গরমের দিনে হুডিই ফাঁস করল খুনের ছক!
পুণের তরুণ ব্যবসায়ী কেতনবিশাল অগ্রবালের মৃত্যু প্রথমে দুর্ঘটনা বলেই মনে হয়েছিল পুলিশের। লোহাগড় দুর্গে বেড়াতে গিয়ে পাহাড়ের কিনারা থেকে পড়ে মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু তদন্ত যত এগিয়েছে, ততই সামনে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর খুনের অভিযোগ। আর সেই রহস্যভেদের অন্যতম বড় সূত্র হয়ে উঠেছে একটি হুডি।
পুলিশের দাবি, কেতনের বাগ্দত্তা সিয়া গয়াল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধরি মিলে এই খুনের পরিকল্পনা করেছিলেন। ঘটনাকে দুর্ঘটনা বলে দেখানোর চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁদের পরিকল্পনা সফল হয়নি।
১৮ জুন লোহাগড় দুর্গে বেড়াতে গিয়েছিলেন কেতন ও সিয়া। পরে প্রায় ৪৫০ ফুট গভীর খাদ থেকে কেতনের দেহ উদ্ধার করা হয়। প্রথম দিকে মনে করা হয়েছিল, ছবি তুলতে গিয়ে দুর্ঘটনাবশত তিনি নিচে পড়ে গিয়েছেন। কিন্তু তদন্তকারীদের সন্দেহ জাগে যখন সিয়ার বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে।
তদন্তের অংশ হিসেবে দুর্গে যাওয়ার রাস্তার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখতে শুরু করে পুলিশ। সেখানেই নজরে আসে এক যুবক, যিনি কেতন ও সিয়ার গাড়িকে অনুসরণ করছিলেন। তাঁর আচরণ যেমন সন্দেহজনক ছিল, তেমনই একটি বিষয় তদন্তকারীদের বিশেষভাবে ভাবায়—প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও তাঁর গায়ে ছিল একটি হুডি।
পুলিশের মতে, ওই সময় এমন পোশাক পরার কোনও যৌক্তিক কারণ ছিল না। তাই ওই যুবকের গতিবিধির উপর নজর বাড়ানো হয়। পরে দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশের একাধিক সিসিটিভি ফুটেজেও একই ব্যক্তিকে দেখা যায়। তদন্তে জানা যায়, সেই যুবক আর কেউ নন, সিয়ার প্রেমিক চেতন চৌধরি।
এরপর তদন্তের মোড় ঘুরে যায়। পুলিশ সিয়ার ফোন রেকর্ড, সামাজিক মাধ্যমের কার্যকলাপ এবং যোগাযোগের তথ্য খতিয়ে দেখে। সেখান থেকে সিয়া ও চেতনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রমাণ মেলে বলে দাবি তদন্তকারীদের।
জিজ্ঞাসাবাদে সিয়ার বক্তব্যে অসঙ্গতি আরও স্পষ্ট হতে থাকে। পুলিশের দাবি, শেষ পর্যন্ত চাপের মুখে তিনি ভেঙে পড়েন এবং কেতনকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেন।
তদন্তে আরও জানা যায়, আগামী নভেম্বর মাসে সিয়া ও কেতনের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। দুই পরিবারের সম্মতিতেই বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। এমনকি উদয়পুরে বিলাসবহুল আয়োজনও করা হয়েছিল। কিন্তু এরই মধ্যে সিয়া অন্য সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন বলে অভিযোগ।
পুলিশের দাবি, বালিতে প্রি-ওয়েডিং ফোটোশুটে যাওয়ার পরিকল্পনাও ইচ্ছাকৃত ভাবে ভেস্তে দেওয়া হয়েছিল। তদন্তকারীদের মতে, কেতনের হারানো পাসপোর্ট আসলে সিয়াই লুকিয়ে রেখেছিলেন। কারণ, তাঁর লক্ষ্য ছিল কেতনকে অন্যত্র নিয়ে গিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা।
তদন্তকারী সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, লোহাগড় দুর্গে এর আগেও এক বার কেতনকে নিয়ে গিয়েছিলেন সিয়া। সেই সময়ও খুনের চেষ্টা হয়েছিল বলে সন্দেহ পুলিশের। তবে তখন পরিকল্পনা সফল হয়নি।
এই ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের দোষী বলা যায় না। তবে একটি অস্বাভাবিক হুডি পরা যুবকের উপস্থিতিই যে গোটা রহস্য উন্মোচনের পথ খুলে দিয়েছিল, তা মানছেন তদন্তকারীরাও।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?