খুব বেশি টিভি দেখলে কি শিশুর বুদ্ধির বিকাশ থমকে যেতে পারে?!
আজকাল অনেক শিশুই দিনের বেশির ভাগ সময় টিভি, মোবাইল বা ট্যাবের স্ক্রিনের সামনে কাটায়। অভিভাবকেরাও ব্যস্ততার কারণে শিশুদের ব্যস্ত রাখতে কার্টুন বা ছোটদের অনুষ্ঠান চালিয়ে দেন। কিন্তু জানেন কি, দীর্ঘ সময় টিভি দেখলে শিশুর মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে?
একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ১৮ মাস থেকে ৫ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুরা যদি প্রতিদিন অনেকক্ষণ টিভি দেখে, তবে তাদের ভাষা শেখার ক্ষমতা, চিন্তাভাবনার গতি এবং মনঃসংযোগের ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমনকি এটি তাদের সৃজনশীলতাও কমিয়ে দিতে পারে।
কী বলছে গবেষণা?
🔬 আমেরিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ এবং আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ পেডিয়াট্রিকস সম্প্রতি ৮৭২টি শিশুর উপর গবেষণা চালিয়েছে।
👉 ৬ মাস, ১ বছর ও ২ বছর বয়সি শিশুরা যদি দিনে ৩ ঘণ্টার বেশি টিভি দেখে, তবে তাদের মধ্যে নিম্নলিখিত সমস্যা দেখা দিতে পারে—
✔️ খেলাধুলায় আগ্রহ কমে যায়।
✔️ কথা বলার সময় সমস্যা হয়, ভাষা শেখার গতি কমে যায়।
✔️ চিন্তাভাবনার ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে।
✔️ নতুন জিনিস শেখার ক্ষমতা কমে যায়।
✔️ ঘুমের সমস্যা বাড়ে, অনিদ্রা দেখা দেয়।
✔️ উদ্বেগ ও অস্থিরতা বেড়ে যায়।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, যে শিশুরা বেশি সময় টিভি দেখে, তারা পড়াশোনায় মনোযোগ কম দেয় এবং ধৈর্য হারিয়ে ফেলে।
কোন বয়সে কতক্ষণ টিভি দেখা নিরাপদ?
আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ পেডিয়াট্রিকসের গবেষণায় শিশুর বয়স অনুযায়ী টিভি দেখার উপযুক্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে—
🟢 ১৮ মাসের কম বয়সে— টিভি দেখা একেবারেই উচিত নয়। তবে ভিডিয়ো কলে বাবা-মা বা পরিবারের সদস্যদের দেখা যেতে পারে।
🟡 ১৮ মাস থেকে ২ বছর বয়সে— দিনে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট টিভি দেখা যেতে পারে, তবে তা অবশ্যই শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান হতে হবে।
🟠 ২ থেকে ৫ বছর বয়সে— দিনে সর্বোচ্চ ১ ঘণ্টা টিভি দেখা যেতে পারে, তবে অভিভাবকের উপস্থিতিতে এবং শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান হলে ভালো।
🔴 ৫ বছরের বেশি বয়সে— দিনে সর্বোচ্চ ১.৫ থেকে ২ ঘণ্টা পর্যন্ত টিভি দেখা যেতে পারে, তবে তা অবশ্যই কন্টেন্ট ফিল্টার করে দেখতে হবে।
শিশুর টিভি দেখার সময় কমাতে কী করবেন?
✅ টিভির বিকল্প তৈরি করুন— শিশুর মনোযোগ আকর্ষণের জন্য গল্পের বই, খেলাধুলা, আঁকা বা সংগীতের দিকে উৎসাহ দিন।
✅ পরিবারের সময় বাড়ান— শিশুকে টিভির বদলে বাড়ির সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ দিন।
✅ টিভির সময় নির্দিষ্ট করুন— প্রতিদিন কতক্ষণ টিভি দেখা যাবে, তা ঠিক করে দিন এবং সেই নিয়ম মানার অভ্যাস তৈরি করুন।
✅ নিজের স্ক্রিন টাইম কমান— অভিভাবকরা যদি সারাক্ষণ টিভি বা মোবাইলের দিকে তাকিয়ে থাকেন, তবে শিশুরাও সেটাই অনুসরণ করবে।
শেষ কথা
শিশুর বুদ্ধির বিকাশের জন্য সঠিক বয়সে সঠিক পরিমাণে টিভি দেখা গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শিশুদের শিক্ষা, সামাজিক দক্ষতা ও সৃজনশীলতাকে ব্যাহত করতে পারে। তাই অভিভাবকদের উচিত টিভির বিকল্প তৈরি করে শিশুদের আরও বেশি বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার মধ্যে নিয়ে আসা। এতে তারা সুস্থ ও বুদ্ধিমানভাবে বেড়ে উঠবে!
গবেষণার আড়ালে সামরিক পরিকল্পনা? সমুদ্রের গভীরে চিনের রহস্যময় কেন্দ্র ঘিরে উদ্বেগ