে। ‘হে রাম’ কিংবা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত ‘মনসুন ওয়েডিং’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করে নজর কাড়েন তিনি। তবে ছোটবেলা থেকেই গানের সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক। অভিনয়ের পাশাপাশি গানের প্রতিভাও ছিল সমান শক্তিশালী। সময়ের সঙ্গে সেই কণ্ঠই হয়ে ওঠে তাঁর আসল পরিচয়।
ছোট করে কাটা চুল, ফর্সা ত্বক, বাদামি চোখ আর খানিকটা খসখসে গলা—এই বৈশিষ্ট্যগুলিই তাঁকে আলাদা করে চিনিয়েছিল। ‘কাল হো না হো’ ছবির আইকনিক গান ‘ইটস দ্য টাইম টু ডিস্কো’ আজও সমান জনপ্রিয়, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের মধ্যেও। এছাড়াও ‘ম্যায় হু না’, ‘সালাম নমস্তে’, ‘নায়ক’-এর মতো একাধিক সুপারহিট ছবিতে তাঁর গান বলিউডের প্লেলিস্টে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে।
তার পরও প্রশ্ন ওঠে—তবে কোথায় গেলেন বসুন্ধরা? আসলে ২০১২ সালে বাদ্যযন্ত্র শিল্পী রবার্টো নারিনকে বিয়ে করার পর তিনি ধীরে ধীরে শহরের কোলাহল থেকে সরে আসেন। বর্তমানে বেঙ্গালুরুতেই স্থায়ীভাবে থাকেন তিনি। গানের জগতকে পুরোপুরি বিদায় না জানালেও এখন খুব বেছে বেছে কাজ করেন। বড় ব্যানারের ছবি বা নিয়মিত রেকর্ডিংয়ের বদলে মাঝেমধ্যে কিছু অনুষ্ঠানেই দেখা যায় তাঁকে।
সম্প্রতি বেঙ্গালুরুর একটি হস্তশিল্প মেলায় বসুন্ধরাকে দেখা যাওয়ার পর তাঁর একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে। আগের চেয়ে কিছুটা বদলে যাওয়া চেহারা দেখে অনেকে চমকে গিয়েছেন, আবার বহু অনুরাগী নস্টালজিক হয়ে পড়েছেন। মন্তব্যে ভেসে এসেছে একটাই কথা—“আরও গান চাই।” কেউ কেউ তো সরাসরি অনুরোধ করেছেন, মুম্বইয়ে ফিরে এসে আবার নিয়মিত গান গাওয়ার জন্য।
বসুন্ধরা দাস আজ হয়তো লাইমলাইটে নেই, কিন্তু তাঁর গান এখনও মানুষের স্মৃতিতে বেঁচে আছে। ডিস্কোর ঝলমলে আলো থেকে দূরে গিয়ে হয়তো তিনি বেছে নিয়েছেন শান্ত, ব্যক্তিগত জীবন। তবু তাঁর কণ্ঠের জাদু যে এখনও শ্রোতাদের মনে সমান উজ্জ্বল, তা প্রমাণ করে দেয় এই নতুন করে ফিরে আসা আগ্রহ।
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা