জন্ডিসে ডিম-মাছ-মাংস বন্ধ করলেই কি দ্রুত সুস্থ হওয়া যায়?
জন্ডিস ধরা পড়লেই অনেক পরিবারে শুরু হয়ে যায় কড়া খাদ্যনিয়ম— ডিম, মাছ, মাংস বন্ধ, কম খাওয়া আর শুধু বিস্বাদ খাবারের উপর নির্ভরতা। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই ধারণা এখনও প্রচলিত। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই অভ্যাস রোগীকে দ্রুত সুস্থ করার বদলে উল্টে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি তৈরি করতে পারে।
জন্ডিস কোনও রোগ নয়
জন্ডিস আসলে একটি উপসর্গ, যেখানে রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যায়। এর কারণ হতে পারে ভাইরাল হেপাটাইটিস, লিভারের প্রদাহ, পিত্তনালির সমস্যা বা অন্য নানা শারীরিক জটিলতা। তাই সব রোগীর চিকিৎসা বা খাদ্যতালিকা এক রকম হয় না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্ডিসের কারণ বুঝে চিকিৎসা করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেই অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাসও নির্ধারণ করা উচিত।
প্রোটিন খাওয়া কি বন্ধ করতে হবে?
অনেকেই মনে করেন, ডিম, মাছ, মাংস বা দুধজাত খাবার খেলে লিভারের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। তবে হেপাটোলজিস্টদের মতে, অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রে এই ধারণার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
বরং পর্যাপ্ত প্রোটিন ক্ষতিগ্রস্ত লিভারের কোষ মেরামত, নতুন কোষ তৈরি এবং শরীরকে দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডাল, দুধ, দই, ডিম, মাছ কিংবা মুরগির মাংসের মতো সহজপাচ্য প্রোটিনযুক্ত খাবার খাওয়া যেতে পারে।
তবে গুরুতর লিভারের রোগ বা হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথি-র মতো জটিল অবস্থায় কিছু রোগীর ক্ষেত্রে প্রোটিন নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হতে পারে। এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র চিকিৎসকই নেবেন।
জন্ডিসে কী খাবেন?
জন্ডিসের সময় শরীরের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করা জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন—
- পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার
- ডাল, দুধ, দই
- ডিম, মাছ ও সহজপাচ্য মুরগির মাংস
- তাজা ফল ও সবজি
- হালকা ও সুষম খাবার
কী এড়িয়ে চলবেন?
জন্ডিসের সময় কিছু বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।
- মদ্যপান সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলুন।
- অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খান।
- বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানি পান করুন।
- অপরিষ্কার বা দূষিত খাবার এড়িয়ে চলুন।
- পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন।
নিজের সিদ্ধান্তে ডায়েট বদলাবেন না
বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্ডিস হলে নিজে থেকে খাবার বাদ দেওয়া বা কঠোর ডায়েট শুরু করা ঠিক নয়। রোগের কারণ, লিভারের অবস্থা এবং রোগীর শারীরিক পরিস্থিতি অনুযায়ী খাদ্যতালিকা নির্ধারণ করা উচিত।
অর্থাৎ, জন্ডিস মানেই ডিম-মাছ-মাংস বন্ধ— এই প্রচলিত ধারণা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সঠিক নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সুষম খাবার, পর্যাপ্ত প্রোটিন, যথেষ্ট পানি এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামই দ্রুত সুস্থ হওয়ার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?