গাজায় রাষ্ট্রপুঞ্জের ত্রাণবাহী ট্রাকের রক্ষীদের !
গাজা উপত্যকায় মানবিক ত্রাণ পৌঁছে দিতে গিয়ে এবার ঘটে গেল মানবতাবিরোধী এক ঘটনা। ইজরায়েলি সেনাদের ড্রোন হামলায় মারা গেছেন ছয়জন—এমন অভিযোগ উঠেছে গাজার স্বশাসিত কর্তৃপক্ষের তরফে। নিহতরা হলেন রাষ্ট্রপুঞ্জের ত্রাণবাহী ট্রাকের রক্ষী ও নিরাপত্তা কর্মীরা।
মানবিক সাহায্য হিসেবে খাদ্য, পানীয় জল, ওষুধ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম বহনকারী রাষ্ট্রপুঞ্জের এসব ট্রাকের নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হয়েছিল সশস্ত্র রক্ষীদের। গাজায় দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘর্ষের মাঝেও এই ত্রাণ পৌঁছানো ছিল এক কঠিন কাজ। কিন্তু শনিবার মধ্য গাজায় দেইর এল-বালাহ এলাকায় এ নিকৃষ্ট হামলার ঘটনা ঘটায় উদ্বেগ চরমে পৌঁছেছে।
রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবিক সহায়তা বিভাগের প্রধান টম ফ্লেচার উল্লেখ করেছেন, প্রায় আড়াই মাস ধরে গাজায় আন্তর্জাতিক ত্রাণের শতাধিক ট্রাক ঢুকেছে। কিন্তু উত্তরের এলাকা থেকে এখনও কোনও ত্রাণ পৌঁছতে পারেনি। কারণ, ওই অঞ্চলে ইজরায়েলি সেনারা প্যালেস্টাইনি বসতি উচ্ছেদ ও স্থল অভিযান চালাচ্ছে, যা ত্রাণ সরবরাহের পথে বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
ত্রাণ পরিবহণকারীদের সুরক্ষায় সশস্ত্র রক্ষীদের রাখা হয়েছিল, কারণ গাজায় এখন ত্রাণ লুটের ঘটনাও ঘটছে। এ কারণে স্বশাসিত কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কিন্তু তেল আভিভের দাবি, ওই সশস্ত্র রক্ষীরা আসলে হামাসের জঙ্গি, তাই তাদের লক্ষ্য করা হয়েছে।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজায় সংঘটিত বিক্ষোভ ও যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় ৭৬ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি ক্রমশই মানবিক সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা আইপিসি (ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্ল্যাসিফিকেশন) এই সপ্তাহে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গাজার প্রায় ২০ লাখ প্যালেস্টাইনি ভয়াবহ অপুষ্টির শিকার। পরিস্থিতি যদি এমনই চলতে থাকে, তবে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ১৪ হাজার শিশুর মৃত্যু হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপুঞ্জের এক রিপোর্ট।
এমন সংকটপূর্ণ সময়ই ত্রাণবাহী ট্রাকের রক্ষীদের ওপর হামলা চলে, যা শুধু গাজার মানুষের জন্য নয়, বিশ্ববাসীর জন্যও বড় ধাক্কা। আন্তর্জাতিক মহল দ্রুত গাজায় নিরাপদ ও অবাধ মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছে। অন্যদিকে, ইজরায়েল ও প্যালেস্টাইনের সংঘাত যেন শ্রীঘ্রই শান্তির দিকে এগোতে পারে, সেজন্য সব পক্ষের সংযম ও সংলাপ জরুরি বলে মত বিশ্লেষক ও কূটনীতিকদের।
আপনার জিমেল আইডি কি অন্য কেউ ব্যবহার করছে? সতর্ক না হলে বিপদ ডেকে আনতে পারেন!