কান্না কি সত্যিই মুক্তি দেয়? জাপানে ‘রুইকাতসু’-র মাধ্যমে আবেগ হালকা রাখার অভিনব পদ্ধতি

জাপানে 'রুইকাতসু'-র মাধ্যমে আবেগ হালকা রাখার অভিনব পদ্ধতি! হাসি মানেই কি মনের সুস্থতা? বিশ্বজুড়ে যখন হাসির ক্লাসের হুড়োহুড়ি, তখন জাপানের মানুষ একদম বিপরীত সুরে বলছেন— “কাঁদো, মন হালকা হবে।” তাদের…

April 18, 2025
1 min read

জাপানে ‘রুইকাতসু’-র মাধ্যমে আবেগ হালকা রাখার অভিনব পদ্ধতি!

হাসি মানেই কি মনের সুস্থতা? বিশ্বজুড়ে যখন হাসির ক্লাসের হুড়োহুড়ি, তখন জাপানের মানুষ একদম বিপরীত সুরে বলছেন— “কাঁদো, মন হালকা হবে।” তাদের বিশ্বাস, কান্না দুর্বলতার নয়, বরং আত্মশুদ্ধির পথ। আর এই বিশ্বাস থেকেই জন্ম নিয়েছে ‘রুইকাতসু’ নামের এক ব্যতিক্রমী আন্দোলন, যার মূলমন্ত্র— কান্নার মাধ্যমে আত্মোন্নতি।

জাপানি ভাষায় ‘রুই’ মানে কাঁদা, আর ‘কাতসু’ মানে এমন কিছু যা নিজেকে উন্নত করতে সাহায্য করে। দুই মিলে ‘রুইকাতসু’— মানে নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার জন্য কাঁদা। এটি কেবল এক দার্শনিক ধারণা নয়, বরং জাপানে এক সামাজিক আন্দোলনের রূপ নিয়েছে।

এই অভিনব পথচলার সূচনা হয় ২০১৩ সালে, হাই স্কুলের এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হিডেফুমি ইওশিডার হাত ধরে। তিনি বিশ্বাস করেন, কান্না মানুষের আবেগ প্রকাশের এক শক্তিশালী মাধ্যম। তাই তিনি শুরু করেন ‘কান্নার কর্মশালা’— এমন এক জায়গা, যেখানে মানুষ নিজেদের আবেগকে স্বীকৃতি দিয়ে কাঁদতে শেখে।

এই কর্মশালাগুলিতে অংশগ্রহণকারীদের এমন সিনেমা দেখানো হয় যা চোখে জল এনে দেয়, কিংবা পড়ানো হয় পুরনো চিঠি, বলা হয় এমন গল্প যা হৃদয়ে গভীর রেখা টেনে দেয়। এতে ধীরে ধীরে অংশগ্রহণকারীদের আবেগ উথলে ওঠে এবং তারা কাঁদতে শুরু করে। অনেকেই বলেন, এমন কান্নার পর তারা ভেতর থেকে হালকা ও পরিতৃপ্ত অনুভব করেন।

মনোবিদদের মতে, কান্না মানসিক চাপমুক্তির এক প্রাকৃতিক পদ্ধতি। আবেগপ্রবণ কান্নার সময় চোখের জল দিয়ে কর্টিসল নামক ‘স্ট্রেস হরমোন’ শরীর থেকে বেরিয়ে যায়, যা মানসিক স্বস্তি এনে দেয়। জাপানের তোহো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাতেও দেখা গিয়েছে, নিয়মিত কান্না উদ্বেগ কমায়, হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক করে এবং ঘুমের মান বাড়ায়।

তবে প্রশ্ন ওঠে, কান্নার জন্য আলাদা কর্মশালা কেন? একা ঘরে কেঁদে নেওয়া কি যথেষ্ট নয়?

হিডেফুমি জানাচ্ছেন, পার্থক্য রয়েছে। একা কাঁদলে মানুষ আরও একাকী হয়ে পড়ে, বিষণ্ণতা বাড়ে। কিন্তু যখন অন্যদের সঙ্গে বসে কাঁদা যায়, তখন সেই কান্না একাকীত্বের বদলে মিলনের অনুভূতি দেয়। সবাই নিজের মতো কাঁদলেও, পাশে থাকা মানুষগুলোর উপস্থিতি মনকে সান্ত্বনা দেয়।

বিশ্ব যেখানে আবেগ চেপে রেখে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়, সেখানে জাপানিরা দেখিয়ে দিচ্ছেন— থেমে গিয়ে কান্নার মধ্যেই হয়তো লুকিয়ে আছে মানসিক মুক্তির চাবিকাঠি। “কাঁদো, এবং আবার হাঁটো সামনে”— এই বার্তাই এখন নতুন করে আমাদের ভাবতে বাধ্য করছে, আমরা সত্যিই কেমন করে সুস্থ থাকি?

জয়ী সিংহ ফতেহ্‌সিন! ৮ বছরের অপেক্ষার পর বাবা হলেন জাহির খান, খুশির হাওয়া লখনউ শিবিরে

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *