চুঁচুড়া থেকে ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে!
ফুটবলের প্রতি ভালবাসা মানুষকে কত দূর নিয়ে যেতে পারে, তারই এক অনন্য উদাহরণ Snehangshu Dutta। চুঁচুড়ার এই তরুণ এবার ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে চলেছেন। বিশ্বের প্রায় ১০ লাখ আবেদনকারীর মধ্যে থেকে তাঁকে বেছে নিয়েছে FIFA। আসন্ন বিশ্বকাপে তিনি থাকবেন অফিসিয়াল ভলান্টিয়ার হিসেবে।
বর্তমানে আমেরিকার ডালাসে কর্মসূত্রে থাকেন স্নেহাংশু। পেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হলেও তাঁর আসল পরিচয় ফুটবলপ্রেমী। বিশেষ করে তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ Mohun Bagan Super Giant এবং আর্জেন্টিনা সমর্থক। ফুটবলের প্রতি সেই আবেগ থেকেই গত বছর অনলাইনে আবেদন করেছিলেন বিশ্বকাপের স্বেচ্ছাসেবক হওয়ার জন্য। তবে এত বড় সুযোগ যে সত্যিই মিলবে, তা তিনি নিজেও ভাবেননি।
স্নেহাংশুর কথায়, প্রথমে একটি অনলাইন পরীক্ষা হয়েছিল। কয়েক মাস পরে ফল প্রকাশ হয়। তারপর নির্বাচিত প্রার্থীদের মুখোমুখি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। সেখানে ফুটবল সম্পর্কে ধারণা, দলগত ভাবে কাজ করার দক্ষতা, ভাষাজ্ঞান এবং পেশাগত অভিজ্ঞতার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। সব ধাপ পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত ডালাসের জন্য নির্বাচিত হন প্রায় ছ’হাজার জন স্বেচ্ছাসেবক। তাঁদের মধ্যেই রয়েছেন এই বাঙালি তরুণ।
বিশ্বকাপে স্নেহাংশুকে রাখা হয়েছে ‘হোস্ট সিটি ম্যানেজমেন্ট’-এর দায়িত্বে। যদিও ঠিক কোন বিভাগে বা কোথায় কাজ করতে হবে, তা এখনও জানানো হয়নি। স্টেডিয়ামের ভিতরে, ফ্যান পার্কে কিংবা কোনও দলের শিবিরেও দায়িত্ব পড়তে পারে। ৬ জুন থেকে শুরু হবে তাঁর কাজ।
তবে এই দায়িত্বের সঙ্গে যেমন গর্ব জড়িয়ে আছে, তেমনই রয়েছে কড়া নিয়মও। ফুটবলারদের সঙ্গে ছবি তোলা, সই নেওয়া বা সমর্থকের মতো আচরণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমনকি বিশ্বকাপের ম্যাচ বিনামূল্যে দেখার নিশ্চয়তাও নেই। পুরো কাজটাই স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে। ফিফা শুধুমাত্র পরিচয়পত্র, কিটস এবং পরে একটি শংসাপত্র দেবে।
স্নেহাংশু জানিয়েছেন, তিনি সপ্তাহের কাজ সামলে মূলত সপ্তাহান্তে দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁর অফিসও এই বিষয়ে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে। কারণ, এটি শুধুই পেশাগত দায়িত্ব নয়, বরং তাঁর বহু দিনের স্বপ্নপূরণ।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে ভারতীয় ফুটবল দল না থাকলেও এক জন বাঙালি তরুণ দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাচ্ছেন। সেটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
বিশ্বকাপ চলাকালীন স্ত্রীকে নিয়ে একটি ম্যাচ দেখার পরিকল্পনাও করেছেন স্নেহাংশু। তবে তার বাইরেও তাঁর চোখে সবচেয়ে বড় আনন্দ— বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরের একেবারে কাছ থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করা।
চুঁচুড়ার এই তরুণ এখন আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল এবং আবেগপ্রবণ। ফুটবলের প্রতি ভালবাসাই তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে বিশ্বমঞ্চে।
স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা