পুলিশের জেরায় সিয়া-চেতন একে অপরের দিকে তুলছেন আঙুল!
পুণের ব্যবসায়ী পরিবারের ছেলে কেতন অগ্রবালের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য। লোণাবলার লোহাগড় দুর্গ থেকে গত ১৮ জুন খাদে পড়ে কেতনের মৃত্যুর ঘটনাকে প্রথমে দুর্ঘটনা বলে মনে করা হলেও পরে তা খুনের অভিযোগে পরিণত হয়। বর্তমানে এই ঘটনায় গ্রেফতার কেতনের বাগ্দত্তা সিয়া গয়াল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধরীকে জেরা করছে পুলিশ। তবে তদন্তকারীদের দাবি, জেরার সময় দু’জনেই একে অপরের উপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, কেতনকে খুনের পরিকল্পনা প্রথম কার মাথায় এসেছিল, সেটাই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সিয়া এবং চেতনের বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। দু’জনেরই দাবি, তাঁরা খুনের পরিকল্পনাকারী নন। বরং অন্য জনই এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত।
ঘটনার সূত্রপাত ১৮ জুন। পুণের কাছে লোণাবলার লোহাগড় দুর্গে ঘুরতে গিয়ে খাদে পড়ে যান কেতন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বাগ্দত্তা সিয়া। প্রথম দিকে পুলিশ এটিকে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বলেই ধরে নিয়েছিল। কিন্তু কেতনের পরিবারের সন্দেহের পর তদন্তের গতিপথ বদলায়। পরে খুন ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ২৩ জুন সিয়া এবং চেতনকে গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, গত তিন বছর ধরে চেতনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল সিয়ার। সেই সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কেতনের সঙ্গে তাঁর বাগ্দান হয়। অভিযোগ, বিয়ের প্রস্তুতির মাঝেই কেতনকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়।
পুলিশের দাবি, কেতনকে খুনের চেষ্টা একাধিক বার করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত লোহাগড় দুর্গের ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়। তবে গ্রেফতারির পর নিজেদের বাঁচাতে সিয়া ও চেতন একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন।
জেরায় চেতন দাবি করেছেন, তিনি সিয়ার সঙ্গে পালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কেতনকে খুন করার পরিকল্পনা তাঁর ছিল না। তাঁর অভিযোগ, সিয়াই খুনের জন্য চাপ দিয়েছিলেন। অন্য দিকে, সিয়ার দাবি, পুরো পরিকল্পনার নেপথ্যে ছিলেন চেতন। এমনকি ১৪ জুনের একটি ব্যর্থ চেষ্টার পর চেতন কান্নাকাটি করেছিলেন বলেও তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন।
তদন্তকারীদের মতে, এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য আসলে আত্মপক্ষ সমর্থনের কৌশল। এক পুলিশ আধিকারিকের কথায়, দু’জনেই ষড়যন্ত্রের দায় একে অপরের উপর চাপানোর চেষ্টা করছেন। তবে তদন্তকারীদের হাতে এমন কিছু তথ্য রয়েছে, যাতে তাঁদের দু’জনের যোগসাজশের ইঙ্গিত মিলেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানতে পেরেছে, ৩১ মে থেকে ৪ জুনের মধ্যে পুণের একটি ক্যাফেতে সিয়া ও চেতনের দেখা হয়েছিল। ওই বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছিল, সেটিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। সেটি খুনের পরিকল্পনার অংশ ছিল কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে।
এখন পুলিশের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— কেতনকে সরিয়ে দেওয়ার ভাবনা প্রথম কার মাথায় এসেছিল? সেই উত্তর মিললেই এই রহস্যময় মৃত্যুকাণ্ডের অনেক জট খুলতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?