আরও ‘রাঘব বোয়াল’ নজরে
সদ্যপ্রয়াত গায়ক জ়ুবিন গার্গের মৃত্যু নিয়ে সমগ্র দেশেরই নজর কাড়েছে। ইতিমধ্যেই আপ্তসহায়ক সিদ্ধার্থ শর্মা তদন্তের মুখ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে সমন পেয়েছেন। তবে বিশেষ তদন্তকারী দলের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে দেখা যাচ্ছে, সিদ্ধার্থই একমাত্র নয়—তদন্তের দৃষ্টিকোণ থেকে আরও এক ডজন ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। এদের মধ্যে অন্যতম ‘নর্থইস্ট ফেস্টিভ্যাল’-এর আয়োজক শ্যামকানু মহন্ত। তাঁরও উপস্থিতি নিশ্চিত করতে তলব পাঠানো হবে বলে খবর।
তদন্তকারী দলের লক্ষ্য কেবল ব্যক্তিরা নয়, বরং ঘটনার দিন গায়কের সঙ্গে উপস্থিত থাকা প্রত্যেককেও জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হবে। যেমন, যে সকল মানুষ ওই দিন নৌকোয় জ়ুবিনের সঙ্গে ছিলেন, তাদের প্রত্যেককে ৬ অক্টোবর আদালত বা তদন্ত সংস্থার সামনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই গায়ক জ়ুবিনের বাদ্যযন্ত্রী শেখর জ্যোতি গোস্বামীকে আটক করা হয়েছে। জানা গেছে, তিনি মৃত্যুর সময় জ়ুবিনের সঙ্গে সিঙ্গাপুরে ছিলেন এবং তাঁর সাক্ষ্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অসম সরকার বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে, যার প্রধান লক্ষ্য জ়ুবিনের মৃত্যুর কারণ খুঁজে বের করা। শুধু তদন্ত নয়, সিদ্ধার্থ শর্মার বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়েছে। এর পরই সিদ্ধার্থ একটি খোলাচিঠি প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি স্পষ্ট করে জানান, জ়ুবিনের প্রায় ৩৮ হাজার রেকর্ডকৃত গানের স্বত্ব মূলত বিভিন্ন প্রযোজনা সংস্থা এবং সঙ্গীত কোম্পানির হাতে। তার সঙ্গে চুক্তি সেই অনুযায়ী হয়েছিল।
সিদ্ধার্থ লিখেছেন, “আমি জ়ুবিনদার জীবনে প্রবেশ করার আগেই তাঁর প্রায় সমস্ত গান তৈরি হয়ে গিয়েছিল। তার মধ্যে অনেক বাণিজ্যিকভাবে সফল গানও ছিল। তিনি প্রায়ই দুঃখ প্রকাশ করতেন, বলতেন কীভাবে প্রযোজক বা সঙ্গীত সংস্থাগুলি কোটি কোটি টাকা আয় করছে, অথচ তিনি ন্যূনতম পারিশ্রমিকটুকুই পেয়েছিলেন। আমার দায়িত্ব ছিল সেই অর্থ ও স্বত্ব সংরক্ষণের বিষয়টি সতর্কভাবে পরিচালনা করা।”
তদন্তকারী দল আরও জানিয়েছে, ঘটনার সময় প্রত্যেকের অবস্থান, সাক্ষ্য এবং সম্পর্কিত নথিপত্র বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হবে। শুধুমাত্র আপ্তসহায়ক নয়, বরং সংশ্লিষ্ট সব ব্যক্তির দিক থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এটি গায়কের মৃত্যুর পিছনের রহস্য উন্মোচনে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
এই মুহূর্তে সমগ্র দেশ—and বিশেষ করে জ়ুবিনের ভক্তরা—কেন্দ্র করে রয়েছেন তদন্তের দিকে। নিখুঁত তথ্য এবং সঠিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যে কোনও সম্ভাব্য ভুল ধারণা বা গুজব দূর করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সিদ্ধার্থ শর্মার খোলাচিঠি এবং তদন্তকারী দলের কার্যক্রম এই প্রক্রিয়ার অংশ, যাতে নিশ্চিত করা যায় যে গায়কের কাজ ও জীবন সংরক্ষিত হবে এবং সত্য উদঘাটিত হবে।
ব্যালকনির উপর উড়ালপুল! নাগপুরের সেতু স্মরণ করাচ্ছে ভোপালের ৯০ ডিগ্রি রেলসেতুর ঘটনার কথা