গাজ়ার নাসের হাসপাতালে ইজ়রায়েলের হামলা: জখমদের মাঝেই নিভল এক প্রাণ

গাজ়ার নাসের হাসপাতালে ইজ়রায়েলের হামলা! ইজ়রায়েলের বোমার আঘাতে রক্তাক্ত হল গাজ়ার দক্ষিণ প্রান্তের বৃহত্তম হাসপাতাল। রবিবার রাতে নাসের হাসপাতালে যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত বহু মানুষ চিকিৎসাধীন, তখনই আকাশ থেকে নেমে আসে বিধ্বংসী…

March 24, 2025
1 min read

গাজ়ার নাসের হাসপাতালে ইজ়রায়েলের হামলা!

ইজ়রায়েলের বোমার আঘাতে রক্তাক্ত হল গাজ়ার দক্ষিণ প্রান্তের বৃহত্তম হাসপাতাল। রবিবার রাতে নাসের হাসপাতালে যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত বহু মানুষ চিকিৎসাধীন, তখনই আকাশ থেকে নেমে আসে বিধ্বংসী আক্রমণ। এই হামলায় প্রাণ হারান হামাসের অন্যতম শীর্ষ নেতা, যিনি ইজ়রায়েলের আগের হামলায় আহত অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

অগ্নিগর্ভ হাসপাতাল

হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রকের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থা এপি জানিয়েছে, জখমদের চিকিৎসার মধ্যেই ইজ়রায়েলি বাহিনীর হামলা চলে। হাসপাতালের সার্জিক্যাল উইংয়ে সরাসরি আঘাত হানে বোমা। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে, চারদিকে চিৎকার আর আতঙ্ক। বহু রোগী আগুনের তাপে নতুন করে আহত হয়েছেন। এক জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইজ়রায়েলের স্বীকারোক্তি

হামলার পরে ইজ়রায়েল ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ) জানায়, তাদের লক্ষ্য ছিল নির্দিষ্ট— হামাসের শীর্ষ নেতা। আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালীনও তিনি নাকি সেখান থেকেই ইজ়রায়েল-বিরোধী পরিকল্পনা চালাচ্ছিলেন। আইডিএফের দাবি, সাধারণ মানুষের ক্ষতি এড়াতে যথাসম্ভব সতর্ক ছিল তারা, তবে হামাসের কৌশলই এই ধ্বংসযজ্ঞের জন্য দায়ী।

নিহত নেতার পরিচয়

যদিও আইডিএফ নিহত নেতার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি, কিন্তু বিবিসি-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, নিহত ব্যক্তি হামাস নেতা ইসমাইল বারহুম। তিনি হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন এবং সংগঠনের অর্থনৈতিক দিকও দেখতেন। আগের এক আকাশ হামলায় আহত হওয়ার পর তিনি নাসের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

সাধারণ মানুষের অসহায়তা

যুদ্ধের তাণ্ডব কেবল রাজনৈতিক নেতাদের নয়, প্রভাব ফেলছে সাধারণ মানুষের জীবনেও। হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে গাজ়ায় প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর আবারও সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে।

নেতানিয়াহুর অটল অবস্থান

ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়েছেন, সকল পণবন্দিকে মুক্ত না-করা এবং হামাসকে সম্পূর্ণ নির্মূল না-করা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাবেন। আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা করেই তিনি যুদ্ধবিরতি ভেঙে পুনরায় আক্রমণ শুরু করেছেন বলে জানান।

মানবতার আর্তনাদ

যুদ্ধ কেবল রাজনীতির খেলা নয়, এর বলি হয় সাধারণ মানুষ। হাসপাতালের মতো মানবিক আশ্রয়স্থলও যখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়, তখন প্রশ্ন ওঠে— যুদ্ধের ন্যায্যতা কতটুকু? গাজ়ার আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী এবং হাসপাতালের ছিন্নভিন্ন দেয়াল যেন বিশ্ববাসীকে স্মরণ করিয়ে দেয়, শান্তি ছাড়া মানবতার আর কোনও পথ নেই।

কনকনে ঠান্ডায় লন্ডনে মমতা: বিলেতে শুরু ছয় দিনের কর্মসূচি!

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *