জেলের চার দেয়ালে সঞ্জয়!
আরজি কর হাসপাতালে কর্তব্যরত এক তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায় এখন বন্দি প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের ৬ নম্বর সেলে। আদালতের রায় অনুযায়ী, তিনি আজীবন কারাবন্দি। এক বছর আগেও যিনি ‘পুলিশ’ লেখা বাইক নিয়ে রাতের শহরে ঘুরে বেড়াতেন, এখন তিনি জেলের বাগানে ফুলগাছের যত্নে মজুরিতে কাজ করছেন।
প্রেসিডেন্সি জেলের ভেতরে রয়েছে একটি ঘেরা বাগান— সেখানেই প্রতিদিন সকাল-বিকেল কাজ করছেন সঞ্জয়। মজুরি দৈনিক ৮০ টাকা। তবে সেই টাকার একটিও হাতে পান না— নিয়মমাফিক জমা পড়ে একটি নির্দিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। যা তিনি নিজে ব্যবহার করতে পারবেন কেবল ৫০ শতাংশ, তাও শুধুমাত্র জেলের ভেতরে প্রয়োজন মেটাতে।
জেলের সূত্র জানাচ্ছে, শুরুর দিকে সঞ্জয় ছিলেন একেবারেই চুপচাপ, একরকম হতচকিত। নিজের ভাবনাতেই ডুবে থাকতেন। অন্যদের সঙ্গে কথা বলতেন না, সেলের বাইরেও বিশেষ বেরোতেন না। কিন্তু ধীরে ধীরে তিনি জেলের রুটিনে অভ্যস্ত হয়ে উঠছেন— কাজ করছেন, টুকটাক কথা বলছেন, টিভি দেখছেন, এমনকি ক্যারমও খেলছেন। তবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগদানের কোনও আগ্রহ নেই তাঁর।
জেলে সঞ্জয়ের ‘চাহিদা’ প্রায় নেই বললেই চলে। পরিবার বা আত্মীয়স্বজন কেউ একবারও দেখা করতে আসেননি। তাঁকে নিয়ে কারা কর্তৃপক্ষেরও বিশেষ কোনও ঝামেলা নেই। শুধু মাঝেমধ্যে আইনি পরামর্শের জন্য আসেন তাঁর আইনজীবীরা। কারণ, হাই কোর্টে তিনি আজীবন কারাবাসের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। যদিও মামলাটি এখনও বিচারাধীন।
সঞ্জয়ের অতীত জীবন ছিল রীতিমতো দাপুটে। পুলিশের ব্যারাকে প্রায় স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। খাতায়-কলমে কোনও অধিকার না থাকলেও, কেউ তাঁকে বাধা দিত না। তাঁর বাইকে ‘পুলিশ’ লেখার অনুমতি ছিল না, তবু নির্দ্বিধায় সেটা ব্যবহার করতেন। তিনি ছিলেন বক্সার, ‘ওয়েলফেয়ার সেল’ থেকে বাইকও আদায় করেছিলেন। আরজি কর থেকে এনআরএস কিংবা এসএসকেএম— শহরের বড় হাসপাতালগুলোতে তাঁর অবাধ যাতায়াত ছিল। এমনকি যৌনপল্লিতেও নিয়মিত যেতেন বলে জানা যায়।
২০২৪ সালের ৮ অগস্টের সেই ভয়াবহ রাতে আরজি করের ভিতর ঢুকে যে ভয়াবহ অপরাধ তিনি ঘটান, তার পর এক বছরের ব্যবধানে বদলে গেছে তাঁর সবকিছু। এখন আর ‘পুলিশ’ লেখা বাইকের দাপট নেই, নেই অবাধ যাতায়াত, নেই অনির্বচনীয় আত্মবিশ্বাস।
জেলের সেল, বাগান, টিভির পর্দা আর নিজের নিঃসঙ্গতা— এটাই এখন তাঁর নতুন বাস্তবতা। জীবনের যাত্রাপথ যেটা এক সময়ে ছিল বাহ্যিক শক্তির প্রদর্শনী, এখন সেটা সীমাবদ্ধ প্রাচীর-ঘেরা এক বন্দি জীবনে।
মায়ের কঠোর আদেশ থেকে শুরু করে ছোট ছোট টাস্ক, কন্যা পলককে বড় করতে যা করেছেন শ্বেতা তিওয়ারি