‘কুমিরছানার’ গল্পে কোটি কোটি টাকা তোলা! বার বার ভান্ডারের খোঁজ দেখিয়ে বিশ্বকে বিভ্রান্ত করছে পাকিস্তান

বার বার ভান্ডারের খোঁজ দেখিয়ে বিশ্বকে বিভ্রান্ত করছে পাকিস্তান! প্রাকৃতিক সম্পদের খোঁজ পাওয়ার আশ্বাস দিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে কতবার যে আশা জাগিয়েছে পাকিস্তান, তার হিসেব রাখাও কঠিন। আবারও সেই পুরনো নাটক—বলা…

May 14, 2025
1 min read

বার বার ভান্ডারের খোঁজ দেখিয়ে বিশ্বকে বিভ্রান্ত করছে পাকিস্তান!

প্রাকৃতিক সম্পদের খোঁজ পাওয়ার আশ্বাস দিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে কতবার যে আশা জাগিয়েছে পাকিস্তান, তার হিসেব রাখাও কঠিন। আবারও সেই পুরনো নাটক—বলা হচ্ছে, পাকিস্তানের আঞ্চলিক জলসীমায় মিলেছে বিপুল তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ভান্ডার, যা নাকি তাদের অর্থনীতিকে ঘুরিয়ে দেবে ১৮০ ডিগ্রি। কিন্তু ইতিহাস বলছে, এ কেবল পুরনো ‘কুমিরছানা’ দেখানোরই আর এক নতুন অধ্যায়।

গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর, পাক সরকার ঘোষণা দেয়—তারা এমন এক ভান্ডারের সন্ধান পেয়েছে যা নাকি বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম। সরকারের দাবি, এই আবিষ্কার বদলে দেবে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ। মিডিয়াও সমান তালে প্রচারে নামে, এই আবিষ্কারকে বলা হয় ‘ব্লু ওয়াটার ইকনমি’-র সূচনা। বন্ধুপ্রতিম দেশগুলির সহায়তায় তিন বছরের অনুসন্ধান প্রকল্পও নেওয়া হয়।

কিন্তু বাস্তব? খনন শুরু হতেই দেখা যায়, তেল বা গ্যাস—কিছুই নেই! একাধিক বার এই ঘটনা ঘটেছে, আর প্রতিবারই সরকারের দাবি মিথ্যে প্রমাণিত হয়েছে।

২০১৮ সালে ইমরান খান সরকারও একই ভাবে করাচি উপকূলে খনিজের খোঁজ পাওয়ার দাবি তোলে। মানুষ তখনও আশায় বুক বাঁধে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিছুই মেলেনি।

তবু কেন বার বার একই দাবি তোলে পাকিস্তান?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থনৈতিক টানাপড়েন শুরু হলেই পাকিস্তান ‘ভান্ডার আবিষ্কারের’ গল্প শোনায়। উদ্দেশ্য একটাই—আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের থেকে টাকা আদায় করা। বিনিয়োগ এলে চলে খনন-পরীক্ষার নাটক। এরপর ‘ভূগোল বুঝল না’, বলে সরে আসে সরকার। কিন্তু ততদিনে বিনিয়োগের টাকা বেমালুম গায়েব।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও গত বছর এই ফাঁদে ফেলে প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ আনেন। অথচ সরকারের এক শীর্ষ নিরাপত্তা আধিকারিক পরে নিজেই বলেন, “এত বড় আবিষ্কার হবে, তা নিয়ে নিশ্চিত কিছু বলা যায় না।”

এই ‘তেল-তত্ত্ব’ এখন আর কারও অজানা নয়। একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইতিমধ্যেই মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে। এমনকি, পাকিস্তানের জনগণও আর সরকারকে বিশ্বাস করতে রাজি নয়। তারা এখন এই খবর শুনলে কেবল হাসে—কেউ কেউ তো বলছেন, ‘‘যদি সত্যি তেল বেরত, তাহলে এত দিনে পাকিস্তান সৌদি আরব হয়ে যেত।’’

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই বারবার ‘ভুয়ো ঘোষণা’ এখন পাকিস্তানের ভবিষ্যতের জন্য বুমেরাং হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এক দিন সত্যিই যদি তারা বড় কোনও আর্থিক সংকটে পড়ে, তখন আর কেউ পাশে দাঁড়াবে না। তখন হয়তো ‘রাখালের গল্প’-এর মতোই বিশ্ব বলবে—এত দিন মিথ্যে বলেছ, এবার সত্যিটাকেও বিশ্বাস করা যাচ্ছে না।

এদিকে বিশ্বের প্রকৃত তেল-গ্যাস ভান্ডার এখন ভেনেজুয়েলা, সৌদি আরব, ইরান, রাশিয়া, ইরাক বা কানাডার মতো দেশের হাতে। পাকিস্তান সেখানে শুধু গল্প শুনিয়ে চলেছে—আর সেই গল্পে আজ আর কেউ কান দিচ্ছে না।

ফের জৈসলমের! নতুন রহস্যের পর্দা ফাঁস করতে যাচ্ছেন সব্যসাচী, সঙ্গী মেঘলা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *