গণপতি বিসর্জনে সলমনের সাহসী পদক্ষেপ!
সলমন খানের জীবনে হুমকি যেন নতুন কিছু নয়। লরেন্স বিশ্নোই গ্যাংয়ের আতঙ্কে গত বছর তাঁর মুম্বইয়ের বাড়িতে গুলি চালানো হয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকে বলিউডের ‘ভাইজান’কে ২৪ ঘণ্টা কড়া নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়েছে। এমনকি নিজের বাড়ির খোলা বারান্দাও ঢেকে ফেলেছেন বুলেটপ্রুফ কাচ দিয়ে। কিন্তু এত নিরাপত্তার ঘেরাটোপেও সলমন খান নিজের স্বভাবসিদ্ধ নির্ভীকতায় যেন এক বিন্দুও কমতি রাখেননি।
গণেশচতুর্থীর উৎসবে প্রতি বছরের মতো এবারও বাড়িতে ধুমধাম করে পূজা আয়োজন করেছিলেন সলমন। আর পূজা শেষে গণপতির মূর্তি নিয়ে বিসর্জনের সময়ও তিনি পিছিয়ে থাকেননি। বাড়ির বাইরে ঢাক-ঢোল বাজিয়ে, পরিবারের সঙ্গে নাচতে নাচতেই রওনা দেন সমুদ্র সৈকতের দিকে। তাঁর সঙ্গে উল্লাসে শামিল হয়েছিলেন বোন অর্পিতা খান শর্মা, ভগ্নিপতি আয়ুষ শর্মা, এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু-বান্ধব। এমনকি অভিনেত্রী সোনাক্ষী সিনহা ও জাহির ইকবালও সলমনের বাড়ির পূজায় অংশ নিয়েছিলেন।
তবে এই আনন্দঘন মুহূর্তের মাঝেও ছিল এক অদৃশ্য আতঙ্কের ছায়া। লরেন্স বিশ্নোই সম্প্রতি ফের হুমকি দিয়েছেন সলমনকে এবং প্রকাশ্যে বলেছেন, যে কেউ সলমনের সঙ্গে কাজ করলে তাঁকেও নিশানা বানানো হবে। প্রয়োজনে মুম্বইয়ের রাস্তায় ‘একে-৪৭’ চালানোর হুমকিও এসেছে তাঁর কাছ থেকে। কানাডায় কপিল শর্মার রেস্তরাঁয় হামলার দায় স্বীকার করার পর বিশ্নোই জানিয়েছিলেন, কপিলের অপরাধ একটাই— তিনি নিজের অনুষ্ঠানে সলমনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
এমন হুমকি এবং নিরাপত্তাজনিত চিন্তার মাঝেও সলমন যেন ভয়ের কাছে হার মানেননি। বলিউডের এই সুপারস্টার বরাবরই পরিবারকে সময় দেওয়ার জন্য পরিচিত। গণপতির আগমন থেকে বিদায় পর্যন্ত পরিবারের সঙ্গে প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেছেন তিনি।
সলমন খানের এই সাহসী পদক্ষেপ ভক্তদের মন জয় করেছে। তাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসা করছেন, কীভাবে মৃত্যুর হুমকি উপেক্ষা করেও তিনি নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস এবং ঐতিহ্যকে মর্যাদা দিচ্ছেন। সলমন নিজেও একাধিকবার বলেছেন, ভয় পেয়ে ঘরে বসে থাকলে জীবন উপভোগ করা যায় না। তাই হুমকি যতই থাকুক না কেন, তাঁর জন্য গণেশচতুর্থীর আনন্দ এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোই আসল শক্তি।
সলমনের এই ঘটনা যেন আবারও প্রমাণ করে, সত্যিকারের সাহস মানে শুধু বিপদের মুখে দাঁড়ানো নয়, বরং প্রিয়জনদের সঙ্গে প্রতিটি মুহূর্তকে নিঃশঙ্কচিত্তে উপভোগ করা।