জি২০ শীর্ষ সম্মেলনে মোদীর বার্তা: খাদ্য ও জ্বালানি সংকট দূরীকরণে সমাধান খুঁজতে হবে

জি২০ শীর্ষ সম্মেলনে মোদীর বার্তা ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোতে চলমান জি২০ শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিশ্বব্যাপী খাদ্য, জ্বালানি ও সারের সংকট নিরসনের জন্য রাষ্ট্রনেতাদের কাছে সমাধান খোঁজার আহ্বান জানান।…

November 19, 2024
1 min read

জি২০ শীর্ষ সম্মেলনে মোদীর বার্তা

ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোতে চলমান জি২০ শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিশ্বব্যাপী খাদ্য, জ্বালানি ও সারের সংকট নিরসনের জন্য রাষ্ট্রনেতাদের কাছে সমাধান খোঁজার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাতের কারণে এই সংকট তৈরি হচ্ছে, যা বিশেষ করে নিম্ন আয়ের দেশগুলিকে (গ্লোবাল সাউথ) কঠিন সমস্যার মধ্যে ফেলেছে।

বিশ্বব্যাপী সংকটের কারণ এবং প্রভাব


মোদী তাঁর বক্তব্যে বলেন, খাদ্য ও জ্বালানি সংকটের মূল কারণ হলো সংঘাত। সংঘাতের ফলে সৃষ্ট সমস্যাগুলি গ্লোবাল সাউথ-এর দেশগুলিকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করছে। দারিদ্র ও ক্ষুধার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এই দেশগুলির সমস্যা উপেক্ষা করলে আলোচনা সদর্থক হতে পারে না। রাষ্ট্রপুঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, এশিয়ার কিছু অংশ এবং ওশিয়ানিয়ার কিছু দেশ গ্লোবাল সাউথ-এর অন্তর্ভুক্ত, যেখানে দারিদ্র প্রকট।

মোদী বলেন, “বিশ্বজুড়ে সংঘাতের জন্য খাদ্য, জ্বালানি এবং সারের সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। এই সংকট মোকাবিলায় আমাদের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।” তিনি আরও জানান, ব্রাজিল এই সমস্যাগুলির সমাধানে আন্তর্জাতিক মঞ্চ তৈরি করতে উদ্যোগী হয়েছে, যা প্রশংসার দাবি রাখে।

ভারতের ভূমিকা এবং অভিজ্ঞতা


সম্মেলনে মোদী তুলে ধরেন ভারতের দারিদ্র নিরসনে গত এক দশকের অর্জন। তিনি বলেন, ২৫ কোটি মানুষকে দারিদ্রসীমার উপরে তুলে আনা হয়েছে, এবং ৮০ কোটি মানুষের জন্য বিনামূল্যে খাদ্যশস্য বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া, নারীদের ক্ষমতায়ন এবং কৃষকদের উন্নয়নের জন্য নেওয়া পদক্ষেপগুলির কথাও উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, “ভারত শুধুমাত্র খাদ্য নিরাপত্তার দিকেই নয়, পুষ্টির উন্নতিতেও গুরুত্ব দিচ্ছে। জৈব এবং প্রথাগত চাষের পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। এতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হবে।”

জি২০-এর ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা


মোদী জি২০-র অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রগুলিকে সরকারি স্তরে সংস্কারের আহ্বান জানান। ভারতের আগের জি২০ সম্মেলনের ভাবনা, “এক বিশ্ব, এক পরিবার, এক ভবিষ্যৎ”-এর পুনরাবৃত্তি করে তিনি বলেন, এই দৃষ্টিভঙ্গি এখনও প্রাসঙ্গিক। তিনি এও জানান, ভারত গ্লোবাল সাউথ-এর কণ্ঠ হয়ে এই সমস্যাগুলির সমাধানে ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।

মোদীর মতে, খাদ্য ও জ্বালানি সংকটের সমাধানে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জি২০-কে এই ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, “সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এই সংকট থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।”

জি২০ সম্মেলনে মোদীর বক্তব্য এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। বিশ্বজুড়ে দারিদ্র, ক্ষুধা এবং খাদ্য সংকট মোকাবিলায় ভারতের অভিজ্ঞতা ও প্রস্তাবগুলো অন্যান্য দেশগুলিকে দিকনির্দেশনা দিতে পারে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে একটি টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণের লক্ষ্যে এই আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *