কোন পদ্ধতিতে পুরসভায় সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ? রাজ্যকে তথ্য চেয়ে সিবিআইয়ের নোটিস

সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার রাজ্যের পুরসভাগুলিতে স্থায়ী ‘সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার’ পদে নিয়োগ সংক্রান্ত একটি তদন্ত শুরু করেছে সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)। সিবিআই-এর দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিক মলয় দাসের নেতৃত্বে, একটি…

October 24, 2024
1 min read

সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার

রাজ্যের পুরসভাগুলিতে স্থায়ী ‘সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার’ পদে নিয়োগ সংক্রান্ত একটি তদন্ত শুরু করেছে সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)। সিবিআই-এর দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিক মলয় দাসের নেতৃত্বে, একটি নোটিস পাঠানো হয়েছে রাজ্যের ‘মিউনিসিপ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিরেক্টরেট’ (এমইডি)কে। ২০১৫ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত পুরসভাগুলিতে সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারের যে নিয়োগ হয়েছে, তা নিয়ে সিবিআই বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছে।

সিবিআই-এর প্রথম প্রশ্ন হলো, এমইডি কী পদ্ধতিতে এবং কীভাবে এসব নিয়োগ পরিচালনা করেছে। সিবিআই জানাচ্ছে, তাদের তদন্তের উদ্দেশ্য হলো এই পদগুলিতে নিয়োগের প্রক্রিয়া ও তার সঠিকতা নিশ্চিত করা। এর পাশাপাশি, নিয়োগের সময়সীমা এবং নির্দিষ্ট পদগুলির জন্য কোন কোন পুরসভা এমইডির কাছে প্রস্তাব দিয়েছেন কিনা, সে বিষয়ে তথ্যও জানতে চাওয়া হয়েছে।

মহানগরী ও বিভিন্ন পৌরসভার অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ‘সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার’ পদের গুরুত্ব অপরিসীম। এই পদে নিয়োগের মাধ্যমে পুরসভাগুলি তাদের প্রকল্পগুলি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়। সিবিআইয়ের নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এমইডির নিকট থেকে পুরসভাগুলিকে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তার ‘অফিস কপি’ও দাখিল করতে হবে।

সিবিআইয়ের দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো, এমইডির কাছে কোনও ‘প্রোপোজড লেটার’ পাঠানো হয়েছিল কি না। যদি পাঠানো হয়ে থাকে, তবে সেগুলি দেখতে চেয়েছে তারা। পুরসভাগুলি এবং এমইডির মধ্যে যোগাযোগের প্রক্রিয়াগুলির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিবিআই তাদের তদন্তের পরিধি বাড়াতে ‘মেজার্স এবিএস ইনফোজ়ন প্রাইভেট লিমিটেড’ নামক একটি সংস্থা সম্পর্কেও তথ্য চেয়েছে, যা সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারের নিয়োগের ক্ষেত্রে এমইডির কাছে আবেদন করেছে কিনা।

সিবিআইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, এমইডি-তে কোন ধরনের টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট পদের জন্য নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে কিনা। এই বিষয়গুলো চিহ্নিত করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, কারণ সরকারি প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম থাকলে তা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

মহানগরীর উন্নয়ন এবং নাগরিক সেবা প্রদানের জন্য এমইডির ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। এমইডি রাজ্যের পুরসভাগুলির উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে সহায়ক হিসেবে কাজ করে। সিবিআই-এর নোটিসে বলা হয়েছে, পূর্বে যে তথ্যগুলি ২২ অক্টোবর বেলা ১১টার মধ্যে জমা দেওয়ার কথা ছিল, পরে তা ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভা, যা এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত, তারা এমইডির কাছে দ্রুততম সময়ে তথ্য জমা দিতে প্রস্তুত হচ্ছে। সিবিআই এই তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে চায় যে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনও দুর্নীতি বা অনিয়ম ঘটেনি।

এমইডির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাঁরা সিবিআই-এর নোটিস গ্রহণ করেছেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য প্রস্তুত করছেন। এই বিষয়ে রাজ্য সরকারও সচেতন রয়েছে এবং তারা সিবিআই-এর সঙ্গে সহযোগিতা করছে। যেহেতু পুরসভাগুলির কাজকর্ম ও উন্নয়ন প্রকল্পগুলির সঙ্গে সরাসরি নাগরিকদের জীবনযাত্রা সম্পর্কিত, তাই এই বিষয়টি রাজ্য সরকারের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সিবিআই-এর এই তদন্ত যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে সরকারি পরিষেবাগুলির উন্নয়ন ঘটাতে এবং নাগরিকদের জন্য সঠিক ও দক্ষ সেবা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *