জাতীয় সড়ক ছেড়ে পাঁশকুড়ায় ফুটপাথে ট্রাক!
শনিবার গভীর রাতে পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ার সিদ্ধা বাজার যেন এক ভয়াবহ বিভীষিকার সাক্ষী রইল। চলন্ত জাতীয় সড়ক থেকে হঠাৎ দিকভ্রষ্ট এক ট্রাক আচমকা উঠে পড়ে বাজারের ফুটপাথে, পিষে দেয় দোকান, কর্মচারী আর পথচারীদের। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিন জন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। ঘটনার পর চরম উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়।
ভয়ঙ্কর সেই মুহূর্ত…
প্রত্যক্ষদর্শীদের চোখে ধরা পড়েছে এক বিভীষিকাময় দৃশ্য। খড়্গপুর থেকে কোলাঘাটের দিকে আসা একটি মালবোঝাই ট্রাক ১৬ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে প্রবল গতিতে ছুটে আসছিল। সিদ্ধা বাজারের কাছে এসে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারায়। ট্রাকটি রাস্তায় বসানো লোহার ব্যারিকেড ভেঙে ফুটপাথে উঠে পড়ে, আর তারপর একের পর এক দোকানে ঢুকে পড়ে। গতি এতটাই বেশি ছিল যে, অনেক দোকানদার ও ক্রেতা বেরিয়ে আসার সুযোগও পাননি। মুহূর্তের মধ্যে দোকানগুলো ধসে পড়ে, চারদিক হাহাকার আর চিৎকারে ভরে যায়।
মত্ত চালক, অঘটনের নেপথ্যে?
স্থানীয়দের অভিযোগ, ট্রাকের চালক ও খালাসি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন। অনেকেই বলেছেন, দুর্ঘটনার সময় বাজারে প্রচুর লোকজন উপস্থিত ছিলেন। বাজারে ট্রাকটি ঢুকেই একাধিক দোকানে সজোরে ধাক্কা মারে, যেটা নিয়ন্ত্রণহীন গতি এবং অসাবধানতারই স্পষ্ট প্রমাণ।
এই ঘটনার জেরে জাতীয় সড়কে রাতভর দীর্ঘ যানজট দেখা দেয়। অবশেষে পাঁশকুড়া থানার পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘাতক ট্রাকটিকে আটক করা হয়েছে, চালক ও খালাসিকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।
প্রাণহানি ও আহতদের অবস্থা
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে তিনটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। মৃতরা সকলেই স্থানীয় বাসিন্দা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আহতদের পাঁশকুড়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পুলিশ জানিয়েছে, আহতদের পরিচয় শনাক্ত করে তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের ক্ষোভ
এই দুর্ঘটনার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয়রা। তাঁরা অভিযোগ করেছেন, রাতে ভারী যানবাহনের উপর কোনও নজরদারি নেই। এমনকি বাজারের মতো জনবহুল এলাকায় কোনও স্পিড ব্রেকার বা রক্ষণাবেক্ষণ নেই। পুলিশের তৎপরতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
বিক্ষুব্ধ জনতা রাতভর ঘাতক ট্রাক ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। দাবি ওঠে—এই ধরনের দুর্ঘটনা আটকাতে প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে, রাতের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে, এবং নেশাগ্রস্ত চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।
শেষ কথা
পাঁশকুড়ার শান্তিপূর্ণ রাতের চেনা ছবি এক ট্রাক দুর্ঘটনায় ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল। জীবনের গতি, বাজারের কোলাহল—সব থেমে গেল কয়েক সেকেন্ডের বিভীষিকায়। এখন শুধু প্রশ্ন, এ ধরনের দুর্ঘটনা কি আটকানো সম্ভব ছিল না? আর কতো প্রাণ ঝরে যাবে রাস্তায়, শুধুমাত্র নজরদারির অভাবে?
ঘন ঘন প্রস্রাব নয়, আরও অনেক উপসর্গ জানান দিতে পারে ডায়াবিটিস! কী ভাবে বুঝবেন?