গরমের ছুটিতে পাহাড়ে যাচ্ছেন?
গরম পড়লেই অনেকের মন টানে পাহাড়ের দিকে। ঠান্ডা হাওয়া, মেঘে ঢাকা পথ, নিরিবিলি পরিবেশ— সব মিলিয়ে পাহাড় যেন গরমের ক্লান্তি দূর করার আদর্শ ঠিকানা। কিন্তু পর্যটনের ভরা মরসুমে ভুল গন্তব্য বেছে নিলে সেই স্বপ্নের ছুটি মুহূর্তে পরিণত হতে পারে ভোগান্তিতে। অতিরিক্ত ভিড়, দীর্ঘ যানজট, হোটেলের চড়া ভাড়া এবং পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় অনেক সময় পাহাড়ি শান্তিকে পুরোপুরি ম্লান করে দেয়।
তাই যদি সত্যিই শান্ত পরিবেশে ছুটি কাটাতে চান, তবে কিছু জনপ্রিয় শৈলশহর সম্পর্কে আগে থেকেই সতর্ক থাকা ভালো।
নৈনিতাল: সৌন্দর্যের সঙ্গে যানজটের সঙ্গী
উত্তরাখণ্ডের বিখ্যাত নৈনি হ্রদকে ঘিরে গড়ে ওঠা নৈনিতাল বছরের প্রায় সব সময়ই পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র। তবে গরমের ছুটিতে এখানে ভিড় এতটাই বেড়ে যায় যে শহরের সরু রাস্তা ও সীমিত পার্কিং ব্যবস্থা বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকার অভিজ্ঞতা অনেক পর্যটকেরই হয়েছে।
যদি এই অঞ্চলে যেতে চান, তবে নৈনিতালের পরিবর্তে ভীমতাল, কৌশানি, আলমোড়া বা মুন্সিয়ারির মতো অপেক্ষাকৃত শান্ত জায়গা বেছে নিতে পারেন।
মুসৌরি: সপ্তাহান্তে ভিড়ের চাপে নাজেহাল
দিল্লির কাছাকাছি হওয়ায় মুসৌরি সব সময়ই জনপ্রিয়। বিশেষ করে সপ্তাহান্ত বা দীর্ঘ ছুটির সময়ে পর্যটকদের ঢল নামে এখানে। কেমটি ফলস কিংবা মল রোডে হাঁটাও তখন কঠিন হয়ে ওঠে। অনেক সময় অল্প দূরত্ব পেরোতেও কয়েক ঘণ্টা লেগে যায়।
ভিড় এড়াতে চাইলে হরশিল, আউলি, কলসি বা থানো ভিলেজের মতো অপেক্ষাকৃত নিরিবিলি গন্তব্য বেছে নেওয়া যেতে পারে।
দার্জিলিং: পাহাড়ের রানিতে এখন ভিড়ের রাজত্ব
দার্জিলিং এখনও বাঙালির অন্যতম প্রিয় পাহাড়ি গন্তব্য। কিন্তু গরমের ছুটি ও পুজোর সময় এখানে পর্যটকের সংখ্যা এতটাই বেড়ে যায় যে পাহাড়ের শান্ত পরিবেশ অনেকটাই হারিয়ে যায়। এনজেপি থেকে দার্জিলিংয়ের পথে দীর্ঘ যানজট এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনা।
যাঁরা নির্জনতা খুঁজছেন, তাঁরা মূল শহর এড়িয়ে সিটং, তাকদা, বিজনবাড়ি বা আশপাশের ছোট গ্রামগুলিতে হোমস্টেতে থাকার পরিকল্পনা করতে পারেন।
শিমলা: জনপ্রিয়তার মাশুল
হিমাচল প্রদেশের রাজধানী শিমলা গরমের ছুটিতে কার্যত পর্যটকদের দখলে চলে যায়। লক্ষাধিক পর্যটকের ভিড়ে শহরের রাস্তাঘাট প্রায়ই অচল হয়ে পড়ে। ফলে পাহাড়ের প্রশান্তির বদলে সময় কাটে যানজটে।
এর বদলে লাহুল বা স্পিতির মতো কম ভিড়ের গন্তব্য অনেক বেশি উপভোগ্য হতে পারে।
মানালি: সৌন্দর্য আছে, ধৈর্যও চাই
মানালি বহু বছর ধরেই পরিবার, বন্ধুদের দল এবং নবদম্পতিদের প্রথম পছন্দ। কিন্তু জনপ্রিয়তার কারণেই এখানে যানজট ভয়াবহ আকার নেয়। অনেক পর্যটক অভিযোগ করেছেন, মাত্র কয়েক কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লেগেছে।
যদি হিমাচলেই শান্ত পরিবেশ চান, তবে তীর্থন ভ্যালি, শানগড় বা জিবির মতো জায়গা অনেক বেশি আরামদায়ক অভিজ্ঞতা দিতে পারে।
পাহাড়ে বেড়াতে যাওয়ার আসল উদ্দেশ্য যদি হয় প্রকৃতির মাঝে কিছুটা শান্তি খুঁজে পাওয়া, তবে শুধু জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে গন্তব্য নির্বাচন না করে একটু ভেবে-চিন্তে বিকল্প জায়গা বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। অনেক সময় কম পরিচিত পাহাড়ি গ্রামই সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতি উপহার দেয়।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?