কেষ্ট-কাজল এক শিবিরে!
রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একের পর এক নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। সেই তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলির একটি হল বীরভূমের দুই দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী নেতা অনুব্রত মণ্ডল ও কাজল শেখের একই রাজনৈতিক শিবিরে চলে আসা। একসময় যাঁদের দ্বন্দ্ব মেটাতে দলীয় নেতৃত্বকেও বারবার হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল, তাঁরা এখন একই ছাতার তলায়। ফলে রাজনৈতিক মহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে— এ কি সত্যিই সম্পর্কের বরফ গলেছে, নাকি পরিস্থিতির চাপে তৈরি হওয়া সমঝোতা?
দীর্ঘদিন ধরেই বীরভূমের সংগঠন নিয়ে অনুব্রত মণ্ডল ও কাজল শেখের মধ্যে প্রকাশ্য ক্ষমতার লড়াই চলছিল। অনুব্রত জেলে যাওয়ার পর জেলায় সংগঠনের দায়িত্ব কার্যত নিজের হাতে তুলে নেন কাজল। পরে অনুব্রত জামিনে মুক্ত হলেও আগের মতো সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ আর ফিরে পাননি। দুই নেতার বিরোধ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে দলীয় নেতৃত্ব একাধিকবার মধ্যস্থতার চেষ্টা করেও স্থায়ী সমাধান আনতে পারেনি।
রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে যাওয়ার পর এখন সেই দুই নেতাই ঋতব্রতের নেতৃত্বাধীন নতুন শিবিরে যোগ দিয়েছেন। শুধু অনুব্রত ও কাজলই নন, আগে একে অপরের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী বলে পরিচিত আরও অনেক নেতাকে একই প্ল্যাটফর্মে দেখা যাচ্ছে। ফলে এই নতুন সমীকরণকে ঘিরে জল্পনা আরও বেড়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ব্যক্তিগত বিরোধের থেকেও এখন রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, আইনি লড়াই এবং সাংগঠনিক অবস্থান অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই অতীতের দ্বন্দ্ব আপাতত সরিয়ে রেখে অনেকেই নতুন বাস্তবতার সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিচ্ছেন। অন্যদিকে বিরোধীদের দাবি, এই একজোট হওয়া আদর্শগত নয়, বরং রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থরক্ষার কৌশল।
অনুব্রত মণ্ডলের দলবদল নিয়ে নানা ব্যাখ্যাও সামনে এসেছে। একসময় দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁর পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ালেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় বেছে নিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, একাধিক মামলার চাপ এবং পারিবারিক উদ্বেগও তাঁর সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও এ বিষয়ে অনুব্রত প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি।
এদিকে কাজল শেখের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভবিষ্যতে কী দাঁড়ায়, সেটাও এখন বড় প্রশ্ন। অতীতে প্রকাশ্যে বাকবিতণ্ডা থেকে শুরু করে সাংগঠনিক দ্বন্দ্ব— সবই দেখা গিয়েছে। এখন একই শিবিরে থেকে তাঁরা কতটা সমন্বয় রেখে কাজ করতে পারবেন, সেটাই নজরে থাকবে।
শুধু বীরভূম নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তেও একই ছবি দেখা যাচ্ছে। যাঁরা একসময় একই দলের মধ্যে পরস্পরের কট্টর বিরোধী ছিলেন, তাঁরাও এখন নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে পাশাপাশি অবস্থান করছেন। এর ফলে বোঝা যাচ্ছে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত সম্পর্কের চেয়ে সাংগঠনিক প্রয়োজন এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক হিসাবই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, অনুব্রত মণ্ডল ও কাজল শেখের একই শিবিরে আসা পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনীতির অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। তবে এই সহাবস্থান কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, নাকি পুরনো বিরোধ আবার মাথাচাড়া দেবে, তার উত্তর মিলবে আগামী দিনের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহেই।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?