‘খবরের বাইরে এক শান্ত বাংলা’—মুর্শিদাবাদ ঘুরে নতুন চোখে রাজ্যকে দেখলেন বিনোদ খন্নার স্ত্রী কবিতা

মুর্শিদাবাদ ঘুরে নতুন চোখে রাজ্যকে দেখলেন বিনোদ খন্নার স্ত্রী কবিতা! পশ্চিমবঙ্গ মানেই রাজনীতি, উত্তেজনা আর অশান্তির খবর—এমনটাই ধারণা ছিল কবিতা খন্নার। কিন্তু মুর্শিদাবাদে পা রেখেই সেই ভাবনা বদলে গিয়েছে। সবুজে…

February 9, 2026
1 min read

মুর্শিদাবাদ ঘুরে নতুন চোখে রাজ্যকে দেখলেন বিনোদ খন্নার স্ত্রী কবিতা!

পশ্চিমবঙ্গ মানেই রাজনীতি, উত্তেজনা আর অশান্তির খবর—এমনটাই ধারণা ছিল কবিতা খন্নার। কিন্তু মুর্শিদাবাদে পা রেখেই সেই ভাবনা বদলে গিয়েছে। সবুজে ঘেরা প্রকৃতি, ধীরস্থির জীবন আর মানুষের উষ্ণতায় যেন একেবারে অন্য বাংলা চিনেছেন তিনি। ‘মুর্শিদাবাদ হেরিটেজ ফেস্টিভ্যাল’-এ যোগ দিতে এসে আনন্দবাজার ডট কম-কে কবিতা জানালেন, “আমি ভাবতেই পারিনি, এখানে এসে এমন শান্তি খুঁজে পাব। খবরে তো বাংলাকে শুধু রাজনৈতিক ঘটনার মধ্যেই দেখা যায়। বাস্তবে এসে বুঝলাম, গল্পটা একেবারেই আলাদা।”

প্রয়াত অভিনেতা বিনোদ খন্নার দ্বিতীয় স্ত্রী কবিতা খন্না বরাবরই সংযত ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে স্পষ্ট। তিনি কখনও অক্ষয় খন্নার ‘মা’ হয়ে ওঠার চেষ্টা করেননি, বরং সৌহার্দ্য বজায় রেখে দূরত্বের সম্পর্কেই স্বচ্ছন্দ। মুর্শিদাবাদ সফরে এসেই কথা বললেন অক্ষয়ের সাম্প্রতিক কাজ ‘ধুরন্ধর’ নিয়েও। উচ্ছ্বাস লুকোননি। বললেন, “অক্ষয় অসাধারণ অভিনেতা। ‘ধুরন্ধর’ আমি তিন বার দেখেছি, চতুর্থ বারও দেখতে যাব। ও আমার খুব প্রিয় অভিনেতা।”

তবে কথা ঘুরে ঘুরে বারবার ফিরে আসে বিনোদ খন্নার প্রসঙ্গে। স্বামীর কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন কবিতা। তাঁর চোখে বিনোদ শুধু সুদর্শন তারকা নন, একেবারে পরিপূর্ণ অভিনেতা। “ক্যামেরার বাইরের মানুষটাকে আমি খুব কাছ থেকে চিনতাম। তাই পর্দায় ওঁর অভিনয় দেখলে বুঝতে পারতাম, উনি কতটা গভীর শিল্পী,” বলেন কবিতা। স্মৃতির ঝাঁপি খুলে তিনি জানান, রাজস্থানে ঘুরতে গিয়ে বা শুটিংয়ের ফাঁকে গানের আসর বসত, সেখানে তিনিও গান গাইতেন। “‘আজ জানে কি জ়িদ না করো’ গানটা ও আমার জন্য গাইত। এই স্মৃতিগুলো আজও আমাকে ভাল রাখে,” বলেন তিনি।

মুর্শিদাবাদে এই ক’দিনে স্থানীয় খাবারও মন দিয়ে উপভোগ করেছেন কবিতা। জৈন সম্প্রদায়ের মানুষ হওয়ায় তিনি নিরামিষাশী। তবু শেহরওয়ালি খাবারের স্বাদ তাঁর বেশ লেগেছে। “মশলা আছে, কিন্তু ঝাল নয়। এই ধরনের স্বাদ আমার খুব পছন্দ। রসগোল্লা, মিষ্টি দইও খেয়েছি—দারুণ,” হাসিমুখে জানান তিনি। নবাবি ঐতিহ্য আর বণিক সংস্কৃতির মিশেলে তৈরি এই খাদ্যসংস্কৃতি তাঁর কাছে নতুন অভিজ্ঞতা।

মাত্র তিন দিনের সফর হলেও মুর্শিদাবাদ তাঁর মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। এখান থেকে শাড়িও কিনেছেন তিনি—কারণ বিনোদ খন্না তাঁকে শাড়িতেই সবচেয়ে বেশি পছন্দ করতেন। তাই আজও শাড়িই তাঁর প্রিয় পোশাক।

বিদায় নেওয়ার আগে কবিতা বলেন, “এখানে এসে আমার বাংলাকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গিয়েছে। ফের এলে সবার আগে আবার মুর্শিদাবাদেই আসব।” খবরের শিরোনামের বাইরে থাকা এক শান্ত, সৌন্দর্যময় বাংলার সঙ্গে এই প্রথম পরিচয়—আর সেই অভিজ্ঞতা তিনি ভোলার নন।

প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *