রম্ভা-বরকুলের সৌন্দর্যে পুজোর ছুটি কাটান চারচাকায়
পুজোর ছুটি ঘনিয়ে এসেছে। ট্রেন বা বিমানের টিকিট কেটে রাখতে পারেননি? সমস্যা নেই! চারচাকার গাড়ি হলে আপনিও ছুটি কাটাতে পারেন এক অনন্য গন্তব্যে—ওড়িশার চিলিকা লেকের রম্ভা ও বরকুলে। পুরীর পাশাপাশি চিলিকার রূপ উপভোগের আরও রয়েছে এই মনোরম ঠিকানা, যেখানে পাহাড়ে ঘেরা উপহ্রদের সৌন্দর্য রঙিন ছবির মতো ফুটে ওঠে। কখনও গাঢ় সবুজ, কখনও ধূসর আভায় সেজে ওঠা এই দৃশ্যপটে সঙ্গী হয় সিগাল পাখিদের ঝাঁক।
কলকাতা থেকে প্রায় ৫৮২ কিলোমিটার দূরে গঞ্জাম জেলার রম্ভা এখন পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের জায়গা। চিলিকা লেকের বিস্তৃতি তিনটি জেলা—পুরী, খুরদা এবং গঞ্জাম জুড়ে। চার থেকে পাঁচ দিনের ছুটির পরিকল্পনা করলে রম্ভার পাশাপাশি বরকুল, গোপালপুর সৈকত শহর বা বন্যপ্রাণপ্রেমীদের জন্য বানিয়া-চিকিলি এলাকাও ঘুরে দেখা যায়।
ভ্রমণ শুরু করতে পারেন রাতে বা ভোরবেলায়। কলকাতা থেকে পথে প্রথম বিরতি হতে পারে কোলাঘাটে—যেখানে রাস্তার ধারে ধাবা, রেস্তোরাঁয় মেলে জমজমাট খাবার। তারপর একে একে খড়্গপুর, জলেশ্বর পেরিয়ে পৌঁছবেন বালেশ্বরে। চাইলে এখানে এক রাত কাটিয়ে ঘুরে নিতে পারেন চাঁদিপুর সৈকত, পঞ্চলিঙ্গেশ্বর পাহাড় এবং কুলডিহার অরণ্য। এখানে বিশালাকৃতির কাঠবিড়ালি, হাতির পাল এবং নানা প্রজাতির পাখি পর্যটকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ।
পথে কটক শহরেও রাত কাটানো যায়। সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মভিটে, চণ্ডীমাতার মন্দির বা মহানদীর ভিউ পয়েন্টে সময় কাটাতে পারেন। কটকের বদলে ভুবনেশ্বরেও থাকতে পারেন। উদয়গিরি-খণ্ডগিরি গুহা, লিঙ্গরাজ মন্দির দেখে হলে নতুন গন্তব্য হিসেবে যেতে পারেন তাপাংয়ে, যেখানে একটি পরিত্যক্ত খনি রূপ নিয়েছে ক্যানিয়নের মতো হ্রদে।
ভুবনেশ্বর থেকে জাতীয় সড়ক ধরে মাত্র তিন ঘণ্টায় পৌঁছে যাবেন রম্ভায়। এখানে চিলিকার গা ঘেঁষে থাকা পর্যটন দফতরের পান্থনিবাসেই থাকার সেরা ব্যবস্থা। ভোর বা বিকেলে মোটরবোটে চিলিকা ঘুরে দেখতে ভুলবেন না। ছোট্ট ব্রেকফাস্ট আইল্যান্ড, বার্ডস আইল্যান্ড বা ঘণ্টাশিলা দ্বীপে পাখিদের দেখা মিলবে ঝাঁকে ঝাঁকে।
রম্ভার পাশেই রয়েছে বরকুল। এখান থেকে ঘণ্টাখানেকের নৌভ্রমণে পৌঁছে যেতে পারেন চিলিকার বুকের কালিজাই মন্দিরে, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে স্থানীয় লোককথা। অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীরা বরকুলে জলক্রীড়ার সুযোগও পাবেন। অন্যদিকে বানিয়া-চিকিলিতে ভাগ্য ভাল হলে চোখে পড়তে পারে কৃষ্ণসার হরিণ।
নির্মলঝার মন্দির বা জগন্নাথ মন্দিরের মতো শান্ত জায়গায় ধ্যানস্থ হতে পারেন খল্লিকোটে। এরপর গোপালপুর সৈকতে কাটিয়ে নিতে পারেন অবসর বিকেল, যেখানে সমুদ্রতীরে উপভোগ করতে পারবেন টাটকা মাছ-কাঁকড়ার পদ।
থাকার জন্য রম্ভা, বরকুল, গোপালপুরে ওড়িশা পর্যটন দফতরের পান্থনিবাস রয়েছে। গোপালপুরে মিলবে বিলাসবহুল রিসর্টও। আর চিলিকার কাঁকড়ার স্বাদ নিতে ভুলবেন না!
যাওয়ার সেরা উপায় হল সড়কপথ। কলকাতা থেকে কোলাঘাট, খড়্গপুর, ভদ্রক, কটক, ভুবনেশ্বর হয়ে রম্ভা পৌঁছতে সময় লাগবে প্রায় ১২-১৩ ঘণ্টা। মনোরম প্রকৃতি আর পথের ছোট্ট বিরতিগুলো এই যাত্রাকে করে তুলবে আরও আনন্দময়।
ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ