কিশ্তওয়াড়ে হড়পা বানের করুণ দৃশ্য — উদ্ধার ৪৬ দেহ, শতাধিক নিখোঁজ

কিশ্তওয়াড়ে হড়পা বানের করুণ দৃশ্য! মেঘভাঙা বৃষ্টির পর পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নেমে আসা ভয়ঙ্কর হড়পা বান মুহূর্তেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে জম্মু ও কাশ্মীরের কিশ্তওয়াড় জেলার চশোতী গ্রাম এবং আশপাশের এলাকা।…

August 15, 2025
1 min read

কিশ্তওয়াড়ে হড়পা বানের করুণ দৃশ্য!

মেঘভাঙা বৃষ্টির পর পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নেমে আসা ভয়ঙ্কর হড়পা বান মুহূর্তেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে জম্মু ও কাশ্মীরের কিশ্তওয়াড় জেলার চশোতী গ্রাম এবং আশপাশের এলাকা। বৃহস্পতিবার দুপুরে মচৈল মাতা মন্দিরের কাছে ত্রাণকর্মীরা ৪৬ জনের দেহ উদ্ধার করেছেন বলে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে। মৃতদের মধ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী সিআইএসএফ-এর দুই জওয়ানও রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে খবর, এখনও প্রায় ২০০ জন মানুষ নিখোঁজ। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও রাতে উদ্ধার অভিযান চলছে। কাদামাটি ও পাথরের স্তূপ সরাতে ৩০০-রও বেশি সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৬০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৩৮ জনের অবস্থা গুরুতর।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শোকবার্তায় জানিয়েছেন, “কাশ্মীরে আকস্মিক বন্যায় হতাহতদের জন্য আমি গভীরভাবে শোকাহত। কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং অনেকে এখনও নিখোঁজ। মৃতদের পরিবার ও জম্মু-কাশ্মীর সরকারের প্রতি সমবেদনা জানাই।” একইসঙ্গে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা জানিয়েছেন, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে নির্ধারিত সমস্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, চশোতী গ্রাম থেকে ‘মচৈল মাতা যাত্রা’ শুরুর কথা ছিল। সেই উপলক্ষে বহু পুণ্যার্থী তাবু খাটিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু হড়পা বানের জলোচ্ছ্বাসে মুহূর্তে ভেসে যায় সেই সব তাবু। স্থানীয় বিধায়ক সুনীলকুমার শর্মা জানিয়েছেন, “এমন ভয়াবহ বিপর্যয় আগে কখনও দেখেনি কিশ্তওয়াড়।”

এই ঘটনার সঙ্গে মিল পাওয়া যাচ্ছে কয়েক দিন আগের উত্তরাখণ্ডের উত্তরাকাশীর ধরালী ও হর্ষিলের বিপর্যয়ের সঙ্গে। ৫ অগস্ট হড়পা বানে সেখানে অধিকাংশ এলাকা কাদা ও পাথরের তলায় চাপা পড়ে যায়। সরকারি হিসেবে মৃতের সংখ্যা ছিল পাঁচ, কিন্তু এখনও প্রায় ১০০ জন নিখোঁজ।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই করুণ চিত্র আবারও মনে করিয়ে দিল পাহাড়ি অঞ্চলে হঠাৎ বৃষ্টির ভয়াবহতা এবং প্রস্তুতির গুরুত্ব। সেনা, এনডিআরএফ ও স্থানীয় প্রশাসন প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছে যেন আরও মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা যায়। তবুও গ্রামের ভেঙে পড়া ঘর, তছনছ হয়ে যাওয়া মন্দির চত্বর এবং নিখোঁজ মানুষের খোঁজে অশ্রুসজল চোখে অপেক্ষারত পরিবারগুলোর হৃদয়বিদারক দৃশ্য কিশ্তওয়াড়ের আকাশে আজ শোকের কালো মেঘ ঘনিয়ে তুলেছে।

শুল্কযুদ্ধের মাঝেই আমেরিকা সফরে মোদী? ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *