কৃষ্ণনগরের কলেজছাত্রী খুনে অভিযুক্ত দেশরাজ অবশেষে গ্রেফতার, নেপাল সীমান্ত থেকে পাকড়াও

নেপাল সীমান্ত থেকে পাকড়াও নদিয়ার কৃষ্ণনগরে কলেজছাত্রী ঈশিতা মল্লিক খুনের ঘটনায় অবশেষে গ্রেফতার হল মূল অভিযুক্ত দেশরাজ সিংহ। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকার পর উত্তরপ্রদেশ-নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে তাকে পাকড়াও করে…

September 1, 2025
1 min read

নেপাল সীমান্ত থেকে পাকড়াও

নদিয়ার কৃষ্ণনগরে কলেজছাত্রী ঈশিতা মল্লিক খুনের ঘটনায় অবশেষে গ্রেফতার হল মূল অভিযুক্ত দেশরাজ সিংহ। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকার পর উত্তরপ্রদেশ-নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে তাকে পাকড়াও করে পুলিশ। ইতিমধ্যেই ট্রানজিট রিমান্ডে দেশরাজকে কৃষ্ণনগরের কোতোয়ালি থানায় আনা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, তদন্তে নেমে প্রথমেই গুজরাতের জামনগর থেকে দেশরাজের মামা কুলদীপ সিংহকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এরপর থেকেই দেশরাজের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়। পুলিশের একাধিক দল কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন রাজ্যে তল্লাশি চালালেও এতদিন তিনি পুলিশের হাত এড়িয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। শেষ পর্যন্ত নেপাল সীমান্ত ঘেঁষা এলাকায় তার গতিবিধি চিহ্নিত করে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় তাকে।

গত ২৫ আগস্ট দুপুরে কৃষ্ণনগরের নিজ বাসায় মাথায় তিনটি গুলি করে খুন করা হয় কলেজছাত্রী ঈশিতাকে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই দেশরাজ গা-ঢাকা দেয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান ছিল, খুনের পর সে সরাসরি উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়ার পৈতৃক বাড়িতে পালিয়ে যায় এবং সেখান থেকে সীমান্তবর্তী এলাকায় আশ্রয় নেয়।

পুলিশ জানিয়েছে, দেশরাজ উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ায় একটি ভাড়া বাড়িতে মা ও বোনের সঙ্গে থাকত। তার বাবা একজন বিএসএফ জওয়ান। তদন্তকারীরা মনে করছেন, ঈশিতার সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর মানসিক আঘাত থেকেই দেশরাজ এই চরমপন্থী পদক্ষেপ নেয়। প্রেমে ব্যর্থ হয়ে কলেজছাত্রীকে খুন করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

এই হত্যাকাণ্ডে পুরো জেলা জুড়ে নেমেছিল শোকের ছায়া। কৃষ্ণনগরের বাসিন্দারা হত্যার ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশরাজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একাধিক বিশেষজ্ঞ অফিসারের দল তৈরি করা হয়েছে। তার কাছ থেকে ঘটনার পেছনের সমস্ত কারণ, হত্যার পরিকল্পনা এবং অস্ত্র সংগ্রহের উৎস নিয়ে বিস্তারিত তথ্য বের করার চেষ্টা চলছে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারেরও চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি দেশরাজের মোবাইল ফোনের কলরেকর্ড, সোশ্যাল মিডিয়া কার্যকলাপ এবং তার ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে যোগাযোগের নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা বিশ্বাস করেন, গ্রেফতারের পর এবার অনেক অজানা তথ্য সামনে আসবে।

ঘটনার পর থেকে কৃষ্ণনগরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের এই দ্রুত পদক্ষেপে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তবে কলেজছাত্রী ঈশিতার মৃত্যুতে এখনও শোকাহত তার পরিবার এবং বন্ধুরা। তাঁরা দোষীদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে, কীভাবে প্রেমঘটিত বিরোধ থেকে এত বড় অপরাধ ঘটতে পারে। পুলিশ সূত্রে খবর, দেশরাজের মানসিক অবস্থা এবং তার অতীত আচরণও খতিয়ে দেখা হবে। সারা রাজ্যে আলোড়ন তোলা এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে কোনো খামতি রাখা হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছে জেলা পুলিশ।

দেশরাজকে আদালতে পেশ করে পুলিশের হেফাজতে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। প্রশাসনের আশা, এই গ্রেফতারির পর হত্যার পেছনের পুরো কাহিনি পরিষ্কার হয়ে যাবে এবং বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করা সম্ভব হবে।

ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *