টলিপাড়া আন্দোলনে একজোট: রাহুলের মৃত্যুর পরে শুটিং অনির্দিষ্টকাল বন্ধ

রাহুলের মৃত্যুর পরে শুটিং অনির্দিষ্টকাল বন্ধ! টলিপাড়া বৃহস্পতিবার থেকে এক অদৃশ্য ভয়ে নাড়াচাড়া করছে। রবিবার টলিপাড়া অভিনেতা ও কলাকুশলীদের সংগঠন এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর প্রতিবাদে এবং…

April 6, 2026
1 min read

রাহুলের মৃত্যুর পরে শুটিং অনির্দিষ্টকাল বন্ধ!

টলিপাড়া বৃহস্পতিবার থেকে এক অদৃশ্য ভয়ে নাড়াচাড়া করছে। রবিবার টলিপাড়া অভিনেতা ও কলাকুশলীদের সংগঠন এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর প্রতিবাদে এবং শিল্পীদের নিরাপত্তা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব শুটিং বন্ধ রাখা হবে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, অঞ্জনা বসু, যিশু সেনগুপ্ত, রূপাঞ্জনা মিত্র, বিদীপ্তা চক্রবর্তী এবং আরও অনেকে। এই মিলনমেলায় শিল্পীরা এক স্বরূপে বললেন, “আমাদের নিরাপত্তা এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। আমরা শুটিংয়ে বের হই, কিন্তু ফেরতে পারব কি না তা নিশ্চিত নয়।”

কর্মবিরতির কারণ ও প্রেক্ষাপট

শনিবার অভিনেতারা শহরের রাস্তায় নেমেছিলেন, হাতে এফআইআর দায়ের করে রাহুলের মৃত্যুর ঘটনায় ন্যায্য বিচার দাবি জানান। রবিবার টেকনিশিয়ানস স্টুডিয়োতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় জানান, “গতকাল আমরা রিজেন্ট পার্ক থানায় এফআইআর দায়ের করেছি। আমরা রাহুলের পরিবারের পাশে আছি এবং থাকব। শিল্পীদের নিরাপত্তা রক্ষার জন্যই এই কর্মবিরতি।”

সংগঠনের ৪,০০০ সদস্য এবং ফেডারেশনের ৭,০০০ টেকনিশিয়ানদের একজোট হয়ে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত বলছে, “শিল্পী ও কলাকুশলীরা জীবন ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন। নদী, সমুদ্র, পাহাড়—সবই তারা পাড়ি দেন। কিন্তু রাহুল আমাদের শেখালো, নিরাপত্তা ছাড়া কোনো কাজ করা সম্ভব নয়।”

নিরাপত্তার নতুন দাবি

অভিনেতা ও কলাকুশলীরা এ-ও দাবি করেছেন যে, এখন থেকে প্রতিটি শুটিংয়ে অন্তত একটি অ্যাম্বুল্যান্স থাকা বাধ্যতামূলক হবে। রাহুলের দুর্ঘটনা তাদের কাছে সতর্কবার্তা হিসেবে এসেছে। ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত বলেন, “রাহুল আমাদের ছেড়ে গেল, কিন্তু আমরা লড়ব। তার মৃত্যুই আমাদের প্রশ্ন তুলেছে—‘আমরা কি আদৌ নিরাপদ?’”

প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ও জানান, “শিল্পী, কলাকুশলী এবং প্রত্যেকের কাজের সময় নিরাপত্তা অপরিহার্য। সকলকে একরকম সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ প্রত্যেকের মনে এখন ভয় আছে।”

আগামী কর্মসূচি

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় টেকনিশিয়ানস স্টুডিয়োতে আর্টিস্ট ফোরাম ও ফেডারেশনের সদস্যরা উপস্থিত হবেন। পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ও সকল প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পী ও কলাকুশলীদের যোগ দেওয়ার আহ্বান করেছেন। তাঁর কথায়, “দুর্ঘটনা অপ্রত্যাশিত, কিন্তু নিয়মাবলি থাকলে শিল্পীর মর্যাদা ও পরিবারের সম্মান রক্ষা করা সম্ভব।”

এই কর্মবিরতির কারণে বড়পর্দা ও ছোটপর্দার সব শুটিং বন্ধ থাকবে। যে ধারাবাহিকের শুটিং ব্যাঙ্কিং করা হয়নি, তার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। টলিপাড়া একসাথে দাঁড়িয়েছে, এক বার্তা দিতে—শিল্পীর জীবন এবং নিরাপত্তা কোনোভাবেই তুচ্ছ হতে পারে না।

শেষ লড়াইয়ের গল্প: জল থেকে তোলার পরও বেঁচে ছিলেন রাহুল, তবু বাঁচানো গেল না

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *