কাশ্মীরের গুলিতে শহিদ ঝন্টু!
কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গিহানার জেরে উধমপুরে ভারতীয় সেনা ও জঙ্গিদের গুলির লড়াইয়ে শহিদ হয়েছেন বাংলার বীর সৈনিক, হাবিলদার ঝন্টু আলি শেখ। নদিয়ার তেহট্টের পাথরঘাটার ছেলে ঝন্টু ছিলেন সেনাবাহিনীর এলিট ইউনিট ৬ প্যারা স্পেশ্যাল ফোর্সে নিযুক্ত। প্রাণের বিনিময়ে দেশ রক্ষার এই বীরগাঁথা শুধুই গর্ব নয়, তাঁর অকাল মৃত্যু শোকের ছায়া ফেলেছে সমগ্র রাজ্যে।
ঝন্টুর পরিবার ইতিমধ্যেই কলকাতায় পৌঁছে যাওয়া কফিনবন্দি দেহের অপেক্ষায়। শনিবার সকালেই তেহট্টে তাঁর গ্রামের বাড়িতে আনা হবে দেহ। ভারতীয় সেনার তরফ থেকে তাঁকে ‘গান স্যালুট’-সহ পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ শ্রদ্ধা জানানো হবে।
এই কঠিন সময়ে শহিদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার ঝন্টুর দাদা নাজিম শেখকে ফোন করে তিনি জানিয়ে দেন, “আপনারা একা নন। আমি সবসময় আপনাদের পাশে আছি।” দিদির বার্তা ছিল স্পষ্ট—“যেকোনও প্রয়োজনে সরাসরি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করুন।”
তেহট্টের শহিদ পরিবারের এই আত্মত্যাগ রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সবার হৃদয় ছুঁয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি দেখা করেছেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র, বিজেপির প্রতিনিধি দল এবং ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকিও। কেন্দ্রীয় সরকার থেকেও পূর্ণ সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
শহিদ ঝন্টুর পরিবারে সেনার চিহ্ন রয়েছে আরও। দাদা নাজিম শেখ এবং বৌদি অনিন্দিতা শেখ—উভয়েই ভারতীয় সেনার সদস্য। অনিন্দিতা আবার কাশ্মীরে কর্মরত। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—এই অনিন্দিতার মাধ্যমেই গ্রামের বাড়িতে থাকা বৃদ্ধ বাবা-মা খবর পান তাঁদের ছোট ছেলে শহিদ হয়েছেন কাশ্মীরের রণাঙ্গনে।
ঝন্টু ছিলেন একজন গর্বিত স্বামী ও বাবা। স্ত্রী ঝুমা এবং দুই সন্তান—তনভির ও রেহানা—আগরার সেনা ক্যান্টনমেন্টে থাকেন। স্বামীর মৃত্যুসংবাদ পেয়ে তাঁরা প্রথমে দিল্লি, পরে গ্রামের বাড়িতে ফেরেন।
নাজিম বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী নিজে ফোন করে আমাদের সাহস জুগিয়েছেন। জানিয়েছেন আমাদের ভাইকে শহিদের সম্মানেই শেষ শ্রদ্ধা জানানো হবে। এটা আমাদের কাছে একমাত্র সান্ত্বনা।”
শুক্রবারই জম্মুতে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে শেষ বিদায় জানিয়েছে ভারতীয় সেনা। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, শুক্রবার গভীর রাতে তাঁর দেহ পৌঁছেছে কলকাতা বিমানবন্দরে, সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে গ্রামের বাড়ির পথে।
এই মৃত্যু কেবল এক সেনার নয়, এক সন্তানের, এক ভাইয়ের, এক স্বামীর, এক বাবার অপূরণীয় শূন্যতা। কিন্তু তার থেকেও বড় হয়ে উঠেছে তাঁর আত্মত্যাগ—যা বাংলার মাটিকে গর্বিত করেছে।
ঝন্টুর মতো শহিদদের স্মরণে প্রশ্ন জাগে—দেশের জন্য জীবন দেওয়া এই মানুষদের কি আমরা যথার্থ সম্মান দিতে পারি?
আপনার কী মনে হয়, শহিদ পরিবারদের জন্য আরও কী কী সহায়তা করা উচিত?
পহেলগাঁও হামলা: বলিউডের তারকাদের ক্ষোভের মুখে কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র বার্তা