চিকিৎসক থেকে আইএএস: অঞ্জলি গর্গের অনুপ্রেরণামূলক পথচলা

অঞ্জলি গর্গের অনুপ্রেরণামূলক পথচলা! জীবনে সাফল্যের সংজ্ঞা প্রত্যেকের কাছে আলাদা। কেউ পেশাগত স্থিরতাকেই চূড়ান্ত লক্ষ্য মনে করেন, আবার কেউ দেশের জন্য কিছু করার তাগিদে স্বাচ্ছন্দ্যের পথ ছেড়ে এগিয়ে যান। এমনই…

August 22, 2025
1 min read

অঞ্জলি গর্গের অনুপ্রেরণামূলক পথচলা!

জীবনে সাফল্যের সংজ্ঞা প্রত্যেকের কাছে আলাদা। কেউ পেশাগত স্থিরতাকেই চূড়ান্ত লক্ষ্য মনে করেন, আবার কেউ দেশের জন্য কিছু করার তাগিদে স্বাচ্ছন্দ্যের পথ ছেড়ে এগিয়ে যান। এমনই এক ব্যতিক্রমী কাহিনি অঞ্জলি গর্গের। চিকিৎসকের সাদা অ্যাপ্রন ছেড়ে তিনি বেছে নেন প্রশাসনিক দায়িত্ব। আজ তিনি একজন আইএএস অফিসার, আর তাঁর গল্প হাজার তরুণ-তরুণীর কাছে এক প্রেরণার আলো।

চণ্ডীগড়ের এক ব্যবসায়ী পরিবারে জন্ম অঞ্জলির। পরিবারে ব্যবসার ধারাই ছিল মূল, কিন্তু ছোট থেকেই তাঁর ঝোঁক ছিল পড়াশোনার দিকে। মেধার পরিচয় তিনি দেন দ্বাদশ শ্রেণিতেই, ৯৬ শতাংশ নম্বর পেয়ে। সেই সময়েই ঠিক করেন ডাক্তার হবেন। দেশের মানুষের চিকিৎসা করাকেই জীবনের ব্রত বানালেন তিনি। নিট পরীক্ষায় সাফল্যের পর ভর্তি হন সফদরজং মেডিক্যাল কলেজে এবং সফলভাবে ডাক্তারি পড়াশোনা শেষ করেন।

চিকিৎসক হিসাবে কেরিয়ার শুরু করার পরেই অঞ্জলির চোখে পড়ে দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবার সীমাবদ্ধতা। তিনি বুঝতে পারেন, রোগীদের পাশে দাঁড়ানো জরুরি হলেও শুধু চিকিৎসা নয়, পদ্ধতিগত পরিবর্তনও অত্যন্ত প্রয়োজন। সেখান থেকেই জন্ম নেয় নতুন স্বপ্ন— প্রশাসনিক দায়িত্ব নিয়ে বৃহত্তর মানুষের পাশে দাঁড়ানো। আর সেই পথেই এগোনোর জন্যই নেন ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি।

তবে সিদ্ধান্তটা সহজ ছিল না। সদ্য কেরিয়ার শুরু করেছেন, রাতদিন শিফটে কাজ করতে হচ্ছে হাসপাতালে। সফদরজং হাসপাতালে রাতের বারো ঘণ্টার শিফট শেষে বই হাতে নিয়ে তিনি পড়াশোনায় ডুবে যেতেন। কাজের মাঝেও ফাঁক পেলেই বই খুলতেন। শারীরিক ক্লান্তি, নিদ্রাহীনতা, অসুস্থতা— কোনও কিছুই তাঁকে দমাতে পারেনি। প্রথমবার পরীক্ষায় ব্যর্থ হলেও হাল ছাড়েননি অঞ্জলি।

কোভিডের সময় তাঁর দায়িত্ব আরও বেড়ে গিয়েছিল। রোগীদের চিকিৎসার পাশাপাশি পরিবারের অসুস্থ সদস্যদেরও সামলাতে হয়েছে তাঁকে। তবু স্বপ্ন থেকে সরে আসেননি। দ্বিতীয় প্রচেষ্টাতেই সাফল্য আসে। ২০২২ সালে ইউপিএসসি পরীক্ষায় ৭৯তম স্থান অর্জন করে যোগ দেন আইএএস হিসাবে। বর্তমানে তিনি হিমাচল প্রদেশের ধর্মশালায় সহকারী কমিশনার হিসেবে কর্মরত।

১৯৯৬ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া এই তরুণী প্রমাণ করেছেন, অধ্যবসায়, একাগ্রতা আর কঠোর পরিশ্রম থাকলে কোনও স্বপ্নই অধরা নয়। চিকিৎসক থেকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা— তাঁর যাত্রাপথ ছিল চ্যালেঞ্জে ভরা, কিন্তু অঞ্জলি দেখিয়েছেন অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে প্রতিটি বাধাই অতিক্রম করা যায়।

আজ অঞ্জলি গর্গ শুধু এক সফল অফিসার নন, তিনি এক অনুপ্রেরণা। অসংখ্য ছাত্রছাত্রী তাঁর গল্প শুনে নতুন করে স্বপ্ন দেখছে, জীবনের পথে সাহস পাচ্ছে। তাঁর সাফল্য যেন প্রমাণ করে— চেষ্টা থাকলে এবং লক্ষ্য যদি স্পষ্ট হয়, তবে রাতজাগা খাটুনি আর দিনভর পড়াশোনার প্রতিটি ফোঁটা ঘামই একদিন এনে দেয় কাঙ্ক্ষিত সাফল্য।

জিএসটি সংস্কার: শুধু ৫% আর ১৮% কর, মদ-সিগারেটে সর্বোচ্চ ৪০%

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *