পুরুষের সঙ্গে মিলনে ইচ্ছুক তরুণী
ব্রিটেনের ‘অনলি ফ্যানস’ তারকা লিলি ফিলিপস সম্প্রতি একটি বিতর্কিত চ্যালেঞ্জের ঘোষণা দিয়েছেন, যার মাধ্যমে তিনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাজার পুরুষের সঙ্গে সঙ্গম করে একটি নজির গড়তে চান। এই চ্যালেঞ্জের অংশ হিসেবে, তিনি ইতিমধ্যেই এক দিনে ১০১ জন পুরুষের সঙ্গে সঙ্গম করেছেন। তবে এই অভিজ্ঞতার পর লিলি নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন, যা বেশ কষ্টকর এবং যন্ত্রণাদায়ক ছিল।
লিলি ফিলিপস তার এই অভিজ্ঞতার বিষয়ে সম্প্রতি ইউটিউবার জোশ পিটার্সকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। ২৩ বছর বয়সি এই তরুণী জানিয়েছেন, প্রথমদিকে তিনি তার এই চ্যালেঞ্জ নিয়ে খুবই উত্তেজিত ছিলেন, তবে ১০১ জন পুরুষের সঙ্গে সঙ্গমের পর কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন।
কষ্টকর অভিজ্ঞতা
লিলি বলেন, “১০০ পুরুষের সঙ্গে সঙ্গম করা একেবারেই মুখের কথা নয়। পুরো বিষয়টি খুবই কষ্টকর ছিল।” তিনি আরও জানিয়েছেন যে, শুরুতে তিনি খুব বেশি ব্যথা অনুভব না করলেও, সঙ্গমের ৪০তম পুরুষের পর তিনি তীব্র ব্যথা অনুভব করেছিলেন। সেই সময় তিনি চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন, “এখনও তো অর্ধেকও হয়নি।”
লিলি তার অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি জানিয়েছেন যে, কয়েকজন পুরুষকে তাড়াতাড়ি ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য বলার সময় তার খারাপ লেগেছিল। এমনকি, কততম পুরুষের সঙ্গে সঙ্গম করছেন, তা তিনি নিজেও ভুলে গিয়েছিলেন।
‘রেকর্ড ব্রেকিং ইভেন্ট অফ দ্য ইয়ার’
এমন কষ্টকর অভিজ্ঞতার পরও, লিলি তার চ্যালেঞ্জ চালিয়ে যেতে চান এবং ২৪ ঘণ্টায় হাজার পুরুষের সঙ্গে সঙ্গম করে রেকর্ড গড়তে চান। তিনি জানিয়েছেন যে, তার সঙ্গে সঙ্গম করার জন্য সারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোক নিয়োগ করার কাজ শুরু হয়েছে। ইমেলের মাধ্যমে তিনি আবেদন গ্রহণ করছেন এবং এই আবেদন থেকে নির্বাচিত কিছু পুরুষকে তিনি এই বিশেষ দিনটির জন্য বেছে নেবেন।
এই ‘রেকর্ড ব্রেকিং ইভেন্ট’টি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আয়োজিত হবে, যার জন্য লিলি বিশেষ প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। এরই অংশ হিসেবে তিনি সম্প্রতি ১০১ জন পুরুষের সঙ্গে সঙ্গম করেছেন, যা তার জন্য একটি প্রস্তুতি হিসেবে কাজ করেছে।
ইতিহাসের রেকর্ড ভাঙার চেষ্টা
লিলি ফিলিপসের এই পরিকল্পনা নতুন নয়। ২০০৪ সালে পোল্যান্ডে লিসা স্পার্কস নামে এক পর্ন তারকা ২৪ ঘণ্টায় ৯১৯ জন পুরুষের সঙ্গে সঙ্গম করে একটি বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন। এই রেকর্ডটি এখন পর্যন্ত অক্ষত রয়েছে, এবং লিলি তার সেই রেকর্ড ভাঙার চেষ্টা করছেন। লিলি জানিয়েছেন, তিনি তার চ্যালেঞ্জে সফল হলে এই রেকর্ডটি ভেঙে দেবেন।
তবে, লিলির এই পরিকল্পনা এবং অভিজ্ঞতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্কও সৃষ্টি হয়েছে। কিছু মানুষ তার এই চ্যালেঞ্জকে অতি ব্যক্তিগত এবং অস্বাস্থ্যকর আচরণ হিসেবে দেখতে পারেন, তবে লিলি তার সিদ্ধান্তে অটল আছেন এবং নিজের লক্ষ্যকে বাস্তবে পরিণত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সঙ্গমের মাধ্যমে এক নতুন স্টেটমেন্ট
লিলির এই চ্যালেঞ্জ শুধু একটি রেকর্ড গড়ার বিষয় নয়, বরং এটি তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং শরীরের প্রতি তার অবস্থানকেও প্রকাশ করে। তিনি জানিয়েছেন, এই চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে তিনি নারীদের শরীর এবং সঙ্গমের ক্ষেত্রে নিজের মতামত প্রকাশ করতে চান। যদিও এটি একটি বিতর্কিত বিষয়, তবুও লিলি তার কাজের প্রতি যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী।
অবশ্যই, তার এই চ্যালেঞ্জ সামাজিক এবং নৈতিক প্রশ্ন তুলছে, তবে এটি কোনো সন্দেহের অবকাশ রাখে না যে, লিলি ফিলিপস একটি বড় ধরনের আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছেন। তিনি তার সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী পরিকল্পনার মাধ্যমে সমাজে একটি বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন, যা কিছু মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে, আবার অন্যদের মধ্যে তা উৎসাহ সৃষ্টি করেছে।