চিন্নাস্বামী ট্র্যাজেডি!
একদিকে ছিল রাজকীয় উদ্যাপন, অন্যদিকে এক মর্মান্তিক ঘটনা। আইপিএল ট্রফি জয় করে দেশে ফিরে কোহলিরা যখন বেঙ্গালুরুর রাস্তায় বিজয় শোভাযাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখনই চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের বাইরে উন্মাদ জনসমাগমে ঘটে যায় বিভীষিকাময় দুর্ঘটনা। পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারান অন্তত ১১ জন, আহত বহু। এখন প্রশ্ন উঠেছে—এই মর্মান্তিক ঘটনার দায় কার?
মঙ্গলবার আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে প্রথমবারের মতো আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। সেই জয়কে স্মরণীয় করে রাখতে পরদিন বুধবার কোহলিদের জন্য আয়োজিত হয়েছিল এক বিশাল ‘ভিকট্রি প্যারেড’ এবং ট্রফি সেলিব্রেশন অনুষ্ঠান। পরিকল্পনা ছিল, প্রথমে বিধানসভা ভবনে কোহলিদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে, তার পরে হুডখোলা বাসে করে তাঁরা পৌঁছবেন চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে।
কিন্তু ঠিক দুপুর নাগাদ বেঙ্গালুরু পুলিশ জানায়, শহরে ব্যাপক যানজটের আশঙ্কায় তারা ‘ভিকট্রি প্যারেড’-এর অনুমতি দেবে না। সেই সময়েই, বিধানসভা ভবনে চলছিল কোহলিদের সংবর্ধনা, আর স্টেডিয়ামের বাইরে এক বিশাল জনসমুদ্র ততক্ষণে উত্তেজনায় ফেটে পড়েছে। অতিরিক্ত ভিড় সামলাতে না পেরে এক সময় মানুষের ঠেলাঠেলি শুরু হয় এবং মুহূর্তেই তা রূপ নেয় প্রাণঘাতী পদপিষ্ট কাণ্ডে।
এই দুর্ঘটনার পরে প্রশ্ন উঠছে—এই বিশৃঙ্খলার দায় কাদের? পুলিশ, আরসিবি নাকি কর্নাটক ক্রিকেট সংস্থা—কারও পরিকল্পনায় কি ছিল গাফিলতি? স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, অনুমতি না থাকলেও হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমিয়েছিলেন স্টেডিয়ামের বাইরে। অন্যদিকে আরসিবি কর্তৃপক্ষ এবং কর্নাটক স্টেট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, তাঁরা পরিস্থিতি আয়ত্তে আনার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ভিড় এতটাই ছিল যে সময়ের আগেই বিপর্যয় ঘটে যায়।
এখন এই ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে এবং কারা এর জন্য দায়ী, তা খুঁজে বের করতেই চেষ্টায় নেমেছে প্রশাসন। তবে মৃতদের পরিবারদের জন্য আরসিবি ও কেএসসিএ মিলিয়ে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছে—প্রতি পরিবারকে দেওয়া হবে ৫ লক্ষ টাকা করে।
এই ঘটনা দেশের ক্রীড়াজগতকে গভীর শোকের আবহে ঠেলে দিয়েছে। বিজয়ের মুহূর্তে এমন এক প্রাণঘাতী ট্র্যাজেডি যে কতখানি সতর্ক পরিকল্পনার প্রয়োজন ছিল, তা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। সব মিলিয়ে, কোহলিদের প্রথম ট্রফি জয়ের স্মৃতি যতটা ঐতিহাসিক, ততটাই রয়ে যাবে বিষাদের ছায়ায় ঢাকা এক অধ্যায় হিসেবে।
বাড়ির আতঙ্ক কাটিয়ে জীবন বদলের পথে করিনা: চুয়াল্লিশে পা দিয়েই নিলেন এক দৃঢ় সিদ্ধান্ত