কাশ্মীরে পর্যটক হত্যাকাণ্ড!
কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিরীহ পর্যটকের মৃত্যুতে স্তব্ধ পুরো দেশ। জঙ্গিরা ছিল পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-এ-তইবা’র ছায়া সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (TRF)-এর সদস্য। ঘটনার পর দেশের নানা প্রান্তে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে এবং প্রত্যাঘাতের দাবি জোরালো হয়। সেই আবহেই বুধবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনে দীর্ঘ বৈঠকের পর ভারত কড়া পদক্ষেপ নেয় প্রতিবেশী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে।
প্রথমে সৌদি আরব সফর সংক্ষিপ্ত করে ভারতে ফিরে আসেন প্রধানমন্ত্রী। তারপর একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক— স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের উপস্থিতিতে। বৈঠকের ঠিক পরেই নয়াদিল্লি ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে পাঁচ দফা কূটনৈতিক পদক্ষেপের ঘোষণা করে।
পাঁচটি বড় সিদ্ধান্ত ভারতের
- সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত: ১৯৬০ সালের ঐতিহাসিক চুক্তির কার্যকারিতা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ।
- ‘সার্ক’ ভিসা বাতিল: পাকিস্তানি নাগরিকদের ভারতে আগমনে নিষেধাজ্ঞা, আগতদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ।
- দূতাবাসে কর্মীছাঁটাই: ইসলামাবাদে ভারতীয় দূতাবাসে কর্মীসংখ্যা কমানো হচ্ছে; একইসঙ্গে নয়াদিল্লিতে পাক দূতাবাস থেকেও রদবদল।
- ওয়াঘা সীমান্ত চেক পোস্ট বন্ধ: ভারতে প্রবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ আপাতত অচল।
- পাকিস্তানি রক্ষীদের বহিষ্কার: নয়াদিল্লিতে অবস্থানকারী পাক সামরিক দূতদের ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে দেশ ছাড়ার নির্দেশ।
কাশ্মীর জুড়ে তল্লাশি অভিযান
কাশ্মীর পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হামলার সঙ্গে জড়িত চার জঙ্গির নাম— আদিল, আসিফ ফুজি, সুলেমান শাহ ও আবু তালহা। গোয়েন্দা সূত্রে দাবি, জঙ্গিরা পাঁচ-ছয় জন ছিল, এদের মধ্যে অন্তত চারজন পাকিস্তান থেকে এসেছিল। বাকি দু’জন স্থানীয় কাশ্মীরি বলে মনে করা হচ্ছে। তাঁদের ধরতে উপত্যকার একাধিক জায়গায় ধরপাকড় চালানো হচ্ছে। এ পর্যন্ত দেড় হাজারের বেশি মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। জঙ্গিদের সন্ধানে ২০ লক্ষ টাকার পুরস্কারও ঘোষণা করেছে পুলিশ।
বাংলার ত্রাহি অবস্থা
নিহত ২৬ জনের মধ্যে তিনজন ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। তাঁদের মধ্যে কলকাতার সমীর গুহ ও বিতান অধিকারীর দেহ বুধবার রাতে দমদম বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই নৃশংস ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বলেন, “আমি ভাবতেই পারছি না, এত নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও এতবড়ো ঘটনা ঘটে গেল!”
কাশ্মীরের মানুষের প্রতিবাদ
জঙ্গি হানার পরে কাশ্মীরের সাধারণ মানুষরাও রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ শুরু করেছেন। পহেলগাঁওয়ের রাস্তায় মোমবাতি মিছিল, দোকানপাট বন্ধ রাখা, স্থানীয় মসজিদ থেকে ‘শাট ডাউন’-এর ডাক— সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে এক অভিনব প্রতিবাদ। তাঁরা বলছেন, “আমরা ভারতীয়, আমরা সন্ত্রাস চাই না।”
গোয়েন্দা রিপোর্টে উদ্বেগজনক তথ্য
গোপন রিপোর্টে বলা হয়েছে, এলওসি পেরিয়ে ইতিমধ্যেই ৭৫ জন পাকিস্তানি জঙ্গি কাশ্মীরে অনুপ্রবেশ করেছে। আরও ১১৫ জন পাক জঙ্গি পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের ৪২টি লঞ্চপ্যাডে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায়। ফলে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এখন চরম সতর্কতায়।
কাশ্মীরে এই বর্বর হত্যাকাণ্ড শুধু ভারত নয়, আন্তর্জাতিক মহলেও আলোড়ন তুলেছে। মোদী সরকার বলেছে, যতক্ষণ না পাকিস্তান সন্ত্রাসে মদত দেওয়া বন্ধ করছে, ততক্ষণ এই কূটনৈতিক কঠোরতা বজায় থাকবে।
দেশ ছেড়ে কাতারে সংসার? সইফ-করিনার নতুন জীবন শুরু হতে চলেছে!