কুম্ভমেলায় মহিলাদের স্নানের গোপন ভিডিয়ো!
প্রয়াগরাজের কুম্ভমেলায় পুণ্যস্নানে আসা মহিলাদের অজ্ঞাতসারে ভিডিয়ো তুলে তা সমাজমাধ্যমে বিক্রির অভিযোগে তিন জনকে গ্রেফতার করল গুজরাত পুলিশ। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন এক ইউটিউবার, যাঁর বিরুদ্ধে আগেও অনৈতিক ভাবে মহিলাদের ভিডিয়ো ধারণ ও প্রচারের অভিযোগ উঠেছিল। ঘটনায় আরও ১৭টি অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
কীভাবে সামনে এল চক্রের রহস্য?
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রথমবার উত্তরপ্রদেশ পুলিশের কাছে অভিযোগ জমা পড়ে যে, ইনস্টাগ্রামে এক অ্যাকাউন্টে মহিলাদের স্নানের ভিডিয়ো আপলোড করা হচ্ছে। কয়েকদিন পর, আরও একটি অভিযোগ আসে টেলিগ্রামের বিরুদ্ধে, যেখানে বলা হয়, স্নানের ভিডিয়োগুলি টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হচ্ছে। এই অভিযোগ পেতেই সাইবার অপরাধ দমন বিভাগ তদন্তে নামে এবং অভিযুক্তদের খুঁজে বের করে।
প্রাথমিক তদন্তে দু’টি অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করা হয়, যেখান থেকে এই অনৈতিক ভিডিয়ো আপলোড ও বিক্রি করা হচ্ছিল। এরপর তদন্ত আরও গভীরে গিয়ে পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
কে কোথা থেকে গ্রেফতার হলেন?
এই ঘটনায় তিন অভিযুক্তকে ধরা হয়েছে—
- প্রোজ্জ্বল তাইলি (লাতুর, মহারাষ্ট্র)
- প্রজ পাটিল (সাংলি, মহারাষ্ট্র)
- চন্দ্রপ্রকাশ ফুলচাঁদ (প্রয়াগরাজ, উত্তরপ্রদেশ)
তাঁদের মধ্যে চন্দ্রপ্রকাশ একজন ইউটিউবার, যার বিরুদ্ধে এর আগেও মহিলাদের গোপন ভিডিয়ো রেকর্ড করে তা অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ছিল। হাসপাতালের মহিলা রোগীদের গোপনে ধারণ করা ভিডিয়ো ছড়ানোর দায়ে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল।
পুলিশ কী বলছে?
গুজরাত পুলিশের সাইবার অপরাধ দমন বিভাগের ডেপুটি কমিশনার লভীনা সিংহ জানিয়েছেন,
“আমরা তদন্তে নেমে দেখেছি, এই তিন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে মহিলাদের গোপন ভিডিয়ো তুলে সমাজমাধ্যমে ছড়াচ্ছিল। শুধু কুম্ভমেলাই নয়, অন্যান্য জায়গাতেও এরা একই কাজ করেছে। এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত আরও বেশ কিছু অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
এছাড়া, পুলিশের হাতে আরও ১৭টি অ্যাকাউন্টের তথ্য এসেছে, যেগুলি এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
কীভাবে চলত এই অপকর্ম?
- অভিযুক্তরা কুম্ভমেলায় আসা মহিলাদের স্নান ও পোশাক পরিবর্তনের সময় লুকিয়ে ভিডিয়ো রেকর্ড করত।
- সেই ভিডিয়োগুলি ইনস্টাগ্রাম ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে অনলাইনে বিক্রি করত।
- অনেকে সাবস্ক্রিপশন ভিত্তিতে এই ভিডিয়োগুলি দেখার সুযোগ পেতেন।
- ভিডিয়ো বিক্রির জন্য একাধিক ভুয়ো সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হতো।
এই চক্রের গভীরতা কতদূর?
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই পুলিশ আরও বেশ কয়েকটি ইউটিউব চ্যানেল ও টেলিগ্রাম গ্রুপকে নজরদারিতে রেখেছে। সন্দেহ করা হচ্ছে, এটি একটি বড় চক্রের অংশ, যেখানে অনলাইনে মহিলাদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিয়ো বিক্রি করে ব্যবসা করা হয়।
কী শাস্তি হতে পারে অভিযুক্তদের?
ভারতের আইনে, এ ধরনের অপরাধের শাস্তি বেশ কঠোর—
- তথ্যপ্রযুক্তি আইন (আইটি অ্যাক্ট)-এর ৬৬E ধারা অনুযায়ী, কাউকে বিনা অনুমতিতে গোপন ক্যামেরায় ধারণ করলে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
- ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪C ধারা অনুযায়ী, গোপনে মহিলাদের ভিডিয়ো তোলার শাস্তি ৫ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত জেল এবং জরিমানা।
- পক্সো অ্যাক্ট (POCSO) এবং সাইবার অপরাধ আইনের অন্যান্য ধারাও যুক্ত হতে পারে, যদি নাবালিকারা এই চক্রের শিকার হয়ে থাকে।
শেষ কথা
কুম্ভমেলার মতো পবিত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মহিলাদের গোপন ভিডিয়ো তুলে তা বিক্রি করা অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং গুরুতর অপরাধ। পুলিশের তৎপরতায় এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজন ধরা পড়লেও, এই চক্রের মূল হোতারা এখনও ধরা ছোঁয়ার বাইরে। পুলিশ জানিয়েছে, আরও বেশ কিছু সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ও গ্রুপ নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে সচেতনতা ও কঠোর আইন প্রয়োগই একমাত্র প্রতিরোধের উপায়।
গবেষণার আড়ালে সামরিক পরিকল্পনা? সমুদ্রের গভীরে চিনের রহস্যময় কেন্দ্র ঘিরে উদ্বেগ