কানাডাকে চাপে রেখে দ্বৈত আঘাত – ট্রাম্প ও চিনের কৌশলী পদক্ষেপ

কানাডাকে চাপে রেখে দ্বৈত আঘাত! বিশ্ব রাজনীতির শক্তিশালী দুই খেলোয়াড়—যুক্তরাষ্ট্র ও চিন—একসঙ্গে এবার চাপ সৃষ্টি করছে কানাডার উপর। একদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সীমান্ত চুক্তি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন, অন্যদিকে…

March 11, 2025
0 min read

কানাডাকে চাপে রেখে দ্বৈত আঘাত!

বিশ্ব রাজনীতির শক্তিশালী দুই খেলোয়াড়—যুক্তরাষ্ট্র ও চিন—একসঙ্গে এবার চাপ সৃষ্টি করছে কানাডার উপর। একদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সীমান্ত চুক্তি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন, অন্যদিকে চিন কানাডার কৃষিপণ্যের উপর ১০০% শুল্ক বসিয়ে দিয়েছে।

কানাডাকে কোণঠাসা করতে ট্রাম্পের নতুন চাল

দ্বিতীয়বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প তার আগ্রাসী নীতি বজায় রেখেছেন। ইতিমধ্যে কানাডার ওপর ২৫% শুল্ক বসিয়ে তিনি অর্থনৈতিকভাবে চাপে ফেলেছেন দেশটিকে। এবার তার লক্ষ্য শতাব্দীপ্রাচীন সীমান্ত চুক্তি। ১৯০৮ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তি অনুসারে দুই দেশ শান্তিপূর্ণভাবে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা করে আসছে। কিন্তু ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর, তাই এর পুনর্মূল্যায়ন দরকার।

ওয়াশিংটনের এই অবস্থানের ফলে অটোয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ, কানাডার প্রধান শহরগুলো—টোরন্টো, মন্ট্রিয়াল, ভ্যাঙ্কুভার, ওটাওয়া—সবকটিই মার্কিন সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত। সীমান্ত পরিবর্তন বা নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন হলে দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।

ট্রাম্পের জলচুক্তি নিয়ে আপত্তি

শুধু সীমান্ত চুক্তিই নয়, গ্রেট লেক সংলগ্ন জলচুক্তিও ট্রাম্পের নজরে এসেছে। চুক্তি অনুযায়ী, কানাডা সুপিরিয়র, হুরন, এরি ও অন্টারিও লেকের জল ব্যবহার করতে পারে। এখন ট্রাম্প প্রশাসন চাইছে এই সুবিধা বন্ধ করতে। কিছু বিশ্লেষকের মতে, এর মূল উদ্দেশ্য কানাডার অর্থনীতিতে আরও চাপ সৃষ্টি করা।

চিনের পাল্টা পদক্ষেপ – ১০০% শুল্ক!

যুক্তরাষ্ট্রের পর এবার চিনও কানাডার বিরুদ্ধে কঠোর বাণিজ্য নীতি গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি বেইজিং ঘোষণা করেছে, কানাডার রেপসিড তেল, মটরশুঁটি ও তেলের কেকের উপর ১০০% শুল্ক আরোপ করা হবে। এছাড়া শুয়োরের মাংস ও জলজ পণ্যের উপর ২৫% শুল্ক বসানো হয়েছে।

এই পদক্ষেপের ফলে কানাডার কৃষি রপ্তানি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কারণ, চিনের বাজার কানাডার কৃষিজাত পণ্যের অন্যতম প্রধান গন্তব্য। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বেইজিং মূলত অটোয়ার বৈদ্যুতিন গাড়ির শুল্ক বৃদ্ধির পাল্টা জবাব দিচ্ছে।

ট্রুডোর জন্য সংকটকাল?

কানাডার বর্তমান পরিস্থিতির জন্য প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর কূটনৈতিক নীতিকেই দায়ী করছেন অনেকে। তার শাসনামলে আমেরিকা, চিন, ভারত ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হয়েছে, যার ফলে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চাপে পড়েছে দেশটি।

কানাডার জনগণের মধ্যেও এই পরিস্থিতি নিয়ে বিভক্তি দেখা যাচ্ছে। একাংশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চায়, অন্য অংশ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপের দাবি তুলেছে।

পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ কী?

ট্রাম্প ও চিনের চাপের মুখে কানাডা এখন কোন কৌশল অবলম্বন করবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে অটোয়ার সামনে দুটি পথ খোলা—হয় ট্রাম্পের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু করা, নাহয় ইউরোপীয় শক্তিগুলোর সঙ্গে জোট বাঁধা।

বিশ্ব এখন তাকিয়ে রয়েছে, কানাডা কীভাবে এই সংকট মোকাবিলা করে!

ভারতের বদলার জয়: ২৫ বছর পর নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি রোহিতদের হাতে

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *