টলিউডে কোটির ক্লাব কেমন?
২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাস বাংলা ছবির ইতিহাসে কিছুটা আশার আলো দেখিয়েছে। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত প্রায় ১২–১৩টি বাঙালি ছবির মুক্তি হলো—‘বিনোদিনী’, ‘সত্যি বলে সত্যি কিছু নেই’, ‘একেন’, ‘আমার বস’, ‘খাদান’, ‘কিলবিল সোসাইটি’, ‘পুরাতন’, ‘পক্ষীরাজের ডিম’, ‘অঙ্ক কী কঠিন’ ইত্যাদি। আন্তর্জাতিক ও দেশের নানা ঘটনায় উত্তেজনা থাকলেও পরিচালক, প্রযোজকরা বলছিলেন, দর্শকের আগ্রহ আগের মতোই রেখে দিচ্ছে।
🎯 কোন ছবি করল কোটি?
জাতীয় মাল্টিপ্লেক্সের হিসাব বলছে—জানুয়ারি–জুনে মাত্র দুটি ছবি ‘কোটিতে’ প্রবেশ করেছে: ‘দ্য একেন: বেনারসের বিভীষিকা’ (Eken) ও ‘আমার বস’ তবে বক্স‑অফিসে উজ্জ্বল ছয় মাসটাই হয়েছে—‘একেন’ ₹৮.২১ কোটি, ‘আমার বস’ ₹৪.২২ কোটি এবং ‘কিলবিল সোসাইটি’ ₹২.৭২ কোটি ব্যবসা করেছে ।
ছোট‑বাজেট ছবির সাফল্যও দেখা গেছে। ‘পুরাতন’ ₹১.৫২ কোটি, ‘সত্যি বলে সত্যি কিছু নেই’ ₹১.৩৬ কোটি, ‘পক্ষীরাজের ডিম’ ও ‘অঙ্ক কী কঠিন’ও লক্ষণীয় ভৌতিকভাবে বাজারে ঠাঁই করেছে । প্রায় সাতটি ছবিই সীমাহীন বাণিজ্যিক রূপে উপনীত হয়েছে।
নির্মাতাদের দৃষ্টিভঙ্গি কী?
শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বলছেন, “বছরটা ভালো যাচ্ছে।” কারণ—ছবির সংখ্যাও বেড়েছে, দর্শকরাও ফিরে এসেছে । তিনি মনে করেন ধারাবাহিক মুক্তি দর্শকদের টানে রাখছে। ছোট‑বাজেটে মানসম্পন্ন ছবি যেমন ‘অঙ্ক কী কঠিন’ বিক্রিয়ায় ভালো করেছে, তেমনই বড়‑বাজেট ছবিও ‑ ‘একেন’, ‘আমার বস’, ‘খাদান’ ‑ ব্যবসায় সামনে রেখে দিচ্ছে সুযোগ ।
পরিচালক সৌরভ পালোধি বলেন, বাণিজ্যিক ছবি যেভাবে সফল হবে, তার ছায়ায়ই নৈর্ব্যক্তিক আর বাস্তব‑ধর্মী ছবি ‘অঙ্ক কী কঠিন’ যেমন বেঁচে থাকবে এবং এই ধারাটি টলিউডের ভবিষ্যত প্রজ্বলিত রাখতে সাহায্য করবে । পরিবেশক শতদীপ সাহাও বলেন, “বছরের প্রথম ছয় মাসে সাতটি ছবি ঘর করেছে”; অর্থাৎ মোটেই পরিস্থিতি ‘বিকল’ নয় ।
নতুন চিত্র, নতুন আশা
- ‘একেন’–এর জনপ্রিয়তা বলা বাহুল্য—₹৮.২১ কোটি আয় ও তৃতীয় সপ্তাহেও টিকবে বলে আশা ।
- ‘আমার বস’–এর ভারতীয় থ্রিডে-উইকএন্ডে ₹১.১০ কোটি উপার্জন ও সমালোচনামূলক প্রশংসা হয়েছে ।
- ‘খাদান’, যদিও ২০২৪–এর শেষের ছবিই, জানুয়ারি পর্যন্ত ১৫ দিনে ₹১০ কোটি পার করে টলিপাড়ায় ধামাকা সৃষ্টি করেছিল ।
কি দেখিয়ে দিল প্রথম সেমিস্টার?
- সংখ্যা ফের: গত বছরে কিছু প্রেক্ষাপটে ছবির সংখ্যা কমেছিল, তবে এবার মুক্তি আসার সংখ্যা বাড়ছে।
- দর্শকের আগমন: ধারাবাহিক মুক্তি দর্শকদের সিনেমা হলে টেনে আনছে।
- বছরের সমমুখী সাফল্য: ব্যবসায়িক হিট ও ছোট‑বাজেটের ছবির সাফল্য একই সঙ্গে এসেছে।
- ধারাবাহিকতা দরকার: ‘অঙ্ক’‑র মতো ছবির প্রয়োজনে ধারাবাহিক সাপোর্ট জরুরি—সৌরভ পালোধি ।
টলিউডের ভবিষ্যত?
পরিচালক ও প্রযোজকদের পর্যবেক্ষণ স্পষ্ট—‘বিশেষ ধরনের’ ছবি বানিয়ে টলিউড অন্ধকারে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে বড়‑বাজেট ও তারকাখচিত ছবি না থাকলে, ‘অঙ্ক’‑র মতো মিশ্র মডেল চালু রাখা জরুরি| অভিনব গল্প ও দর্শকের স্বাদ মিলিয়ে চললে টলিউড ‘টিকে’ থাকবে।
➡️ আগামী ছয় মাসে রিলিজ তালিকায় ‘ডিয়ার মা’, ‘মৃগয়া’, ‘ভূতপূর্ব’–এর মতো ছবি যুক্ত হবে, যা ধারাবাহিকতা ধরে রাখায় সহায়ক হবে।
“দেশের সম্মান আগে”— পাকিস্তানি অভিনেত্রীর সঙ্গে দিলজিতের কাজ নিয়ে মুখ খুললেন মিকা সিং