গীতা ছুঁয়ে শপথ নিলেন এফবিআই প্রধান কাশ পটেল!
আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের প্রধান হিসাবে শপথ নিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত কাশ পটেল। এই প্রথম কোনও ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তি এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসলেন। তবে শপথগ্রহণের সময় তিনি যে ভগবৎ গীতা ছুঁয়ে শপথ নিলেন, তা বিশেষভাবে নজর কেড়েছে বিশ্ব রাজনীতির মহলে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কাশকে এই দায়িত্ব দেওয়ার পেছনে কী কারণ রয়েছে, সেটিও নিজেই ব্যাখ্যা করেছেন ট্রাম্প।
শনিবার হোয়াইট হাউসের ইইওবি ভবনে ভারতীয় চুক্তি কক্ষে আয়োজন করা হয় শপথগ্রহণের অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আমেরিকার অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি। উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। শপথ নেওয়ার সময় কাশের হাত রাখা ছিল ভগবৎ গীতার ওপর—এমন ঘটনা আমেরিকার ইতিহাসে বিরল।
কেন কাশ পটেলকেই বেছে নিলেন ট্রাম্প?
অনুষ্ঠানে কাশ পটেলকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়ে ট্রাম্প বলেন, “কাশকে আমি পছন্দ করি। এফবিআইয়ের সমস্ত এজেন্ট তাঁকে সম্মান করেন, এবং তিনি এই পদের জন্য সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি।” তাঁর মতে, কাশের উপস্থিতি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বাড়াবে। তবে কাশের নিয়োগ নিয়ে বিতর্কও রয়েছে।
কাশ পটেলের ভারতীয় শিকড়
৪৪ বছর বয়সী কাশ পটেলের পারিবারিক শিকড় ভারতের গুজরাতের আনন্দ জেলার ভদ্রন গ্রামে। প্রায় ৭০-৮০ বছর আগে তাঁর পরিবার উগান্ডায় পাড়ি দেন, পরে সেখান থেকে আমেরিকায় চলে যান এবং স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত থাকার সুবাদে কাশ জাতীয় নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে বিশেষজ্ঞ বলে পরিচিত।
সেনেটে কাশের জয় এবং বিতর্ক
বৃহস্পতিবার মার্কিন সেনেটে ভোটাভুটির মাধ্যমে এফবিআই ডিরেক্টর হিসেবে নির্বাচিত হন কাশ। ভোটের ফলাফল হয় ৫১-৪৯, যা বোঝায়, তাঁকে নিয়ে মতবিরোধ কম ছিল না। বিশেষত, দু’জন রিপাবলিকান সেনেটর কাশের নিয়োগের বিরোধিতা করেছিলেন। তাঁদের মতে, এফবিআইয়ের প্রধান হিসেবে এমন কাউকে রাখা উচিত, যিনি রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ। কিন্তু কাশের অতীত ঘাঁটলে দেখা যায়, তিনি একাধিক রাজনৈতিক মন্তব্য করেছেন এবং ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতির সমর্থনে সরব হয়েছেন।
এফবিআইয়ের ভবিষ্যৎ কাশের নেতৃত্বে
এফবিআই প্রধানের মেয়াদ সাধারণত ১০ বছর হয়। কাশ দায়িত্ব নেওয়ার পর সংস্থার কার্যপ্রণালীতে কী পরিবর্তন আসবে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, কাশ এফবিআইয়ের স্বচ্ছতা এবং কার্যকারিতা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন। অন্যদিকে, বিরোধীদের আশঙ্কা, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় কাশ প্রশাসনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণে কাজ করতে পারেন।
শেষ কথা
কাশ পটেলের এফবিআই প্রধান হওয়া আমেরিকার রাজনীতিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। গীতা ছুঁয়ে শপথ গ্রহণ করা যেমন তাঁর ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধার প্রকাশ, তেমনই ট্রাম্পের প্রতি তাঁর আনুগত্যেরও ইঙ্গিত দেয়। এখন দেখার বিষয়, তিনি এই দায়িত্ব কতটা দক্ষতার সঙ্গে পালন করেন এবং বিতর্ককে কীভাবে সামলান।
গবেষণার আড়ালে সামরিক পরিকল্পনা? সমুদ্রের গভীরে চিনের রহস্যময় কেন্দ্র ঘিরে উদ্বেগ