কোলোরেক্টাল ক্যানসার রুখতে ভিটামিন ডি কতটা জরুরি?
ক্যানসার মানেই ভয়। তবে ব্লাড ক্যানসার, স্তন ক্যানসার বা লিভার ক্যানসারের তুলনায় কোলোরেক্টাল ক্যানসার এখনও অনেকের কাছেই অচেনা নাম। কিন্তু বিশ্বজুড়ে এ রোগের প্রাদুর্ভাব দ্রুত বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বলছে, ২০০০ সাল থেকে কোলন (বৃহদন্ত্র) ও রেক্টামে (মলদ্বার) হওয়া এই ক্যানসারের ঘটনা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। উদ্বেগের বিষয় হল, এ নিয়ে সচেতনতার অভাব। মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত হলে অনেকেই অর্শ ভেবে অবহেলা করেন। ফলে রোগ ধরা পড়ে দেরিতে, আর তত দিনে চিকিৎসা কঠিন হয়ে যায়।
সাম্প্রতিক এক গবেষণা কিন্তু নতুন আশার কথা শোনাচ্ছে। গবেষকেরা বলছেন, শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি থাকলে কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ঝুঁকি প্রায় ৬০ শতাংশ কমে যায়। অর্থাৎ, ঠিক মাত্রায় ভিটামিন ডি থাকলে শরীরকে মারণ রোগ থেকে অনেকটাই সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।
ভিটামিন ডি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ’-এর একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভিটামিন ডি শুধু হাড় মজবুত করে বা স্নায়ুর স্বাস্থ্য রক্ষা করে না, বরং কোষের অস্বাভাবিক বিভাজনও রোধ করে। কোষ যখন নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাড়তে থাকে এবং নতুন রক্তজাল তৈরি হয়, তখন টিউমারের আশঙ্কা দেখা দেয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলা হয় অ্যাঞ্জিয়োজেনেসিস। ভিটামিন ডি এই অনিয়ন্ত্রিত কোষবৃদ্ধিকে আটকে ক্যানসারের ঝুঁকি হ্রাস করে।
গবেষণার চমকপ্রদ ফল
‘নেচার’ জার্নালে প্রকাশিত সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় ১০ হাজার মানুষের উপর পরীক্ষা চালানো হয়। দেখা গেছে, যাঁদের শরীরে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা প্রতি মিলিলিটারে ৮০ ন্যানোগ্রাম বা তার বেশি, তাঁদের কোলোরেক্টাল ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অন্তত ২৫ শতাংশ কম। অন্যদিকে, যাঁদের মাত্রা ১০ ন্যানোগ্রামের নিচে, তাঁদের ঝুঁকি অনেক বেশি।
তবে চিকিৎসকেরা সতর্ক করে দিয়েছেন—অতিরিক্ত ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট খেলে কোনও লাভ নেই, বরং ক্ষতি হতে পারে। তাই সঠিক মাত্রা বজায় রাখা জরুরি।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
আগে ষাটোর্ধ্ব মানুষদের মধ্যেই কোলোরেক্টাল ক্যানসার বেশি দেখা যেত। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। অল্প বয়সেই অনেকে আক্রান্ত হচ্ছেন, যার প্রধান কারণ—
- অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস
- শারীরিক পরিশ্রমের অভাব
- অতিরিক্ত মানসিক চাপ
- বাড়তি ওজন
- টাটকা খাবারের বদলে প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া
লক্ষণ যা অবহেলা করবেন না
- মলত্যাগের অভ্যাসে হঠাৎ পরিবর্তন
- ডায়রিয়া বা দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য
- মলের সঙ্গে রক্ত (অর্শের ক্ষেত্রে রক্ত লাল হয়, কিন্তু কোলোরেক্টাল ক্যানসারে সাধারণত রক্ত কালচে রঙের হয়)
- তলপেটে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা
- গ্যাসের ব্যথার মতো মোচড়ানো যন্ত্রণা
- অকারণ রক্তাল্পতা
এই উপসর্গগুলি দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
উপসংহার
ভিটামিন ডি কেবল হাড়ের সুরক্ষার জন্য নয়, ক্যানসার প্রতিরোধেও এক অদৃশ্য ঢাল হয়ে উঠতে পারে। তাই সূর্যের আলো, সুষম খাদ্য এবং সঠিক জীবনযাপনই হতে পারে কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ঝুঁকি কমানোর মূল উপায়। সচেতনতা আর সতর্কতাই বাঁচাতে পারে জীবন।