জাতগণনা করছে মোদী সরকার!
১৪ বছর ধরে ভারতে হয়নি কোনও জনগণনা। ২০১১-র পর নিয়ম মেনে ২০২১ সালে হওয়ার কথা থাকলেও, কোভিড-১৯–এর ধাক্কায় তা স্থগিত হয়ে গিয়েছিল। আর সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর হঠাৎই কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষণা করল— এবার একসঙ্গেই হবে জনগণনা ও জাতগণনা। মোদী সরকারের এই ঘোষণায় রাজনৈতিক মহলে যেমন চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, তেমনই বাংলার ভবিষ্যৎ ভোটরাজনীতিতে কী প্রভাব পড়বে— উঠছে সেই প্রশ্নও।
জাতগণনার মূল লক্ষ্য হল— তফসিলি জাতি (SC), উপজাতি (ST)-দের পাশাপাশি অনগ্রসর শ্রেণি বা ওবিসি-দের সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান তুলে আনা। সাধারণ জনগণনায় ওবিসি সংক্রান্ত কোনও তথ্যই থাকে না, ফলে এই সম্প্রদায়ের আর্থ-সামাজিক অবস্থা নিয়ে নির্ভরযোগ্য সরকারি তথ্যও মেলে না। এই ঘাটতি পূরণেই দীর্ঘদিন ধরে জাতগণনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী, তেজস্বী যাদব, এমকে স্ট্যালিন, অখিলেশ যাদব প্রমুখ। শেষমেশ কেন্দ্র তাতে সায় দিল।
ওবিসি ভোট কতটা গুরুত্বপূর্ণ বাংলায়?
বাংলায় ওবিসি সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশ রয়েছে। যেমন মাহিষ্য, তিলি, তামুল, সাহা— বহু বছর ধরেই তাঁরা ওবিসি তালিকাভুক্ত হওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন, এই চারটি সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকায় আনার প্রস্তাব রাজ্য মন্ত্রিসভায় পাশ করা হবে। যদিও ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্তির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে। তাই এখনো পুরো বাস্তবায়ন হয়নি।
কেন্দ্রীয় রেল ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের কথায়, “বিভিন্ন রাজ্যে নিজস্ব পদ্ধতিতে জাতিগণনা হয়েছে। তাতে তথ্যের স্বচ্ছতা ও সামঞ্জস্য নেই। ফলে কেন্দ্রীয় স্তরে অভিন্ন রূপে এই গণনা করা জরুরি হয়ে পড়েছে।”
ভোট কৌশলে নতুন চাল?
এই ঘোষণাকে অনেকেই দেখছেন আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে। চলতি বছরের শেষে বিহারে ভোট। আগামী বছরই ভোট বাংলায়, অসমে ও কেরলে। প্রশ্ন উঠছে— কেন্দ্র কি এ সিদ্ধান্ত নিয়ে ওবিসি ভোটারদের মন জয় করতে চাইছে?
জাতগণনা বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনও কেন্দ্র ঘোষণা করেনি। তবু অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, ওবিসি জনসংখ্যা প্রকাশ পেলে তাতে সামাজিক ও রাজনৈতিক ভারসাম্যে নতুন মোড় আসতে পারে। বাংলার মতো রাজ্যে যেখানে জাতিগত পরিচয়ের প্রভাব তুলনামূলক কম হলেও, ভোটের অঙ্কে এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ভবিষ্যৎ কী বলছে?
বিরোধীরা ইতিমধ্যেই দাবি করছে— জাতগণনার দাবিকে দেরিতে মানা হলেও, এটি তাঁদের রাজনৈতিক জয়। বিজেপি অবশ্য বলছে, জাতিগত বিভাজন নয়, স্বচ্ছতা ও পরিকল্পনার ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ।
তবে ভোট যত এগোবে, ততই স্পষ্ট হবে— এই জাতগণনার সিদ্ধান্ত বাংলায় ওবিসি ভোট ব্যাংকে কতটা প্রভাব ফেলতে পারল। আর তার উপরই অনেকাংশে নির্ভর করবে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রূপরেখা।
কাশ্মীরে টানা ৮ দিন সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন, পাঁচ জায়গায় গুলি পাক সেনার! পাল্টা জবাব দিল ভারতীয় সেনাও