ছত্তীসগঢ়ে মাওবাদীদের হাতে মহিলা খুন, পুলিশের ‘চর’ সন্দেহে বস্তারে খুনের ঘটনা

ছত্তীসগঢ়ে মাওবাদীদের হাতে মহিলা খুন ছত্তীসগঢ়ের বিজাপুর জেলায় পুলিশের গুপ্তচর সন্দেহে এক মহিলাকে শ্বাসরোধ করে খুন করার অভিযোগ উঠেছে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে বাসগুড়া থানার অন্তর্গত…

December 7, 2024
0 min read

ছত্তীসগঢ়ে মাওবাদীদের হাতে মহিলা খুন

ছত্তীসগঢ়ের বিজাপুর জেলায় পুলিশের গুপ্তচর সন্দেহে এক মহিলাকে শ্বাসরোধ করে খুন করার অভিযোগ উঠেছে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে বাসগুড়া থানার অন্তর্গত তিমাপুর গ্রামে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়। এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, কারণ এটি মাওবাদী গোষ্ঠীর ক্রমাগত হামলার মধ্যে আরও একটি সংযোজন।

খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ ঘরের মধ্যে থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে এবং তা ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, শুক্রবার রাতে কয়েকজন মাওবাদী আচমকা লক্ষ্মী পদম নামে এক মহিলার বাড়িতে ঢুকে পড়েন। এরপর তারা পরিবারের সদস্যদের সামনে শ্বাসরোধ করে লক্ষ্মীকে হত্যা করে। হত্যার পর, মাওবাদীরা মৃতদেহটি বাড়ির কাছেই ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

মহিলা লক্ষ্মী পদম একটি অঙ্গনওয়াড়িতে কাজ করতেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ অনুমান করছে, মাওবাদীরা লক্ষ্মীকে পুলিশের ‘চর’ সন্দেহে খুন করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে যে, খুনের পর ঘটনাস্থল থেকে একটি লিফলেট উদ্ধার করা হয়। সেই লিফলেটে লক্ষ্মীকে পুলিশের গুপ্তচর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, যা মাওবাদীদের হত্যার মূল কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

পুলিশ মাওবাদীদের খোঁজে বস্তারের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। এ বছরটি চলাকালীন, শুধুমাত্র বস্তার ডিভিশনে মাওবাদীদের হাতে ৬০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে অনেকেই পুলিশের ‘চর’ সন্দেহে খুন হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ মাওবাদীদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযানে লিপ্ত, কিন্তু মাওবাদীরা পালিয়ে গিয়ে নিজেদের আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে।

মাওবাদী উপদ্রুত বস্তারের বিভিন্ন জেলার পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সম্প্রতি, লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই যৌথ বাহিনীর পক্ষ থেকে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। এর পাশাপাশি, পিএলজিএ যোদ্ধারা কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের বিরুদ্ধে ‘ট্যাকটিক্যাল কাউন্টার অফেন্সিভ ক্যাম্পেন’ (টিসিওসি) চালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষও বেড়েছে। বিজাপুর, কাঁকের, দন্তেওয়াড়া এবং নারায়ণপুরের মতো এলাকায় সংঘর্ষের জেরে বেশ কিছু প্রাণহানি ঘটেছে।

তবে, এই সব ঘটনার মধ্যে মাওবাদীদের কাছে পুলিশের গুপ্তচর হিসেবে চিহ্নিত হওয়া মানুষের জীবন বিপন্ন হয়ে উঠছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তারা যেখানেই পুলিশের জন্য কাজ করছেন, সেখানেই মাওবাদীরা তাদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। খুনের পর মাওবাদীরা নির্দিষ্ট এলাকার জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে এবং তাদের নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে।

এখন পর্যন্ত, মাওবাদীরা এই ধরনের হামলা এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেনি। তবে, পুলিশ তাদের খোঁজে বস্তারের বিভিন্ন গ্রামে তল্লাশি চালাচ্ছে এবং মাওবাদী গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত। পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত চালানো হবে এবং খুনের ঘটনায় যুক্ত অপরাধীদের শনাক্ত করা হবে।

এটি মাওবাদী সংঘাতের অন্ধকার অধ্যায়ের একটি নতুন পর্ব হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যেখানে পুলিশের সঙ্গে সম্পর্কিত সন্দেহের কারণে নিরীহ মানুষদের প্রাণ দিতে হচ্ছে। জনজীবন এখন ভয় এবং আতঙ্কের মধ্যে কাটছে, আর পুলিশের কাছে এই ধরনের সন্ত্রাসী হামলার চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *