গাড়ির ভিতর থেকে দিনে শরীরে ঢুকছে ৬৮ হাজার প্লাস্টিকের কণা!
আজকাল বৃষ্টি ভেজা দিনে গাড়ি চাপা অনেকেরই ভালো লাগে। পছন্দের গান বাজছে, মনও খুশি, কিন্তু কি জানেন? আপনার গাড়ির ভিতরের বাতাসে এমন এক বিপদ লুকিয়ে আছে যা আপনি হয়ত কল্পনাও করেন না। শীতাতপ নিয়ন্ত্রক যতই চালান না কেন, গাড়ির ভিতরের বাতাস থেকে প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা শরীরে ঢুকে ফুসফুস ও শরীরের অন্যান্য অঙ্গকে ধ্বংস করছে। বাড়ির ভিতরের বাতাসে যেমন মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকে, গাড়ির ভিতরে তা অনেক গুণ বেড়ে যায়।
সম্প্রতি ফরাসি বিজ্ঞানীদের একটি গবেষণায় প্রকাশ পাওয়া গেছে, গাড়ির ভিতরের বাতাসে প্রতি ঘনমিটারে প্রায় ২,২৩৮টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা থাকে, যেখানে বাড়ির ভিতরে তা মাত্র ৫২৮টি। এর অর্থ হল, গাড়িতে বসে প্রতি দিন আপনি কমপক্ষে ৬৮ হাজার প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা শ্বাস নেন। এগুলো মূলত ১০ থেকে ৩০০ মাইক্রোমিটার আকারের, যা ফুসফুসের কোষে প্রবেশ করে সেগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এরপর রক্তের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে বিষাক্ত প্রভাব ফেলে।
এই ক্ষুদ্র কণা মস্তিষ্ক, লিভার, কিডনি এমনকি স্নায়ুতন্ত্রেও জমা হয়। তাই আজকাল লিভার বা কিডনির জটিল রোগ ও স্নায়ুবিক সমস্যার বৃদ্ধির পিছনে মাইক্রোপ্লাস্টিকের ভয়ঙ্কর ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। অনেকেই সুষম খাবার খান, ব্যায়াম করেন, মাদক–ধূমপান থেকে দূরে থাকেন; তবু কেন তারা অসুস্থ হচ্ছেন? এর বড় কারণ হতে পারে এই প্লাস্টিকের বিষাক্ত বাতাস।
বাঁচতে চান? তাহলে কিছু সতর্কতা নিতে হবে:
১. গাড়ির কেবিন এয়ার ফিল্টার ভালো মানের নির্বাচন করুন।
এই ফিল্টার গাড়ির বাইরে থেকে আসা ধুলো, মাইক্রোপ্লাস্টিক ও অন্যান্য ক্ষতিকর কণা বাতাস থেকে ছেঁকে পরিশোধিত বাতাস দিতে পারে।
২. গাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন।
ড্যাশবোর্ড, সিট, দরজার ভেতরের অংশ নিয়মিত মুছে ফেলুন। গাড়ির ভেতরের ধূলিকণা ও ময়লা জমতে দিইয়েন না।
৩. পোর্টেবল এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করতে পারেন।
অনেক আধুনিক পোর্টেবল এয়ার পিউরিফায়ার গাড়ির ভিতরে ব্যবহারযোগ্য, যা মাইক্রোপ্লাস্টিকসহ ক্ষতিকর কণা শোষণ করে।
৪. গাড়ির ভিতরে প্লাস্টিকের বোতল বা প্লাস্টিকের অন্যান্য জিনিস কম রাখুন।
সময় গেলে এগুলো ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে ক্ষুদ্র প্লাস্টিকের কণায় রূপান্তরিত হয়, যা বাতাসে মিশে যায়।
৫. অ্যাক্টিভেটেড কার্বন ফিল্টার সহ কেবিন ফিল্টার ব্যবহার করুন।
কিছু আধুনিক গাড়িতে এই ফিল্টার থাকে, যা দূষিত গ্যাস ও দুর্গন্ধ শোষণ করে, বাতাসকে আরও শুদ্ধ রাখে।
গাড়ি চালানোর সময় আমরা অনেকেই ভাবি, বাহিরের দুষণই সবচেয়ে বড় সমস্যা, কিন্তু গাড়ির ভিতরের বাতাসও কম বিপজ্জনক নয়। তাই সতর্ক হয়ে এই সহজ পদক্ষেপগুলো নিতে পারলেই আপনি নিজের এবং পরিবারের জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারবেন।
পরিবেশ দূষণ যতই বাড়ুক, আমরা যদি নিজের যত্ন না নেই, তবে এর প্রতিকূল প্রভাব থেকে বাঁচা অসম্ভব। তাই গাড়ি চালানোর সময় প্লাস্টিক দূষণের কথা মাথায় রেখে সচেতন হওয়া জরুরি। আর এই সচেতনতাই পারে আমাদের জীবনকে সুস্থ রাখতে।