শিলিগুড়িতে ‘আল্ট্রাটেক যশস্বী প্রধান!
দেশের মেরুদণ্ড শহরের চকমকে নয়, গ্রামেই রয়েছে তার প্রাণ। এই বিশ্বাসকে সামনে রেখেই শিলিগুড়ি জ়োনের ২০ জন পরিশ্রমী গ্রাম প্রধানকে ‘আল্ট্রাটেক যশস্বী প্রধান’ সম্মানে সম্মানিত করল দেশের এক নম্বর সিমেন্ট ব্র্যান্ড আল্ট্রাটেক।
গ্রামের নীরব নায়কদের স্বীকৃতি
যেখানে শহরের আলো ঝলমলে উন্নয়ন চোখে পড়ে সহজেই, সেখানে গ্রামে প্রতিদিন যারা নিঃশব্দে কাজ করে যাচ্ছেন, তাঁদের অবদান প্রায়ই থেকে যায় পর্দার আড়ালে। ঠিক সেইসব নীরব সৈনিকদের জন্যই আল্ট্রাটেক আয়োজন করল এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ—‘আল্ট্রাটেক যশস্বী প্রধান’।
উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার ও শিলিগুড়ি নিয়ে গঠিত শিলিগুড়ি জ়োন থেকে প্রায় ৪০০টি মনোনয়নের মধ্য থেকে কাজের গুণমানের ভিত্তিতে বেছে নেওয়া হয় ২০ জন গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানকে। তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় উত্তরীয়, স্মারক এবং সম্মাননাপত্র।
যে মঞ্চে গ্রাম উঠল মুখ্য ভূমিকায়
শিলিগুড়ির সূর্য গ্র্যান্ড হোটেলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান শুরু হয় প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রাক্তন যুগ্ম সচিব অমলকান্তি রায়, যিনি বলেন, “গ্রামই ভারতের আত্মা। পঞ্চায়েতের শক্তিশালী ভূমিকা ছাড়া দেশের উন্নয়ন কল্পনা করা যায় না।” তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে গ্রাম স্বনির্ভরতার গুরুত্ব এবং পঞ্চায়েত ব্যবস্থার ঐতিহাসিক পটভূমি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আল্ট্রাটেক সিমেন্টের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার দেবেশ তিওয়ারি, বিচারক দিব্যেন্দু সরকার, সমাজকর্মী কৌশিক দাস এবং অধ্যাপক সুমন কোনার। সঞ্চালনায় ছিলেন অংশুমান চক্রবর্তী।
‘আল্ট্রাটেক’ কেন এই উদ্যোগ নিল?
আল্ট্রাটেক বিশ্বাস করে, “গ্রাম গড়লে দেশ এগোবে।” সেই কারণেই শুধু শহর নয়, গ্রামের পরিকাঠামো উন্নয়নেও তারা দৃঢ়ভাবে পাশে থাকতে চায়। শিলিগুড়ি জ়োনের এই অনুষ্ঠানে তারা সেই প্রতিশ্রুতিকেই বাস্তব রূপ দেয়। আল্ট্রাটেকের এই সম্মাননা তাঁদের শুধু কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উপায় নয়, বরং ভবিষ্যতে আরও ভাল কাজের অনুপ্রেরণাও।
বিজয়ীদের কণ্ঠে আশার বার্তা
পাথরঘাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মহম্মদ শহীদ বলেন, “এই সম্মান ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজ করতে শক্তি জোগাবে।” প্রত্যেক পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রধান তাঁদের বক্তব্যে গ্রামের উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কেউ বললেন পানীয় জলের ব্যবস্থা, কেউ বললেন স্বাস্থ্য পরিষেবা, কেউ আবার গ্রামের মহিলাদের স্বনির্ভর গড়ার কথা।
উপসংহার:
এই ‘যশস্বী প্রধান’ সম্মান শুধু একটি পুরস্কার নয়, এটা এক উপলব্ধি—গ্রাম প্রধানেরা দেশের অগ্রগতির প্রথম সারির সৈনিক। তাঁদের হাতে শক্তিশালী গ্রাম মানেই এক শক্তিশালী ভারত। আল্ট্রাটেকের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে দেশের গ্রামীণ রূপান্তরের পথচলায় এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
‘লুক’ ফিরল, জয়ের ইঙ্গিত? হার্দিক পাণ্ড্যের রূপ বদল ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে