কেন জনপ্রিয় হচ্ছে ‘বায়োফিলিক’ অন্দরসজ্জা!
ব্যস্ত শহুরে জীবনে প্রকৃতির স্পর্শ যেন দিন দিন দূরে সরে যাচ্ছে। চারপাশে কংক্রিটের জঙ্গল, কাজের চাপ আর স্ক্রিনের দুনিয়ায় অনেকেই খুঁজছেন একটু শান্তির ঠিকানা। সেই কারণেই অন্দরসজ্জার জগতে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ‘বায়োফিলিক’ ডিজ়াইন— এমন এক ধারণা, যেখানে ঘরের ভিতরেই তৈরি করা যায় প্রকৃতির আবহ।
‘বায়োফিলিক’ শব্দটি এসেছে ‘বায়োফিলিয়া’ থেকে, যার অর্থ প্রকৃতির প্রতি মানুষের সহজাত টান। এই সাজসজ্জার মূল লক্ষ্য হল ঘরকে এমনভাবে গড়ে তোলা, যাতে সেখানে আলো, হাওয়া, সবুজ এবং প্রাকৃতিক উপাদানের উপস্থিতি বেশি থাকে। শুধু কয়েকটি টবের গাছ রাখলেই বায়োফিলিক সাজ সম্পূর্ণ হয় না। দেওয়ালের রং, আসবাবের ধরন, আলোর ব্যবহার— সবকিছুতেই থাকতে হয় প্রকৃতির ছোঁয়া।
আসলে এই ধারণা একেবারে নতুন নয়। বাংলার ঐতিহ্যবাহী বাড়িগুলিতে উঠোন, তুলসীমঞ্চ, খড়খড়ি দেওয়া জানলা বা ছোট বাগানের যে সংস্কৃতি ছিল, বায়োফিলিক সাজ অনেকটাই সেই ভাবনাকেই আধুনিক রূপে ফিরিয়ে আনে। আজকের ছোট ফ্ল্যাটেও বারান্দা, জানলার ধারে বা ঘরের একটি কোণকে সবুজে সাজিয়ে তোলা যায় সহজেই।
এই প্রবণতার সঙ্গে জুড়ে গিয়েছে আর একটি নতুন ধারণা— ‘মাইক্রো ক্লাইমেট’। এর অর্থ, ঘরের একটি নির্দিষ্ট অংশকে আলাদা পরিবেশে সাজানো। যেমন, একটি কোণে গাছপালা, নরম আলো, কাঠের আসবাব এবং ছোট জলধারার সাহায্যে এমন একটি জায়গা তৈরি করা যায়, যেখানে বসলে মনে হবে যেন প্রকৃতির মাঝখানে রয়েছেন। ঋতু বা মনের অবস্থার সঙ্গে মিলিয়ে সেই কোণের সাজও বদলে নেওয়া সম্ভব।
বায়োফিলিক সাজে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে গাছ। স্নেক প্ল্যান্ট, মানিপ্ল্যান্ট, জ়েড প্ল্যান্ট, পিস লিলি কিংবা পাম গাছ ঘরের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশকেও সতেজ রাখে। জানলার ধারে ছোট গাছের সারি, বারান্দায় ঝুলন্ত লতানো গাছ কিংবা কাজের টেবিলের পাশে সবুজের উপস্থিতি ঘরের আবহ অনেকটাই বদলে দিতে পারে।
আলোর ব্যবহারও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। দিনের প্রাকৃতিক আলো যত বেশি ঘরে প্রবেশ করবে, ততই ভাল। তার সঙ্গে উষ্ণ রঙের ল্যাম্প, ফেয়ারি লাইট বা সুগন্ধি মোমবাতি ব্যবহার করলে তৈরি হয় আরামদায়ক পরিবেশ।
বায়োফিলিক অন্দরসজ্জায় কাঠ, বাঁশ, পাট, বেত কিংবা পাথরের মতো প্রাকৃতিক উপাদান বেশি ব্যবহার করা হয়। দেওয়ালের রঙেও থাকে প্রকৃতির অনুপ্রেরণা— হালকা সবুজ, নীল, বেজ, ক্রিম বা বাদামি রঙের বিভিন্ন শেড ঘরে এনে দেয় প্রশান্তির অনুভূতি।
অনেকেই আবার বারান্দা বা ছাদে ছোট বাগান তৈরি করছেন। সুযোগ থাকলে সেখানে ফুল, ফল বা বনসাই গাছ লাগিয়ে প্রকৃতির আরও কাছাকাছি আসা যায়। কেউ কেউ ইনডোর ফাউন্টেনও ব্যবহার করেন, কারণ জলের মৃদু শব্দ মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
বায়োফিলিক আসলে শুধু ঘর সাজানোর একটি ট্রেন্ড নয়। এটি এমন এক জীবনধারা, যা মানুষকে প্রকৃতির সঙ্গে নতুন করে সংযোগ স্থাপন করতে শেখায়। শহরের ব্যস্ততার মাঝেও ঘরের মধ্যে যদি তৈরি করা যায় এক টুকরো সবুজ শান্তির আশ্রয়, তবে মন ও শরীর— দু’টিই তার সুফল পায়।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?