কালীঘাট বৈঠকে তৃণমূলের অন্দরে চাপা উত্তেজনা: অভিষেককে ঘিরে প্রশ্ন, জাহাঙ্গির ইস্যুতে ক্ষোভ

কালীঘাট বৈঠকে তৃণমূলের অন্দরে চাপা উত্তেজনা! তৃণমূল কংগ্রেসের পরিষদীয় দলের সাম্প্রতিক কালীঘাট বৈঠকে দলের ভেতরের অস্বস্তি আরও একবার প্রকাশ্যে এল। সূত্রের খবর অনুযায়ী, মঙ্গলবারের এই বৈঠকে দলের কয়েকজন বিধায়ক নেতৃত্বের…

May 20, 2026
0 min read

কালীঘাট বৈঠকে তৃণমূলের অন্দরে চাপা উত্তেজনা!

তৃণমূল কংগ্রেসের পরিষদীয় দলের সাম্প্রতিক কালীঘাট বৈঠকে দলের ভেতরের অস্বস্তি আরও একবার প্রকাশ্যে এল। সূত্রের খবর অনুযায়ী, মঙ্গলবারের এই বৈঠকে দলের কয়েকজন বিধায়ক নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, যা কার্যত অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের ইঙ্গিত দিয়েছে।

বৈঠকের মূল আলোচনায় ছিল ফলতার প্রার্থী জাহাঙ্গির খানকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক। ভোটের ঠিক আগের দিন তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেন। এই ঘটনার পর থেকেই দলের অভ্যন্তরে প্রশ্ন উঠছে—তাঁর বিরুদ্ধে কেন কোনও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বৈঠকে কুণাল ঘোষ, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা এই বিষয়ে সরব হন বলে সূত্রের দাবি। তাঁদের বক্তব্যে পরোক্ষে দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব, বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে আসে।

সূত্রের আরও দাবি, ওই তিন বিধায়ক একই গাড়িতে কালীঘাটের বৈঠকে আসেন এবং সেখানে তাঁরা জাহাঙ্গিরের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এমনকি তাঁকে ঘিরে দলের সিদ্ধান্ত নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ পায়। কেউ কেউ মন্তব্য করেন, দলের ভেতরে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও খোলামেলা হওয়া উচিত।

বৈঠকে আরও একটি ইস্যু আলোচনায় আসে—ভোট প্রচার ও ফলতার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি। কুণাল ঘোষ নাকি বলেন, শুধুমাত্র ঘরোয়া বৈঠকে নয়, প্রয়োজনে মাঠেও নামতে হবে এবং জনতার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে হবে।

অন্যদিকে, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জাহাঙ্গির খানের ভোট না লড়ার সিদ্ধান্ত ছিল তাঁর ব্যক্তিগত। তবে বৈঠকে এই ব্যাখ্যা দেওয়া হলেও কিছু বিধায়ক তাতে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হননি বলে খবর।

বৈঠকের সময় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনয়নের প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা উঠে আসে। অভিযোগ, প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিধায়কের স্বাক্ষরসংক্রান্ত নথি এখনো সম্পূর্ণভাবে জমা হয়নি, যা নিয়েও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে।

সূত্রের দাবি, এই বৈঠকে প্রায় ১৫ জন বিধায়ক অনুপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কেউ অসুস্থতার কারণে, কেউ আবার বাইরে থাকার কারণে উপস্থিত হতে পারেননি। তবে রাজনৈতিক মহলে এই অনুপস্থিতি নিয়েও নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।

সব মিলিয়ে, কালীঘাটের এই বৈঠক শুধুমাত্র একটি সাংগঠনিক সভা ছিল না, বরং তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য ও নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্নের এক নতুন পর্বের ইঙ্গিতও দিয়ে গেল বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *