সোনা কিনতেই গত অর্থবর্ষে ৬ লক্ষ কোটি টাকা খরচ ভারতের!
ভারতে সোনার প্রতি মানুষের আবেগ নতুন কিছু নয়। বিয়ে, উৎসব, পারিবারিক অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে সঞ্চয় ও বিনিয়োগ— সব ক্ষেত্রেই সোনার গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু চাহিদার তুলনায় দেশে উৎপাদন এতটাই কম যে, প্রায় পুরোপুরি আমদানির উপর নির্ভর করতেই হচ্ছে ভারতকে। আর সেই কারণেই গত অর্থবর্ষে বিদেশ থেকে সোনা কিনতে প্রায় ৬ লক্ষ কোটি টাকা খরচ করেছে দেশ।
অপরিশোধিত তেলের পর ভারতের সবচেয়ে বেশি আমদানি করা পণ্য এখন সোনা। প্রতি বছর দেশে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ টন সোনার চাহিদা থাকে। অথচ দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদন হয় মাত্র ২ থেকে ৩ টন। ফলে মোট চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশই মেটাতে হয় বিদেশ থেকে আমদানি করে।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারত প্রায় ৭২১ টন সোনা আমদানি করেছে। এর জন্য খরচ হয়েছে প্রায় ৭২০০ কোটি মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৬ লক্ষ কোটি টাকার কাছাকাছি। আগের বছরের তুলনায় সোনা আমদানির খরচও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় চলা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তার কারণে সোনার দাম দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার উপরও বাড়ছে চাপ। কারণ সোনা আমদানির জন্য বিপুল পরিমাণ ডলার খরচ করতে হয় ভারতকে।
World Gold Council-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মোট সোনার প্রায় ১১ শতাংশই রয়েছে ভারতীয় পরিবারগুলির হাতে। অনুমান করা হয়, ভারতীয়দের কাছে ২৫ হাজার থেকে ৩৪ হাজার টনেরও বেশি সোনা জমা রয়েছে। যার বাজারমূল্য ভারতের মোট জিডিপির প্রায় সমান।
ভারতে মূলত বিয়ের মরসুম এবং দীপাবলি বা ধনতেরাসের মতো উৎসবের সময় সোনার চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। দেশের আমদানিকৃত সোনার বড় অংশ আসে Switzerland থেকে। এছাড়াও United Arab Emirates এবং South Africa থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সোনা আসে।
শুধু সাধারণ মানুষই নয়, সোনা মজুত বাড়াচ্ছে Reserve Bank of India-ও। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা মাথায় রেখে গত কয়েক বছরে আরবিআই ডলারের বদলে সোনার ভান্ডার বাড়ানোর দিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। ২০২৫ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক পর্যন্ত ভারতের সোনা মজুত ছিল প্রায় ৮৮০ মেট্রিক টন।
তবে সম্প্রতি সোনা আমদানিতে কিছুটা ভাটা পড়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে যেখানে প্রায় ১০০ টন সোনা আমদানি হয়েছিল, মার্চে তা নেমে আসে ২০ টনের কাছাকাছি। এপ্রিল মাসে আমদানি হয় মাত্র ১৫ টন। কোভিড অতিমারি ছাড়া গত তিন দশকে এমন কম আমদানির নজির খুব কমই দেখা গেছে।
কেন্দ্রীয় সরকার এখন অপ্রয়োজনীয় সোনা কেনার উপর কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আনার পক্ষে। কারণ তেলের দাম বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক সংঘাত এবং আমদানি খরচ বাড়ার ফলে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রাভান্ডারের উপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। সেই কারণেই প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi দেশবাসীকে আপাতত প্রয়োজন ছাড়া সোনা কেনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা