ঘোষণাপত্রে ইউক্রেনের নাম নেই, তবু যুদ্ধ থামাতে মোদী-জিনপিঙের প্রস্তাব! কী বলল পুতিনের ক্রেমলিন

ঘোষণাপত্রে ইউক্রেনের নাম নেই! ব্রিক্‌সের ৪৫ পাতার যৌথ ঘোষণাপত্রে যুদ্ধ ও সংঘাতের বিরুদ্ধে বার্তা থাকলেও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সরাসরি উল্লেখ নেই। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উপস্থিতি এবং ভারত-রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা…

September 13, 2026
1 min read

ঘোষণাপত্রে ইউক্রেনের নাম নেই!

ব্রিক্‌সের ৪৫ পাতার যৌথ ঘোষণাপত্রে যুদ্ধ ও সংঘাতের বিরুদ্ধে বার্তা থাকলেও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সরাসরি উল্লেখ নেই। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উপস্থিতি এবং ভারত-রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা মাথায় রেখেই এমন কৌশলী অবস্থান নেওয়া হয়েছিল বলে মনে করছেন কূটনৈতিক মহলের একাংশ। এর মধ্যেই ক্রেমলিনের তরফে দাবি করা হয়েছে, ইউক্রেন সঙ্কটের সমাধানে সাহায্য করার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

রুশ সংবাদ সংস্থা তাস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নয়াদিল্লিতে ব্রিক্‌স সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনের সঙ্গে আলোচনার সময় মোদী ও জিনপিং এই প্রস্তাব দেন। দু’জনেই যুদ্ধের সমাধানসূত্র খুঁজে পেতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বলে দাবি ক্রেমলিনের। রুশ প্রেসিডেন্টও তাঁদের এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ।

পেশকভের বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনার সময় পুতিন ভারত ও চিনের নেতাদের রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যও দেন। তবে এই উদ্যোগ এখনও কোনও নির্দিষ্ট শান্তি-প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনও স্পষ্ট বার্তা মেলেনি।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে এর আগেও একাধিক বার আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে সওয়াল করেছেন মোদী। নয়াদিল্লি বরাবরই কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমে সংঘাতের অবসানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। অন্য দিকে, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে সক্রিয় হয়েছেন। ২০২৫ সালের ভারত-পাক সংঘাত-সহ একাধিক সংঘাত থামানোর কৃতিত্ব দাবি করার পর এবার ইউক্রেন সঙ্কটেও মধ্যস্থতার চেষ্টা করছেন তিনি।

সম্প্রতি ট্রাম্পের প্রতিনিধিদল রাশিয়া ও ইউক্রেন সফর করে শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখেছে। এমনকি রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক দিন আগে পুতিনকে ফোন করে যুদ্ধ বন্ধ করার আবেদনও জানান ট্রাম্প। আমেরিকা মধ্যস্থতা করলে ওয়াশিংটন ও মস্কোর সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হতে পারে বলেও তিনি পুতিনকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত যুদ্ধ থামানোর কোনও চূড়ান্ত সমাধান সামনে আসেনি।

এই পরিস্থিতিতে ভারতের অবস্থানও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মস্কোর সঙ্গে দীর্ঘ দিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি ইউক্রেনের সঙ্গেও কূটনৈতিক যোগাযোগ ধরে রেখেছে নয়াদিল্লি। ফলে দুই পক্ষের সঙ্গেই কথা বলার ক্ষেত্রে ভারত তুলনামূলক সুবিধাজনক জায়গায় রয়েছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

চিনও রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ফলে মোদী ও জিনপিং—দুই নেতার কাছ থেকেই একই ধরনের সহযোগিতার প্রস্তাব পাওয়াকে মস্কো কী ভাবে কাজে লাগায়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

যদিও ব্রিক্‌স ঘোষণাপত্রে ইউক্রেন যুদ্ধের নাম সরাসরি নেই, পুতিনের সঙ্গে পৃথক আলোচনায় শান্তির উদ্যোগের প্রসঙ্গ ওঠা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যুদ্ধের অবসানে শেষ পর্যন্ত ভারত, চিন না আমেরিকা—কার উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *