জঙ্গি দমনে পাকিস্তানের প্রশংসায় আমেরিকা, ভারতের সঙ্গে সুর ভিন্ন!

জঙ্গি দমনে পাকিস্তানের প্রশংসায় আমেরিকা! ইসলামাবাদে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় সন্ত্রাসবাদ দমন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে আমেরিকা ও পাকিস্তান। বৈঠকের পর দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে সন্ত্রাস মোকাবিলায় পাকিস্তানের ‘অবদান’ ও…

August 13, 2025
1 min read

জঙ্গি দমনে পাকিস্তানের প্রশংসায় আমেরিকা!

ইসলামাবাদে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় সন্ত্রাসবাদ দমন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে আমেরিকা ও পাকিস্তান। বৈঠকের পর দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে সন্ত্রাস মোকাবিলায় পাকিস্তানের ‘অবদান’ ও ‘সাফল্য’কে বিশেষভাবে প্রশংসা করেছে আমেরিকা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, শুধু নিজেদের দেশের নিরাপত্তা নয়, গোটা বিশ্বের শান্তি রক্ষায়ও পাকিস্তানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

বিবৃতিতে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, “সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তান ধারাবাহিকভাবে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে এবং এতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও পাকিস্তানের সাফল্য চোখে পড়ার মতো।” একই সঙ্গে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদী হামলায় নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের হতাহতের ঘটনায় গভীর সমবেদনা জানিয়েছে আমেরিকা।

জাফর এক্সপ্রেসে হামলা ও খুজদারের একটি স্কুলে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দুই দেশই।

এই পটভূমিতে উঠে আসছে একাধিক প্রশ্ন—ভারতের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক কি নতুন করে ধাক্কা খেল? কারণ, ভারত বহুদিন ধরেই দাবি করে এসেছে যে পাকিস্তানই আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠীগুলিকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মতো অভিযানে সেই দাবিকে আরও জোরালো করেছে দিল্লি। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক অবস্থান যেন ভারতের সেই দাবিকে পাশ কাটিয়ে পাকিস্তানকেই সন্ত্রাসবিরোধী ‘অগ্রণী যোদ্ধা’ হিসেবে তুলে ধরেছে।

সম্প্রতি পাকিস্তান-আমেরিকা সম্পর্কও দৃশ্যত ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। খনিজ তেলের বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয়েছে দুই দেশের মধ্যে। অন্যদিকে, রাশিয়া থেকে তেল আমদানির পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের উপর শুল্ক আরোপ করেছে আমেরিকা। এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের (ভারত-আমেরিকা) মধ্যে বাণিজ্যিক টানাপোড়েনও মাথা চাড়া দিচ্ছে।

এই প্রেক্ষিতে আবার উঠে এসেছে পাকিস্তানি সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সাম্প্রতিক মার্কিন সফরের প্রসঙ্গ। মাত্র দুই মাসে দু’বার তিনি আমেরিকা সফর করেছেন। সেই সময় তিনি এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন, “আমরা একটি পরমাণু শক্তিধর দেশ। যদি আমরা ধ্বংসের দিকে এগোই, তবে অর্ধেক বিশ্বকে সঙ্গে নিয়েই তা ঘটবে।” ভারত এই হুমকিকে গুরুত্ব দিয়ে নিন্দা করলেও, আমেরিকার তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

এছাড়া, ঠিক এই সময়েই আমেরিকা বালোচ বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মি’ এবং তাদের সহযোগী ‘মজিদ ব্রিগেড’-কে বিদেশি জঙ্গি সংগঠন হিসাবে চিহ্নিত করেছে, যা আবার পাকিস্তানের প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের সমর্থনের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ভারতের কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে—সন্ত্রাস দমন নিয়ে আমেরিকার এই অবস্থান কৌশলগত না কি রাজনৈতিক? আর এই পরিস্থিতিকে নিজেদের স্বার্থে কাজে লাগাতে পাকিস্তান যে সচেষ্ট, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

কয়েক সপ্তাহ ধরে নতুন অভ্যাস শুরু করেছেন সোহা আলি খান, শরীর ভালো রাখতে খালি পেটে কী খান তিনি?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *