জ়ুবিনের মৃত্যুর রহস্য ঘিরে নয়া মোড়, তল্লাশির পর মুখ খুললেন আপ্তসহায়ক সিদ্ধার্থ

তল্লাশির পর মুখ খুললেন আপ্তসহায়ক সিদ্ধার্থ জনপ্রিয় গায়ক জ়ুবিন গার্গের আকস্মিক মৃত্যুর পর এখনও স্তম্ভিত গোটা অসম। অনুরাগীরা যেমন এই মর্মান্তিক ঘটনা মেনে নিতে পারছেন না, তেমনই তদন্তকারীরাও খুঁজে চলেছেন…

September 27, 2025
1 min read

তল্লাশির পর মুখ খুললেন আপ্তসহায়ক সিদ্ধার্থ

জনপ্রিয় গায়ক জ়ুবিন গার্গের আকস্মিক মৃত্যুর পর এখনও স্তম্ভিত গোটা অসম। অনুরাগীরা যেমন এই মর্মান্তিক ঘটনা মেনে নিতে পারছেন না, তেমনই তদন্তকারীরাও খুঁজে চলেছেন এর পেছনের প্রকৃত কারণ। অভিযোগের আঙুল উঠেছে জ়ুবিনের দীর্ঘদিনের আপ্তসহায়ক সিদ্ধার্থ শর্মার দিকেও। অবশেষে নীরবতা ভেঙে মুখ খুললেন তিনি।

অসম সরকার ইতিমধ্যেই জ়ুবিনের মৃত্যুর তদন্তে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করেছে। সেই দলের সদস্যরা শুক্রবার সকালে গুয়াহাটির দাতালপাড়ায় সিদ্ধার্থের বাড়িতে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর তল্লাশি শুরু করেন। এর কিছুক্ষণ পরেই একটি খোলাচিঠির মাধ্যমে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন সিদ্ধার্থ।

চিঠিতে তিনি জানান, জ়ুবিনের প্রায় ৩৮ হাজার রেকর্ড করা গানের স্বত্ব আসলে বিভিন্ন প্রযোজনা সংস্থা ও সঙ্গীত কোম্পানির হাতে রয়েছে। সেভাবেই পূর্বে চুক্তি করা হয়েছিল। সিদ্ধার্থ লেখেন, “আমি জ়ুবিনদার জীবনে আসার অনেক আগেই তাঁর প্রায় সব গান তৈরি হয়ে গিয়েছিল। তার মধ্যে বহু বাণিজ্যিকভাবে সফল গানও ছিল। তিনি প্রায়ই হতাশ হয়ে বলতেন, কীভাবে প্রযোজকেরা ও সঙ্গীত সংস্থাগুলি কোটি কোটি টাকা আয় করছে, অথচ তিনি পেয়েছিলেন সাধারণ পারিশ্রমিক মাত্র। এই তথ্য সংস্থাগুলির কাছ থেকে সরাসরি যাচাই করা যেতে পারে।”

সিদ্ধার্থ আরও জানান, ২০২১ সালে জ়ুবিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন পরবর্তী কাজগুলির স্বত্ব নিজের কাছে রাখবেন। সেই লক্ষ্যেই তৈরি হয়েছিল ‘জ়ুবিন গার্গ মিউজিক এলএলপি’, যেখানে সিদ্ধার্থ ছিলেন সহ-ব্যবস্থাপক। তিনি বলেন, “এই সংস্থা এখন পর্যন্ত মাসে কেবল কয়েক হাজার টাকা আয় করেছে, এবং পুরো অর্থ সংস্থার অ্যাকাউন্টেই রয়েছে। এক টাকাও ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করা হয়নি। সংস্থার ৬০ শতাংশ মালিকানা ছিল জ়ুবিনদার। তাঁর পরিবার যেন ন্যায্য অংশ পায়, সেটা নিশ্চিত করাই আমার দায়িত্ব।”

তিনি আরও জানান, গীতিকার ও সুরকার হিসেবে জ়ুবিনের সমস্ত আয় সরাসরি তাঁর ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে জমা হতো, যা তাঁর স্ত্রী গরিমার হাতে তুলে দেওয়া হবে।

জ়ুবিনের মৃত্যুর পর থেকেই সিদ্ধার্থের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গ ও অর্থ নয়ছয়ের অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে তিনি বলেন, “এই গুঞ্জন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও দুঃখজনক। আমি বিশেষ তদন্তকারী দলের সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছি এবং ভবিষ্যতেও করব।” একই সঙ্গে তিনি অনুরোধ জানান, “জ়ুবিনদার অনুরাগীদের কাছে আমার আবেদন, দয়া করে তদন্তকে শান্তিপূর্ণভাবে এগোতে দিন। জ়ুবিনদার প্রতি এটিই আমাদের ন্যূনতম কর্তব্য।”

উল্লেখ্য, জ়ুবিনের মৃত্যুর তদন্তে ইতিমধ্যেই তাঁর ব্যান্ডের প্রাক্তন সদস্য শেখর জ্যোতিকে আটক করেছে পুলিশ। তদন্তকারীরা সন্দেহ করছেন, গায়কের মৃত্যু শুধুই দুর্ঘটনা নয়, এর পেছনে জটিল আর্থিক ও পেশাগত টানাপোড়েন থাকতে পারে।

তল্লাশির পর সিদ্ধার্থের এই খোলাখুলি বিবৃতি নতুন করে আলোড়ন তুলেছে। অনুরাগীদের কাছে এটি যেমন কিছু প্রশ্নের উত্তর এনে দিল, তেমনই নতুন করে প্রশ্নও ছুড়ে দিল এই মৃত্যু রহস্যকে ঘিরে। তদন্ত চলছে, আর অসমবাসী এখন কেবল একটাই উত্তর খুঁজছেন— প্রিয় শিল্পীর মৃত্যুর আড়ালে আসল সত্যিটা কী?

ব্যালকনির উপর উড়ালপুল! নাগপুরের সেতু স্মরণ করাচ্ছে ভোপালের ৯০ ডিগ্রি রেলসেতুর ঘটনার কথা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *