গুলমার্গের পর আখনুরে জঙ্গি হামলা
জম্মু ও কাশ্মীরের আখনুরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালাল একদল জঙ্গি। সোমবার সকাল ৭টার দিকে বালতাল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আচমকা তিন জন জঙ্গি সেনার গাড়ির দিকে গুলি ছুঁড়তে শুরু করলে, সেনাবাহিনীও তাদের পক্ষ থেকে পাল্টা জবাব দেয়। যদিও এখনও পর্যন্ত এই হামলায় কোনও হতাহতের খবর মেলেনি, কিন্তু পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে সেনাবাহিনী তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে।
সেনা সূত্রে জানা গেছে, হামলার খবর পাওয়ার পরেই স্থানীয় এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। জঙ্গলের মধ্যে জঙ্গিদের খোঁজে ব্যাপক তল্লাশি শুরু হয়। গত কয়েক দিন ধরে জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি হামলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
গত ২৪ অক্টোবর বারামুলায় সেনার একটি গাড়িতে জঙ্গি হামলায় দুই সেনা জওয়ান ও দুই অসামরিক কর্মী নিহত হন। এর আগে, ২০ অক্টোবর গান্ডেরবাল জেলার শ্রীনগর-লেহ জাতীয় সড়কে একটি নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গের কাছে জঙ্গি হামলায় মৃত্যু হয়েছিল ছয় নির্মাণ শ্রমিকের। এই সমস্ত ঘটনার পর থেকেই জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
হামলার পর তৎক্ষণাৎ সেনাবাহিনী এবং পুলিশের ‘কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স উইং’ একত্রে যৌথ অভিযান শুরু করেছে। শ্রীনগর, গান্ডেরবাল, কুলগাম, বদগাম, অনন্তনাগ ও পুলওয়ামায় চলছে তল্লাশি অভিযান। বুধবার পুঞ্চে সেনাবাহিনী নিষিদ্ধ সন্ত্রাসবাদী সংগঠন লস্কর-ই-তইবা (এলইটি)-র একটি শাখার ঘাঁটি ধ্বংস করেছে। কিন্তু তবুও একের পর এক জঙ্গি হামলার ঘটনা প্রশাসনের কাছে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এখন প্রশ্ন উঠছে, কেন এই হামলা আবারও হচ্ছে এবং জঙ্গিদের কার্যকলাপ কিভাবে ঠেকানো যাবে? স্থানীয় মানুষজন এ ব্যাপারে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করছেন যেন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষও নিজেদের নিরাপত্তার জন্য চিন্তিত।
এদিকে, স্থানীয় প্রশাসন এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে তা নজরে রাখা হচ্ছে। জঙ্গিদের বিরুদ্ধে একযোগে অভিযান চালানোর জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর প্রস্তুতি জারি রয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী আশা করছে, দ্রুতই অভিযুক্ত জঙ্গিদের ধরতে তারা সফল হবে এবং এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হবে।
জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সন্ত্রাসবাদের মোকাবেলা করতে হলে সরকারের তরফ থেকে আরও কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক হামলার ফলে প্রমাণিত হয়েছে, চরমপন্থীরা এখনও সক্রিয় এবং তারা যে কোনও সময় আবারও আঘাত হানতে পারে। তাই প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীকে আরও সতর্ক থাকতে হবে।