কমিশনের ওয়েবসাইটে ‘বিবেচনাধীন’!
নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে হঠাৎ করে তৈরি হওয়া প্রযুক্তিগত বিভ্রাটে মঙ্গলবার রাতে চরম বিভ্রান্তি ছড়াল ভোটারদের মধ্যে। অনেকেই অভিযোগ করেন, নিজের এপিক নম্বর দিয়ে সার্চ করলেই ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম ‘বিবেচনাধীন’ হিসেবে দেখাচ্ছিল—যদিও বাস্তবে তাঁরা চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
এই ঘটনার পর বহু ভোটার কমিশনের দফতরে ফোন করে অভিযোগ জানান। কেউ কেউ আবার সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। অনেকের দাবি, এমনকি ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম নিশ্চিত ছিল, তাঁদের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা দেখা যাচ্ছিল।
ঘটনার পর কমিশনের তরফে প্রথমে জানানো হয়, এটি একটি “প্রযুক্তিগত ত্রুটি” বা যান্ত্রিক সমস্যা।
ঘণ্টাকয়েকের মধ্যেই অবশ্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। মঙ্গলবার মধ্যরাতের পর কমিশন জানায়, ওয়েবসাইটের ত্রুটি ঠিক করে ফেলা হয়েছে এবং এখন আর চূড়ান্ত তালিকায় থাকা ভোটারদের ‘বিবেচনাধীন’ হিসেবে দেখানো হচ্ছে না।
⚙️ কী ছিল আসল সমস্যা?
তথ্য অনুযায়ী, ওয়েবসাইটে এপিক নম্বর দিয়ে সার্চ করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনেক নামকে ‘বিবেচনাধীন’ হিসেবে দেখানো হচ্ছিল। এর ফলে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক তৈরি হয়।
কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি ডেটা সিঙ্ক্রোনাইজেশনের সমস্যার কারণে ঘটেছিল এবং তা দ্রুত সমাধান করা হয়েছে।
📊 ভোটার তালিকা ও চলমান প্রক্রিয়া
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করে। সেই তালিকায় প্রায় ৬০ লক্ষ ৬ হাজারের বেশি ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারের উল্লেখ ছিল।
এই তালিকা যাচাই ও নিষ্পত্তির জন্য মোট ৭০৫ জন বিচারক দায়িত্বে রয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ধাপে ধাপে এই সমস্ত নামের নিষ্পত্তি করা হচ্ছে এবং পরবর্তী তালিকাগুলি পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করা হবে।
সোমবার রাতে প্রথম অতিরিক্ত বা সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করা হলেও, সেখানে কতজনের নাম যুক্ত বা বাদ পড়েছে তা কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়নি।
⚖️ ট্রাইবুনাল ব্যবস্থাও সক্রিয়
যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়বে, তাঁদের আপিল করার সুযোগ থাকছে। ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে রাজ্যের ২৩টি জেলার জন্য পৃথক ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়েছে। মোট ১৯ জন প্রাক্তন বিচারপতি এই ট্রাইবুনালগুলিতে দায়িত্ব পালন করছেন।
🧾 স্বস্তি ফিরলেও প্রশ্ন রয়ে গেল
ওয়েবসাইটের ত্রুটি মিটে গেলেও, এই ঘটনাকে ঘিরে ভোটারদের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক তৈরি হয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক তথ্যভান্ডারে এমন বিভ্রাট কীভাবে ঘটল?
কমিশনের দাবি, পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। তবে এই ঘটনার পর ডিজিটাল ভোটার পরিষেবার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।